August 9, 2026, 7:38 am
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের গাঙবড়াইল গ্রামের এক হতদরিদ্র বাসিন্দা ইব্রাহিম মিয়ার দম্পতি। একই পরিবারের প্রতিবন্ধী ৪ মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সমাজের বিত্তবানদের একটু সহানুভূতি ও সহযোগিতা পেলে হয়তো তাদের এভাবে মানবেতর জীবন কাটাতে হতো না। তাদের ভিটে বাড়ি ছাড়া তেমন কোন জায়গা জমিও নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্তানদের রাত-দিন সর্বক্ষণ আগলে রাখেন হতদরিদ্র ইব্রাহিম মিয়া দম্পতি। সকাল থেকে রাত অবধি প্রতিবন্ধী চার মেয়ের পায়খানা-প্রস্রাব, গোসল, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সবই করাতে হয় তাদের। এসব করতে করতে আর ভাবতে ভাবতে ইব্রাহিমের স্ত্রীও এখন অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন।
সহায় সম্বলহীন ইব্রাহিমের পরিবারের জীবন চলছে কঠিন দরিদ্রতায়- কোনো দিন খেয়ে, আবার কোনো দিন অনাহারে। মূলত মানুষের সাহায্যেই চলছে তাদের দিন। বড় মেয়ের বয়স ৩৫, আর ৪র্থ মেয়ের বয়স ১৮। একরকম গড়িয়ে গড়িয়েই চলাফেরা করেতে হয় তাদের।
ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আমরা মরে গেলে ওদের দেখবে কে? কার কাছে রেখে যাব? আমাদের অবর্তমানে চার সন্তানকে আগলে রাখার কাজটা কে করবে?
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই পরিবারে ৪জন প্রতিবন্ধী নিয়ে নিদারুণ কষ্টে তারা জীবন যাপন করছেন। মানবিক কারণে হলেও এই পরিবারের সদস্যদের সরকারি-বেসরকারি সাহায্য একান্ত প্রয়োজন। যদি প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এই প্রতিবন্ধীদেরকে আর্থিক সহায়তা করা হয় তাহলে হয়ত অসহায় প্রতিবন্ধীদের বেঁচে থাকাটা সহজ হবে। এজন্য মানবিক কারণে হলেও সরকার এবং সমাজের বিত্তবানদের এ অসহায় পরিবারটির দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন।
সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি কাব্য সুমী সরকার এবং সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দত্ত দিপু এই পরিবারের সন্ধান পান। তারা জানান, একটা পরিবারের বেশির ভাগই সদস্যই প্রতিবন্ধী। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক বার্তায় এই পরিবারের খবর প্রকাশ করে এদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছি।এবং তাদের কে কিছু আর্থিক সহায়তা করেন।
ইব্রাহিম মিয়ার স্ত্রী জানান স্থানিও এক ইউপি মেম্বারের সহায়তায় তাদের কে সরকারী রিলিফের কার্ড করে দেয়া হয়েছে।এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য ২০ শতাংশ খাশ জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ফুলবাড়িয়া উপজেলা টি এন ও জনাব আশ্রাফ সাজ্জাদ।
রাধাকানাই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জনাব নাজমুল হোসেন বলেন তারা অনেক দরিদ্র দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবন্ধি ৪ সন্তান নিয়ে ইব্রাহিম মিয়া মানবেতর জীবন যাপন করছে। এবং ইউপি পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা রিলিফের কার্ড করে দিয়েছি এবং সব সময় তাদের পাশেই আছি আমরা কিন্তুু তাদের একটা বাসস্থান প্রয়োজন।সে বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ দেয়া হয়েছে।অচিরেই এ কাজের বাস্তবায়ন করা হবে।