August 9, 2026, 11:42 am
আতাউর শাহ্, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর রাণীনগরে দলিল লেখকের মাধ্যমে সাব-রেজিষ্ট্রার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে উঠেছে। এ সময় সাব-রেজিষ্ট্রারের অপসারণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এ সময় সাব-রেজিষ্ট্রার সাংবাদিককের সাথে কোন কথা না বলে ঘটনাস্থল রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে দ্রুত মাহবুবুর রহমান থেকে পালিয়ে যান। সোমবার দুপূরে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন লাইসেন্স পাওয়া প্রায় ২০ জন দলিল লেখকের উদ্যোগে এই কর্মসূচী পালন করা হয়। তাদের দলিল রেজিষ্ট্রি করতে দেওয়ার জন্যে প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তোভোগীরা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে হাসান আলী, এরশাদ, ইলিয়াস, সুকুমল কুমার, রাব্বীসহ অন্যরা বলেন, সরকারি নিয়মে আমার জনগনকে সেবা দিতে চাই। কিন্তু রাণীনগরে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে প্রায় ১শ’ জন দলিল লেখকের সমিতি গঠন করা হয়। এই সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক হারুনের নেতৃত্বে রেজিষ্ট্রি অফিস জিম্বি করে রেখেছেন।
জমি ক্রয়-বিক্রেতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা অবৈধ্য ভাবে সরকারি নিয়মের চেয়ে বেশি হাতিয়ে নেন। তার কয়েক বছরে তাদের নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিঘারপর বিঘা জমি কিনেছিন। আবার বিভিন্ন ব্যাংকে লাখ লাখ টাকা জমা করেছেন। এই অবৈধ্য টাকার ভাগবাটোয়ার একটি মোটা অংশ টাকা ঘুষ সাব-রেজিষ্ট্রার মাহবুবুর রহমানের পকেটে। আর এই বেশি টাকা নতুন লাইসেন্সে দলিল লেখকদের ভাগবোটোয়া না দিতে তৎপর থাকেন।
গত ৭ বছর আগে প্রায় ২০ জন দলিল লেখক নতুন লাইসেন্স করেন। এরপর তারা সমিতিতে সদস্য হতে গেলেও সমিতির নেতৃবৃন্দ নিতে অস্বীকার করে। এরপর থেকে নতুন লাইসেন্স পাওয়া প্রায় ২০ জন দলিল লেখক পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষাগত ভুয়া সনদপত্র দিয়ে লাইসেন্সে করলেও পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়। পরে অনেকেই এসএসসি পাশ করে শিক্ষাগত সদনপত্র দিয়ে নতুন লাইসেন্স করলেও সমিতিতে সদস্য করে নেওয়া হয়নি।
এরপর নতুনরা সমিতি গঠন করে জমির দলিল লেখা শুরু করেন। সোমবার দুপূরে নতুন দলিল লেখকরা সাব-রেজিষ্ট্রার মাহবুবুর রহমানের জমি রেজিষ্ট্রি করার জন্যে গেলে এ সময় সভাপতি হাফিজুর রহমান বাচ্চু এবং সাধারণ সম্পাদক হারুনের নেতৃত্বে তার সমিতি লোকজন রেজিষ্ট্রারের রুমে গিয়ে নতুনদের সাথে বাগবিতান্ড শুরু করে। এ সময় নতুন লেখকদের রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে থেকে বের করে দেওয়াসহ চাঁদাবাজির মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বক্তরা আরো বলেন, এ সময় সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখকের সমিতির তাদের বাপদাদার সম্পত্তি মনে করেন। যার কারণে তাদের দলিল রেজিষ্ট্রি করতে দেওয়া হয় না। তাদের ইশারায় সাব-রেজিষ্ট্রার মাহবুবুর রহমান দ্রুত তার একলাছ থেকে পালিয়ে যান। বিভিন্ন এই সমিতির লোকজন ক্রয়-বিক্রেতার কাছে থেকে সরকারি নিয়ম বর্হিভূত অবৈধ্য ভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদ করলেও অবৈধ্য টাকার ভাগবাটোয়া পাওয়ায় সাব-রেজিষ্ট্রার মাহবুবুর রহমান কোন ব্যবস্থা নেন না। দ্রুত সাব-রেজিষ্ট্রার মাহবুবুর রহমান, সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক হারুনের বিরুদ্ধে অবৈধ্য সম্পদ অর্জনের তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
রাণীনগর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান বাচ্চু ও সাধারন সম্পাদক হারুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। যার কারণে তারা জমি রেজিষ্ট্রি করতে পারবেন না।
এ ব্যাপারে রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রার মাহবুবুল আলম বাকবিতান্ডার সময় ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যাওয়া তার সাথে কোন কথা বলা সম্ভব হয়নি।#