August 9, 2026, 6:39 am

মেহেদীর রং মুছতেই যৌতুকের বলি পূর্ণিমা

মেহেদীর রং মুছতেই যৌতুকের বলি পূর্ণিমা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
বিয়ের সাত মাত্র মাস। তার মধ্যেই নিভে গেলো একটি স্বপ্নময় জীবনের আলো। ছিলো না বড় কোন আয়োজন, ছিলো না কাজী, ছিলো শুধু ঈমাম। ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ঈমাম ডেকে রাষ্ট্রায় আইন অমান্য করেই বাল্য বিয়ে দেওয়া হয়েছিলো নবম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমাকে। পরিবারের চাপে অবশেষে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয় পূর্ণিমাকে।

যৌতুক হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা। নগদ প্রদান ৬০ হাজার টাকা। বাকী ৫০ হাজার টাকা মেয়ের পরিবারের সুযোগ সুবিধা মতো প্রদান করার কথা থাকলেও শশুড় বাড়ীর লোকজন বকেয়া টাকার জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করছিলো পূর্ণিমা কে। এক পর্যায় যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন শুরু হয় পূর্ণিমার উপর। নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে পূর্ণিমা।

২৭ অক্টোবর রোববার সন্ধায় শশুড় বাড়ির লোকজন পূর্ণিমা কে গুরুদাসপুর উপজেলা স্ব্যাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পূর্ণিমা কে মৃত ঘোষনা করে। পরে পূর্ণিমার লাশ রেখেই পালিয়ে যায় শশুড় বাড়ির লোকজন। পরে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে নাটোর মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। নিহত পূর্ণিমা শ্রীপুর গ্রামের মোঃ পলান কাজীর প্রথম কন্যা। পাশের খুবজীপুর গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে মোঃ সাগর হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিলো পূর্ণিমা কে।

নিহত পূর্ণিমার বাবা পলান কাজী বলেন, হত দরিদ্র হওয়ায় তারাহোরা করে মেয়েকে বাল্য বিবাহ দিয়েছিলেন। খুবজীপুর গ্রামের লিয়াকত হোসেনের ছেলে সাগরের সাথে ৭ মাস আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। যৌতুক বাবদ ১ লক্ষ টাকা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ হলে নগদ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন মেয়ের শশুড়ের কাছে। বিয়ের সাত মাস অতিবাহিত হলে যৌতুকের বকেয়া টাকার জন্য পূর্ণিমা কে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতে থাকে শশুড় বাড়ির লোকজন। এক পর্যায় গত রোববার সন্ধায় মেয়ে পূর্ণিমা কে জোড় পূর্বক বিষ পান করে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে সোমবার রাতে নিহত পূর্ণিমার বাবা বাদি হয়ে শশুড় বাড়ির ৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পূর্ণিমার স্বামী ও তার শশুড় বাড়ির লোকজন পালাতক থাকার কারনে কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মোজাহারুল ইসলাম জানান, রোববার রাতে হাসপাতাল থেকে খবর পাওয়ার পর পরই মরদেহটি উদ্ধার করে নাটোর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছিলো। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। তবে সোমবার রাতে নিহত পূর্ণিমার বাবা পলান কাজী বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দিয়েছেন।#

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com