August 8, 2026, 10:54 am
বগুড়া প্রতিনিধিঃ
পরস্পর বিরোধী ৩টি সন্ত্রাসী বাহিনীর আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিশোধের আগুনে জলছে বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের শাবরুল গ্রামের মানুষ। চাঁদা না পেয়ে পুকুর থেকে মাছ মেরে নেয়াকে কেন্দ্র করে রোববার (২৬এপ্রিল) সকাল ১০টায় জলিল বাহিনীর সন্ত্রাসী সাগর(৩০)কে ধরে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনগন। জিজ্ঞেসাবাদের জন্য পুলিশ জলিলের আরেক সহযোগী গৌরকে হেফাজতে নিয়েছেন।
সরেজমিনে জানাযায়, সম্প্রতি ওই গ্রামের বড়হিন্দুপাড়া গ্রামে বিষু দাসের কাছে চাঁদা দাবি করেন সন্ত্রাসী জলিল বাহিনীর প্রধান জলিল। চাঁদার টাকা না পেয়ে শনিবার (২৫এপ্রিল) সকালে বিষু দাসের পুকুর থেকে জাল দিয়ে মাছ মারেন জলিল ও তাঁর কয়েক সহযোগী। ওই সন্ত্রাসীরা একই দিনে ছোট হিন্দু পাড়া গ্রামে নয়ন্দ্রী দাসের পুকুর থেকেও প্রকাশ্যে মাছ মেরে নেন। এ ঘটনায় হিন্দু পাড়ায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরদিন রোববার(২৬এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সন্ত্রাসীরা শাবরুল বাজারে এলে ৫শতাধিক গ্রামবাসি তাঁদের ধাওয়া করে। এসময় জলিল বাহিনীর প্রধান জলিল পালিয়ে যায়। তবে সাগর এবং গৌর নামের তাঁর ২সহযোগীকে ধরে পিটিয়ে আহত করে গ্রামবাসী। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ২সন্ত্রাসীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েছেন।
জানতে চাইলে শাবরুল বড় হিন্দু পাড়া গ্রামের বিষু দাসের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বিজুলি সাহা আজকের পত্রিকাকে বলেন, কিছুদিন হলো আমাদের উপরে সন্ত্রাসীরা আবারো অত্যাচার করছে। জলিল বাহিনীর প্রধান জলিল সহ সহযোগীরা বিষুর কাছে চাঁদা চেয়েছিল। টাকা দিতে না পেরে বিষু পরিবার সহ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। ২৫তারিখ সকালে জলিল তাঁর সহযোগীদের নিয়ে প্রকাশ্যে বিষুর পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরে নিয়ে যায়। পুলিশ এসে সবার কাছ থেকে ঘটনা শুনে গেছে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে হিন্দু পাড়ার অনেকে আজকের পত্রিকাকে বলেন, সন্ত্রাসীদের কাছে আমরা হিন্দু পাড়ার মানুষ অসহায়। আমরা ধানের শীষে ভোট দিয়েছি তাই আমরা বিএনপির কাছে নিরাপত্তা চাই।
জানতে চাইলে শাবরুল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মোনয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, জলিল বাহিনীর প্রধান জলিল সহ তার সহযোগীরা হিন্দু পাড়ায় একাধিক হিন্দুদের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদার টাকা না পেয়ে পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। আমরা বহু বছর ধরে সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। হিন্দু পাড়ায় চাঁদার ঘটনায় পুরো শাবরুল গ্রামের মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে।
তিনি আরো বলেন, রোববার সকাল ১০টার দিকে সন্ত্রাসী জলিল তার সহযোগীদের নিয়ে শাবরুল বাজারে আসলে গ্রামের ৫শতাধিক মানুষ একত্রিত হয়ে তাঁদের ধাওয়া করে। জলিল পালিয়ে গেলেও সহযোগী সাগর এবং গৌরকে ধরে পুলিশে দেয়া হয়েছে।
মোনয়ার বলেন, জলিল বাহিনী, জালাল-ইমন বাহিনী এবং আপেল-তারেক বাহিনী সহ মোট ৩টি বাহিনী শাবরুলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে। গ্রামের অনেক ভালো মানুষ এদের হাতে জীবন দিয়েছে। সন্ত্রাসীদের কাছে বহুবছর ধরে জিম্মি গ্রামবাসি এবার সম্মিলিত ভাবে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছে। শাবরুলে আর কোন সন্ত্রাসীদের রাজত্ব করতে দেয়া হবে না।
শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, চাঁদা না পেয়ে মাছ মেরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ গিয়েছিল। হিন্দু পরিবারের কয়েকজন এখনো সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে আছে শুনেছি। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গ্রামে জনমত এবং গ্রামবাসিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। রোববার শাবরুল বাজার থেকে সন্ত্রাসী সাগরকে গ্রেপ্তার করেছি এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৌর নামের একজনকে নিয়ে এসেছি। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়া চলছে।