August 31, 2026, 10:36 am

পাবনা চাটমোহরে শুটকির চাতালে মাছের সংকট

পাবনা চাটমোহরে শুটকির চাতালে মাছের সংকট

পাবনা প্রতিনিধি :

পাবনার চাটমোহরসহ প্রতি বছর চলনবিল অঞ্চলে অসংখ্য শুঁটকির চাতাল বসতো। সেগুলো এখন আর বেশি দেখা যায়না। দিনরাত শুঁটকির চাতালে নারী -পুরুষ থেকে সকল শ্রমিক ‘ ই ব্যস্ত থাকতো মাছ বাছাই করা ও শুকানোর কাজে। বিভিন্ন বিলপাড়ে বসতো ছোট-বড় অসংখ্য শুঁটকির চাতাল।

বছরের অক্টোবর মাস থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এ চার মাস প্রতিদিন চাতাল গুলোতে মাছ শুকানো হতো। কিন্তু এবার এর রুপ রেখা ভিন্ন চিত্রে পরিনিত হয়েছে। বিলে মাছ কম থাকায় অকালে শুঁটকি চাতাল গুলো তুলে নেওয়া হচ্ছে। বিলের পানি প্রায় প্রতিনিয়ত শুকিয়ে যাচ্ছে। মাছ সংকটের কারণে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপদ সংকটে। অনেক ব্যবসায়ী ভাইয়েরা ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। শুক্রবার চাটমোহর উপজেলার অদূরে খলিশাগাড়ি বিল, আফরার বিল.ডেঙ্গার বিল, ডিকশি বিল ও হান্ডিয়ালের কাটাজোলা বিল এলাকা ঘুরে দেখা গেল, হাতে গোনা চার থেকে পাঁচটি শুটকির চাতাল বসেছে। তাও আকারে সামান্যতম ছোট। মাছ না থাকার মত না বললেই চলে।

উপজেলার খলিশাগাড়ি বিলপাড়ে ধানকুনিয়া বাজার এলাকায় শুঁটকির চাতাল দিয়েছেন আব্দুল মমিন। তিনি আমাদের জানালেন, মাছ নেই। অল্প কিছু পুঁটি মাছ পাওয়া গেলেও, দাম ও খুব চড়া। আগের মত প্রতিটি বিল থেকে দেশী প্রজাতির নানা ধরনের যেমন শৈলমাছ.টাকি, বোয়াল, টেংরা, পুটি, মোয়া ও চান্দাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করা হতো। দিনরাত চাতালে ব্যস্ত থাকতে হতো। কিন্তু এবার আর মাছ নেই।

আরেকজন শুঁটকি ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলতে আক্কাস আলী জানান, এবার আর শ্রমিক লাগছে না। যে পরিমাণ মাছ কপালে মিলছে, তা নিজেরাই শুকাচ্ছি। আগে চলনবিলের শুঁটকি সারাদেশে রপ্তানী করা হতো। কিন্তু এবার এলাকার চাহিদা মেটানোই দুরুহ হয়ে পড়েছে।

বিলপাড়ের হান্ডিয়াল, ছাইকোলা, নিমাইচড়া, চরনবীণ, চিনাভাতপুর গ্রামের মৎস্যজীবিরা জানালেন, এবার দু’দফা বিলে পানি বাড়লেও অল্পদিনেই তা শুকিয়ে গেছে। ফলে যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তার ও ব্যাপক চাহিদা মিলছে স্থানীয় বাজারে। সে কারণে কেউ আর চাতালে মাছ দিচ্ছেন না। তারা জানালেন, এবার প্রশাসন একাধিকবার সোঁতি জাল অপসারণ করেছে। ফলে পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে মাছও যমুনায় চলে গেছে। মাছ তেমন ধরা যায়নি।

মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্যরা জানালেন, চলনবিলের এ অঞ্চলে মাছের কোন অভয়াশ্রম নেই। যে কারণে দেশী মাছ সংরক্ষণ করার কোন সুযোগ নেই। বর্ষায় পানি আসলে দেশী মাছ আসে।পানি শুকিয়ে গেলে মাছ চলে যায় বা মারা হয়। চলনবিল অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে প্রায় দেশী প্রজাতির নানা ধরনের ছোট বড় সহ হরেক রকম মাছ। যার কারণে এবার শুঁটকির চাতাল গুলোতে মাছের তীব্র সংকট দেখা যাচ্ছে। যাও যত সামান্য পাওয়া যাচ্ছে, তাও খুবই কম পরিমানের। চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই হয়তো সকল চাতাল তুলে নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com