August 9, 2026, 8:44 am
ডিএন২৪ ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে চার্জশিট প্রস্তুত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে সাক্ষী হিসেবে প্রায় ৩০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ডিএমপি কমিশনারকে অবহিত করে দুয়েক দিনের মধ্যেই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। গতকাল ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। চার্জশিটে যাঁদের নাম আসছে তাঁরা বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
ইতিমধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ জোনাল টিম, গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান মামলার তদন্ত শেষ করেছেন। তিনি তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছেন। ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (মহানগর পিপি) মো. আবদুল্লাহ আবুর সঙ্গেও পরামর্শ করেছেন।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার প্রধান তদারকি কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, সম্ভাব্য ২৪ জনকে আসামি করে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে আদালতে দাখিল করা হবে। তিনি বলেন, ফাহাদ হত্যা মামলায় সাক্ষী হিসেবে অনেকে ব্যক্তিকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ ও তাদের নিজ নিজ ভূমিকার বিস্তারিত বিবরণ নেওয়া হয়েছে। মামলার বিচারকাজে প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় যাদের সাক্ষ্য কার্যকর বলে মনে হয়েছে তাদেরই সাক্ষী করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাক্ষীর সংখ্যা প্রায় ৩০ জন।
মহানগর পিপি আবদুল্লাহ আবু বলেন, আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট চূড়ান্ত হয়েছে। শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইতিমধ্যে আলাপ-আলোচনা সেরে ফেলেছেন। মামলার আসামিদের ভূমিকা, তদন্তের সার্বিক বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান।
জানা গেছে, ফাহাদ হত্যা মামলার আসামি হিসেবে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৬ আসামি ও এজাহারবহির্ভূত ৫ আসামি রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই ডিবির হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ের কথা স্বীকার করেছেন। কার কী ভূমিকা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। এদের মধ্যে আট আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা উঠে এসেছে। বেশ কয়েকজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পরপরই আবরার হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা শুরু হয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। এরপর আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়।