August 9, 2026, 10:32 am
অনলাইন ডেস্ক: ইরান ঘোষণা করেছে যে তারা আর ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির দ্বারা আরোপিত বিধিনিষেধ মানবেনা।এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে পরমাণু উপকরণ সমৃদ্ধকরণ, মজুদ, গবেষণা ও উন্নয়নের কাজে আর কোনো সীমাবদ্ধতা তারা রাখবেনা।খবর বিবিসির।
তেহরানে দেশটির মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেয় ইরান। যুক্তরাষ্ট্র বাগদাদে ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ক্ষেপনাস্ত্র ছুড়ে হত্যা করার পর ওই অঞ্চলে এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এলাকা লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, যে অন্তত চারটি রকেট দূতাবাস লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে। যদিও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

পরমাণু চুক্তির বিষয়ে ইরানের সর্বশেষ অবস্থান: ২০১৫ সালের চুক্তির আলোকে ইরান স্পর্শকাতর পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয়েছিলো এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছিলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে এ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান এবং বলেন যে তিনি পরমাণু কর্মসূচি কমিয়ে আনা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত করতে ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে বাধ্য করবেন।

ইরান তার এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এবং ধীরে ধীরে পরমাণু চুক্তি বিষয়ে দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে থাকে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রোববারই ঘোষণা দেয় যে তারা ২০১৫ সালের চুক্তির আলোকে পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার প্রতি আর কোনো শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেনা।
“ইরান তার পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই,” বিবৃতিতে বলা হয়। তবে বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়নি যে তারা চুক্তি থেকে নিজেদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিলো কি-না।
কারণ এই বিবৃতিতেই বলা হয়েছে যে তারা জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থাকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। ইরান বলছে তারা চুক্তির সুফল পেলেই কেবল আবার প্রতিশ্রুতি পালনের দিকে ফিরে যেতে প্রস্তুত।
সংবাদদাতারা বলছেন এখন সুফল বলতে আসলে তেল বিক্রির সুযোগ, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার বিনিময়ে পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে একমত হয়েছিলো দেশটি।
এর ফলে দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আসে। ২০১৫ সালের আগে ইরানের এ ধরণের ইউরেনিয়ামের ভালো মজুদ ছিলো, যা দিয়ে অন্তত আট থেকে দশটি বোমা বানানো যেতো বলে দাবি করেছিলো হোয়াইট হাউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ইউরেনিয়াম থাকলে পরমাণু বোমা বানাতে ইরানের দু থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।