August 9, 2026, 9:33 am

শহীদ সাত্তার রেকায়েত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি রক্ষার দাবি

শহীদ সাত্তার রেকায়েত প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি রক্ষার দাবি

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
আদালতের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এনজিও মনোনীত সদস্যপদ বাতিল হয়েছে। তবু প্রভাবখাটিয়ে বিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ করা হয়েছে খুবজীপুর এমহক ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ আবু সাঈদের বিরুদ্ধে। তার এই আধিপত্য বিস্তারের ফলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে আশঙ্কাজনক হারে। শিক্ষকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে অসস্তোষ।

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের শহীদ সাত্তার রেকায়েত প্রতিবন্ধী একীভূত এই বিদ্যালয়টি আবু সাঈদের কবল থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য এসএম নজরুল ইসলাম। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে শহীদ মোবারক সড়কে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সেনা সদস্য এসএম নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন- আবু সাঈদ বিদ্যালয়ে একক আধিপত্য বিস্তারের ফলে লেখাপড়া ব্যহত হচ্ছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির এমপিও প্রাপ্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টির ৪৪ শিক্ষক-কর্মচারীর ভাগ্য ঝুলে রয়েছে। তারা আবু সাঈদের কবল থেকে বিদ্যালয়টির মুক্তের দাবি জানান।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন তিনি বলেন- বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে- ২০১৭ সালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে এনজিও মোননীত সদস্য রাখা হয় খুবজীপুর এমহক ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ আবু সাঈদকে। তিনি সদস্য হওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম অঘোষিতভাবে তার ওপর বিদ্যালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর তার সাথে নজরুলের দুরুত্ব তৈরি হয়। একারণে কৌশলে আবু সাঈদ কিছু শিক্ষককে প্রলোভন দেখিয়ে তার পক্ষে রেখে প্রতিষ্ঠাতার জামাতা প্রধান শিক্ষক আলী হাসান ও মেয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান- দুজোনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এলে সুযোগ বুঝে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে না জানিয়ে আবু সাঈদ তার এক আত্মীয়কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেন। তাছাড়া সভাপতির স্বাক্ষরবিহীন তালিকা প্রেরণ, ব্যাংক হিসাব ও সাইন বোর্ড পরিবর্তনের ফলে শিক্ষকদের মধ্যেও অসস্তোষ শুরু হয়। একারণে বিদ্যালয়ে নিয়োমিত ক্লাস হয়না। এতে করে এমপিও প্রাপ্তি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে-প্রতিবন্ধী শিশুদের কথা বিবেচনা করে পৌর সদরের প্রফেসর পাড়ায় ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য এসএম নজরুল ইসলাম বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়া তার দুই ভাই সাত্তার, রেকায়েতের নামে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় বিধি মোতাবেক ৪৪জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করা হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু হানিক বলেন-তিনি নিয়োগের মাধ্যমেই দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য আবু সাঈদ অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন-বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা হচ্ছে। এসময় বিদ্যালয়ের বঞ্চিত শিক্ষকরা বক্তৃতা করেন।# 

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com