August 9, 2026, 9:43 am
ডিএন২৪ ডেস্ক
সিরিয়ার পার্লামেন্ট আগামী ২৬ মে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানায় প্রকাশিত খবরে এই তথ্য জানানো হয়।
খবরে বলা হয়, সোমবার থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
খবরে আরো বলা হয়, নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা করবেন, তারা ২৮ এপ্রিলের মধ্যে তাদের প্রার্থিতার জন্য দেশটির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতে আবেদন করবেন।
সিরিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার হামুদা সাব্বাগ এক বিবৃতিতে জানান, দেশের বাইরে থাকা সিরীয় নাগরিকরা ২০ মে বিদেশে সিরিয়ার দূতাবাসগুলোতে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন।
২০০০ সালে সিরিয়ার সাবেক একনায়ক হাফেজ আল-আসাদের মৃত্যুর পর তার ছেলে বাশার আল-আসাদ দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে তিনি এই নির্বাচনে আবার অংশ নিচ্ছেন কি না তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি।
সিরিয়ায় চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে এই নির্বাচনের ঘোষণা এলো। দেশটি প্রায় ৪০ ভাগ ভূখণ্ড সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা, অর্ধেকের বেশি নাগরিকের বাস্তুচ্যুতি এবং ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার বিরোধীদের মধ্যে সমঝোতার ব্যর্থতার মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থীকে অন্তত ১০ বছর একাধারে সিরিয়ায় থাকার বিধান দিয়েছে পার্লামেন্ট। এছাড়া বাশার আল-আসাদের বাথ পার্টি নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টের অন্তত ৩৫ সদস্যের অনুমোদন নিতে হবে। এর ফলে নির্বাচনে আসাদবিরোধীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিশ্চয়তা থাকছে না।
২০১১ সালের মার্চে আরব বসন্তের পরিপ্রেক্ষিতে সিরিয়ার একনায়ক বাশার আল আসাদের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির বিভিন্ন শহরে রাস্তায় বিক্ষোভে নামে সাধারণ জনতা। বাশার আল-আসাদ সামরিক উপায়ে এই বিক্ষোভ দমন করতে চাইলে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ে দেশটি।
দশ বছর চলমান এই গৃহযুদ্ধে দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকই বাস্তুচ্যুত হয়। জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসারে এক কোটির বেশি লোক যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়।
অপরদিকে ১০ বছরের যুদ্ধে সিরিয়ায় অন্তত ছয় লাখ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি ও আলজাজিরা