August 9, 2026, 11:42 am

নওগাঁয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকুরী দেয়ার নামে ৯ লক্ষ টাকা নিয়ে আত্মসাত

নওগাঁয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকুরী দেয়ার নামে ৯ লক্ষ টাকা নিয়ে আত্মসাত

নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁয় এক স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নামে তিনজন চাকুরী প্রত্যাশীর নিকট থেকে ৯ লক্ষ টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলা বর্ষাইল ইউনিয়নের বাচাড়ীগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সাদ্দাম ইবনে মোস্তফা’র এবং বক্তারপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা’র ছেলে।

জমিজমা এবং বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করে ভুক্তভোগীরা টাকা দিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আর চাকুরী নয় টাকা ফেরত নেয়ার জন্য দিনের পর দিন তার নিকট ধন্যা দিচ্ছে। টাকাতো ফেরত দিচ্ছেনা বরং তাদের সাথে দূব্যবহরা করা হচ্ছে। চাকুরী প্রত্যাশীদের চাকুরী কিংবা টাকা ফেরত কনোটিই দেয়া হচ্ছেনা। এমন কি টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করছেন অভিযুক্ত সাদ্দাম ইবনে মোস্তফা’র। এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাচাড়ীগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সাদ্দাম ইবনে মোস্তফা একটি বেসরকারী কোম্পানীতে চাকুরী দেয়ার নাম করে তিনজন ব্যক্তির নিকট থেকে ৯ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। টাকা প্রদানকারী চাকুরী প্রত্যাশীরা হলেন- জেলার মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিন লক্ষিপুর গ্রামের মৃত আলা বক্স মন্ডলের ছেলে আয়েন উদ্দিন মন্ডল, ধনজইল গ্রামের সাগর হোসেনর স্ত্রী সোহেলী আকতার এবং গনেশপুর গ্রামের বছির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান। তিনশ টাকার নন-জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে সাদ্দাম ইবনে মোস্তফা টাকা গ্রহণ করে চাকুরী দিতে ব্যর্থ হলে সমুদয় টাকা ফেরত দিবে বলেও অঙ্গিকার করেছে।

পরবর্তীতে বাধন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি বেসরকারী সংস্থার ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান দপ্তর ঢাকার মোহাম্মদপুরে মসজিদ মার্কেটের জহুরী মহল্লার প্রথম তলা ২১৫ নং রুম। কিন্তু পরবর্তীতে তারা কেউ এই নিয়োগপত্র দিয়ে চাকুরীতে নিয়োজিত হতে পারেন নি। কারণ নিয়োগপত্রগুলো ভুয়া ছিল। চাকুরী না পেয়ে তারা টাাকা ফেরত নেয়ার জন্য দিনের পর দিন ঘুরছেন। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে তাদের হয়রানী করা হচ্ছে। এমনকি নানাভাবে হুমকীও প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী আয়েন উদ্দিন মন্ডল বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাধন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস লিমিটেডের অর্থায়নের পরিচালিত সেবা (ভোলান্টিয়ার সার্ভিস) প্রকল্পের অধীনে জেলার কমিউনিটি ক্লিনিক, নওগাঁ সদর হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসে ২০১৮ সালে এপ্রিল মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৯০ জন মহিলা ও পুরুষকে ৫-১০ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগের পর কেউ কেউ ৬-৮ মাস বেতন পায়। এরপর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বৈধতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের দিকে কয়েক মাসের বেতন না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেওলিয়া হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী আয়েন উদ্দিন মন্ডল বলেন, গত আড়াই বছর বাড়ির পাশে লক্ষ্মিপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকরি দেয়ার নাম করে সাদ্দাম হোসেন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেয়। আর যে দুইজন চাকরিপ্রার্থী টাকা দিয়েছে তারাও আমার আত্মীয়স্বজন। টাকা নেয়ার পর থেকে চাকরি দিবে বলে আজকাল করে বিভিন্ন ভাবে ঘুরাতে থাকে। একদিন তার বাড়িতে গেলে আমাদের দেখে পালিয়ে যান। একটা নিয়োগপত্র দেয়া হয়েছিল সেটাও ভুয়া। আমরা চাকরি চাই না, টাকা ফেরত চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাদ্দাম ইবনে মোস্তফা বলেন, এসবের সঙ্গে আমি জড়িত না এবং নিয়োগপত্রে সিঙ্গনেচারও আমার না।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।#

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com