August 9, 2026, 10:56 am
পাবনা প্রতিনিধি :
পাবনা জেলার চাটমোহরে সিজারের পর অপারেশন টেবিলে সেলাই না করেই রোগীকে ফেলে পালানোর সময় সাদ্দাম হোসেন নীরব নামে এক কথিত সার্জন ও সহযোগী আসাদুজ্জামান নামে তার এক সহকারীকে গণধোলাই দিয়ে নিকটস্থ পুলিশে সোপর্দ করেছে স্হানীয় এলাকাবাসী।
গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের নারিকেলপাড়া এলাকার চাটমোহর ইসলামিক হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে মূমুর্ষ অবস্থায় তাছলিমা খাতুন নামের ওই প্রসূতিকে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত প্রসূতি উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোঁথড় গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী।
আটক কথিত সার্জন সাদ্দাম হোসেন নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা। তবে ক্লিনিকের মালিক আমির হোসেন বাবলু এ ধরনের ঘটনা দেখে পালিয়ে যায়। সোমবার বাড়িতে তাছলিমা খাতুনের প্রসব ব্যথা উঠলে সিজারের অপারেশনের জন্য স্বজনরা তাকে পৌর শহরের ‘চাটমোহর ইসলামিক হাসপাতাল’ নামে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করে।
রাত ৯টার দিকে কথিত সার্জন সাদ্দাম হোসেন নীরব, ক্লিনিকের মালিক আমির হোসেন বাবলু, আসাদুজ্জামান এবং দুজন নার্স মিলে অস্ত্রোপচার করেন এবং একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হয়। এ সময় রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে অবস্থার বেগতিক দেখে কথিত সার্জন, তার সহকারী এবং ক্লিনিক মালিক কে নিয়ে পালানোর সময় কথিত সার্জনকে আটক করতে পারলেও পালিয়ে যান ক্লিনিক মালিক আমির হোসেন বাবলু।
এদিকে অপারেশন থিয়েটারজুড়ে রক্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর রোগীর স্বজন এবং স্থানীয় এলাকাবাসীরা উত্তেজিত হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্তনে এনে শান্ত করে। পরে তাছলিমা খাতুনের অবস্থার অবনতি দেখে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রসূতিকে মৃত ঘোষণা করেন।
চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বায়েজীদ-উল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দূত ওই ক্লিনিকে গিয়েছিলাম। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে রোগীকে সেলাই না করেই সবাই পালায়। পরে শঙ্কটাপন্ন অবস্থায় প্রসূতি (তাছলিমা) কে পাবনা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ওসি সেখ নাসীর উদ্দিন জানান, সাদ্দাম হোসেন এবং তার সহকারী আসাদুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।