August 9, 2026, 8:44 am
বিখ্যাত আহমদী ব্যক্তিত্ব প্রফেসর আব্দুস সালাম স্যার এবং স্যার চৌধুরী মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ সাহেবের নাম আপনারা হয়ত শুনেছেন। এছাড়া বিরাট বিরাট বিজ্ঞানী যেমন নিউটন, আইনস্টাইন, তাদের মত নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানীদেরকেও আপনারা ভালোভাবে জানেন। এসকল মহাজ্ঞানী বিজ্ঞানী ব্যক্তিদের ন্যায় আমরা নিজেদের তৈরি করা অনেকটা অসম্ভব মনে করি। আমরা ভাবি, এরা তো ধরা ছোঁয়ার বাইরে, এত বড় মানুষ হওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না।
এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, এমনটি ভাবা আমাদের মস্ত ভুল। আমরা চেষ্টা না করায় নিজেদেরকে স্বেচ্ছায় সাফল্যের দিকে অগ্রসর করতে পারি না। মহান আল্লাহ্ মানুষকে এমন একটি জিনিস দিয়েছেন, যা অন্য প্রাণীকে দেয়া হয় নাই আর তা হল বিশেষ চিন্তাশক্তির মাধ্যমে উন্নতি সাধন করা। বিজ্ঞানীদের মতে দৈনন্দিন জীবনে আমরা যার মাত্র পাঁচ শতাংশ ব্যবহার করি। যদি প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকে তাহলে ব্রেনের কার্যক্ষমতা এর তুলনায় অনেক গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। কিন্তু প্রতিটি মানুষ ধণী-গরীব বা শিক্ষিত-মূর্খ সবাই এই পাঁচ শতাংশের অধিক ব্যবহার করে নিজেকে মহাজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
অনেকে আবার দারিদ্রতার কারনে নিজেদেরকে গুটিয়ে ফেলেন। যদি আপনি খুবই গরীব পরিবারে জন্ম নেন, আপনার বাবার হাতে এক ফোঁটাও অর্থ বা স্মবল না থাকে, আপনি এই অবস্থা হতে একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী, মহাকাশচারী বা আরও বড় কেউ হতে পারেন অনায়াসে। এর জন্য আপনার দরকার মাত্র ৪টা জিনিস। প্রথমত: বড় হওয়ার প্রচÐ আগ্রহ। দ্বিতীয়ত: কঠোর পরিশ্রম। তৃতীয়ত: অতীত ভুলে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া আর চতুর্থত: পরচর্চা বা সমালোচনা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা, সবার সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপন ও খোদার ওপর অগাধ আস্থা রাখা। যার ওপর অটল থাকতে হবে।
এখন আসুন, আমরা কীভাবে সফলতা লাভ করতে পারি, সে বিষয়ে আলোচনা করি, আপনাকে সর্বদা একটি লক্ষ্য স্থির করে সামনে এগুতে হবে। অর্থাৎ টার্গেট নিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যান, কোথা থেকে কীভাবে যে আপনার জন্য সাহায্য নিজেই এসে হাজির হবে তা আপনি বুঝতেই পারবেন না। যেন এক উন্নতির ¯্রােতের আপনি পড়ে গেছেন আর সেই ¯্রােতই আপনাকে সাফল্যের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে কিছু কিছু সিদ্ধান্ত আপনার নিজেকেই নিতে হবে অর্থাৎ নিজের একটা লক্ষ্য স্থির করতে হবে যে, আপনি জীবনে কি হতে চান। প্রফেসর সালাম, নাকি জাতিসংঘের মহাসচীব, নাকি বাংলাদেশের গাগারিন (মহাকাশচারী), নাকি অলিম্পিকে প্রথম স্বর্ণজয়ী ব্যক্তি।
লক্ষ্য স্থির করার পর টার্গেট করুন, কোন দেশ ও কোন বিদেশি ভাষা আপনার ভাল লাগে। ছুটির মধ্যে বা অবসর সময়গুলোতে সরকারি ক্লাসে বা দূরবীক্ষণের মাধ্যমে সর্বনি¤œ দু’টি বিদেশি ভাষা নিজের মাতৃভাষার মত শিখে নিতে পারেন। এইচ.এস.সি পরীক্ষা শেষে আপনার পছন্দীয় একটি বিদেশি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে যান। অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে ভাষা শিক্ষার উচ্চতর ধাপগুলো পরিপূর্ণভাবে শেষ করুন ঐ দেশের কৃষ্টি কালচার, ইতিহাস, সমাজ-ব্যবস্থা, বরেণ্য ব্যক্তিগণের কাজ, ভৌগলিক অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করুন, সেই দেশে পড়াশুনা করতে কি কি ধরণের স্কলারশীপ নেওয়া যায়Ñ সেই তথ্যগুলো ভাষা শিক্ষার সময়ই জেনে নিন ও নিজের পছন্দের বিশ^বিদ্যালয় ও নিজের পছন্দের বিষয়টি (পদার্থ, বায়োলজি, রসায়ন, বিজ্ঞান, ইনফর্মেশন টেকনোলজি, ল, চিকিৎসা বিজ্ঞান, অর্থনীতি, অ্যারোনটিক্যাল এÐ স্পেস ইত্যাদি) বেছে নিন ও স্কলারশীপ লাভের যোগ্য হওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করতে থাকুন।
বলা বাহুল, অবশ্যই সকল ক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধারণের অভ্যাস থাকতে হবে। আপনার অতীব আগ্রহ থাকলে তারাই আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে। স্কলারশীপ পেয়ে গেলে পরিবার বা আত্মীয়স্বজন বা যেকোন সংস্থা থেকে অর্থ ঋণ নিয়ে হলেও বিমান ভাড়ার ব্যবস্থা করে সেই দেশে চলে যান। এরপর দিনরাত্রি পরিশ্রম করতে থাকুন। একসময় দেখবেন, সাফল্য আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসবে।
আরো একটি কথা মনে রাখবেন। বিদেশে পড়াশুনার সময় বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন মানুষের মাধ্যমে আপনাকে নিজের দিকে টানতে চাইবে, আপনার নির্ধারিত লক্ষ্য হতে বিচ্যুত করতে চাইবে, কিন্তু আপনার একটাই জিনিস মনে রাখতে হবে, তা হল, আপনাকে আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যের শেষ পর্যন্ত পৌঁছতে হবে। পথে যত বাধা-বিপত্তিই আসুক না কেন, আপনাকে তা অতিক্রম করতে হবে।
আরেকটি বিষয় হল, মাঝ পথে ভাটা দেয়া। হয়ত কারো কারো ক্ষেত্রে পথিমধ্যে ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আর্থিক সমস্যা হতে পারে। কিন্তু সাথে সাথেই আপনি নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে সমস্যাটির সমাধান করে আবার অগ্রসর হতে থাকবেন, এক্ষেত্রে পড়াশুনার ফাঁকে অন্য কাজের মাধ্যমে অর্থের যোগান তৈরি করতে হবে।
বলা বাহুল্য, যে কোন মুহূর্তে আপনাকে লক্ষ্যের যেকোন ধাপে অর্থ নিজেই আপনাকে সম্মোহণ করতে পারে, নিজের দিকে টানতে পারে কিন্তু আপনার কাজ হবে এটাকে অগ্রাহ্য করা। মনে রাখবেন, যে টার্গেট পরিপূর্ণ হলে আপনি এমনিতেই ভাল অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। অনেকেই আছে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতদের নিজের অর্থ দেখাতে ভালোবাসেন। সেটি করতে গেলে আপনি কখনই বিখ্যাত ব্যক্তি হতে পারবেন না।
আশা করি সকল ছাত্র-ছাত্রীগণ জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিকভাবে সাফল্যের দিকে অগ্রসর হয়ে একজন যোগ্য জ্ঞানী, ধনী, মানী বাঙালী হয়ে বেড়ে উঠবেন এবং দেশ, জাতি ও বিশে^র সেবা করে যাবেন।