August 9, 2026, 9:45 am
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুরে আওয়ামীলীগের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই শুক্রবারে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মহারাজপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের সোহেল রানা গ্রুপ ও মিন্টু গ্রুপের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে দুই পক্ষই মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার মৃত মোজাহার আলীর ছেলে যুবলীগ নেতা সোহেল রানা এবং আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা মোক্তাদিরুল ইসলাম মিন্টু বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। এক পর্যায় বৃহস্পতিবার সন্ধার দিকে স্থানীয় একটি আওয়ামীলীগের অফিসে বসা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও বাড়ি ঘর ভাংচুর হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।
এঘটনায় সোহেল রানা বাদী হয়ে মিন্টু গ্রুপের ২২ জনের নামে থানায় এজাহার দিয়েছে। অপরপক্ষে মিন্টু বিশ^াসের বাবা আব্দুল লতিফ বিশ^াস বাদী হয়ে সোহেলা রানা গ্রুপের ১৮ জনের নামে থানায় এজাহার দিয়েছে।সোহেল রানা বলেন, মিন্টু বিশ্বাসের ভাই সেন্টু বিশ্বাসের নেতৃত্বে ইয়াকুব বিশ্বাস, কবির মেম্বার, জিয়াউল মুন্সি তাদের দলবল নিয়ে প্রথমে আমার এবং পরে আমার ভগ্নিপতি মিজানুর বাড়ি ভাংচুর করে আমার নগদ ৬ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এসময় আমার আত্বীয় রেজাউল ও সাইদুলের বাড়ি ঘর ভাংচুর করেছে তারা।
এবিষয়ে মুক্তাদিরুল ইসলাম মিন্টু বিশ্বাস বলেন, সোহেল রানা দলে অনুপ্রবেশকারী। সে ছাত্রশিবির থেকে দলে প্রবেশ করে জামাত-বিএনপি’র লোকজন নিয়ে আওয়ামীলীগের প্রকৃত নেতাকর্মিদের সাথে হানাহানির চেষ্টা করছে। দলের ক্ষতি করার জন্য যোগসাজশ করে দলীয় নেতাকর্মিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে সোহেল। ওই সময়ে ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাদের লোকজনকে শান্ত করেছি। বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা তারাই ঘটিয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আমাদের লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। সোহেল রানা ২০০৯ সালে ছাত্রশিবিরের নাটোর দস্তানাবাদ ইসলামিয়া আলিয়া মাদ্রসা শাখার সভাপতি ছিলেন, এবিষয়ে তার কাছে উপযুক্ত প্রমানও আছে বলে তিনি দাবি করেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোজাহারুল ইসলাম জানান, দুইপক্ষের মামলা রুজু করে দুই পক্ষের ১০ জনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।