August 9, 2026, 7:45 am
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নাম কামরুল ইসলাম (২৭)। সবাই তাকে খারাপ ছেলে বলেই জানে। কারণ সব সময় তিনি ক্ষমতার অপব্যাবহার দেখিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করেন। আছে মাদকসেবী সন্ত্রাসী বাহিনীও। জনমনে প্রশ্ন তার খুঁটির জোর কোথায়? এতো অপরাধ করার পরেও সে পার পেয়ে যায় কিভাবে?
তিনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা । তিনি গণেশপুর গ্রামের মুরগী ব্যাবসায়ী ইয়াদ আলীর ছেলে এবং গণেশপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চায় ভুক্তভোগীরা।
স¤প্রতি গণেশপুর গ্রামে (বাশার পুকুরের অদূরে ঈদগাহ সংলগ্ন) একটি ডিব টিউবওয়েল জবরদখল করাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের মুরগী ব্যাবসায়ী ইয়াদ আলীর ছেলে নব- নির্বাচিত ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা কামরুল ইসলাম বেশ কিছু টাকা চাঁদা দাবি করেন ।
তার দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ডিব টিউবয়েলের ঘরে চাবি দিয়ে জবর দখলের চেষ্টাসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন । এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সতিহাট বাজারে কামরুল ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী গণেশপুর গ্রামের রসুন ব্যাবসায়ী জবেদ আলী (৫৫), খোরশেদ আলম (৪২),চামড়া ব্যাবসায়ী আন্তাজ আলী (৬০)এবং বেলাল হোসেন (৪৫) কে অন্যায়ভাবে মারপিট করেন । ওইদিন স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দেন । এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সাড়ে ১০টার দিকে সতিহাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ দোকান বন্ধ। ৪ জন ব্যাবসায়িকে মারধরের পর সতিহাট এলাকা অনেকটা থমথমে। লোকজনের দেখা পাওয়া গেলেও অনেকে কামরুলের ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এর মধ্যে দু-একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়,কামরুল একজন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ। এছাড়াও সে একজন মাদকসেবী ও মাদক ব্যাবসায়ী।একক আধিপত্য বিস্তারে গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী বাহিনী। যাদের কাজ হচ্ছে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, মারামারি, চাঁদাবাজি ও অন্যের সম্পত্তি দখল করা ইত্যাদি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, গণেশপুর গ্রামে বাশার পুকুরের অদূরে একটি গভীর নলক‚প দখলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সতিহাটে কামরুল ইসলাম ও তাঁর বাহিনী ৪ জন ব্যবসায়ীর উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায় । এতে গণেশপুর গ্রামের রসুন ব্যাবসায়ী জবেদ আলী (৫৫), খোরশেদ আলম (৪২),চামড়া ব্যাবসায়ী আন্তাজ আলী (৬০) এবং বেলাল হোসেন (৪৫) মারাত্মকভাবে আহত হন। এর আগে গত বছর সতিহাট মাছ বাজারের এক আরৎদার নির্মমভাবে নির্যাতনের শিকার হন এই বাহিনীর হাতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কামরুল ইসলাম আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাঁর কর্মকাÐ নীরবে সহ্য করে এলাকাবাসী। ‘সংগঠন পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় কামরুল ইসলামকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করাসহ অচিরেই তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এব্যাপারে ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে এসব মিথ্যা অভিযোগ করে হয়েছে।
মান্দা থানার পরিদর্শক শাহিনুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।#