August 9, 2026, 10:30 am
ওমর শেখ, নিজস্ব প্রতিনিধি
রাজধানীসহ সারাদেশে ভুয়া সাংবাদিকের ছড়াছড়ি গাড়িতে প্রেস লিখে করছে চাঁদাবাজি। তারা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করে৷ এতে বিপাকে পড়ছেন পেশাদার সাংবাদিকরা৷
পুলিশ জানিয়েছে, ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানের নেয়া হবে৷ রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া সাংবাদিকদের পুলিশ মাঝে মধ্যেই গ্রেফতার করে৷ তাদের কাছ থেকে টেলিভিশন চ্যানেল এবং পত্রিকার জাল পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়৷ এছাড়া, তাদের মোটরবাইকেও লাগানো থাকে টেলিভিশন চ্যানেলের স্টিকার৷
এইসব ভুয়া সাংবাদিকদের ঠাটবাট এমন যে তাদের সাধারণ মানুষ সহজে ধরতে পারেন না৷ এমনকি পেশাদার সাংবাদিকরাও তাদের দেখে মাঝেমধ্যে বিভ্রান্ত হন৷ তারা অনেকেই দামি গাড়িতে চলা-ফেরা করে৷ আর ক্যামেরায় জাল স্টিকার লাগিয়ে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে৷
কয়েকজন পেশাদার সাংবাদিক জানান, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও জাতীয় ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি, ক্রাইম সংস্থা, ক্রাইম রিপোর্টার ইউনিট ইত্যাদি সংগঠনের আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অলি গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসলে দেশে এই ধরনের সংগঠন কোনোভাবেই প্রেসকার্ড দিতে পারে না। শুধু টাকা আয় করার জন্য বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তারা অবৈধ ব্যবসা শুরু করেছে। এব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এব্যাপারে শুধু পুলিশকে উদ্যোগ নিলেই হবে না, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিক ইউনিয়নকে ভুয়া সাংবাদিক চিহ্নিত করতে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ নয়তো সাংবাদিকদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে আর পেশাদার সাংবাদিকরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়বেন৷ ডিডব্লিউ এই খবর দিয়েছে।
এদিকে নতুন বার্তার প্রতিবেদক জানান, বিভিন্ন স্থানে ভুয়া সাংবাদিকের ছড়াছড়ি। এদের মধ্যে ট্রাক ড্র্ইাভার, নরসুন্দর, দারোয়ান, পানবিক্রেতা, জুতা বিক্রেতা, ইয়াবা ব্যবসায়ী, মাছ বিক্রেতাও রয়েছে। সব জায়গায় এদের দৌরাত্ম ব্যাপক।
রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণমাধ্যমের কর্মী পরিচয় দিয়ে ভয়াবহ প্রতারণা চলছে। তারা পত্রিকায় খবর ছাপানোর ভয় দেখিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা-পয়সা। অনেকে থানায় দালাল হিসেবে আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে মধ্যস্থতা করে থাকে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনসের ডিসি মাসুদুর রহমান জানান, অনেকে সাংবাদিক না হয়েও যানবাহনে প্রেস স্টিকার ব্যবহার করছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নানা অপরাধে জড়াচ্ছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত চাঁদাবাজি করছে সাংবাদিক নামধারী এই চক্র। নানা অপকর্ম করতে এসব ভুয়া সাংবাদিক নানা নামে সংগঠনও গড়ে তুলেছে।
ভুয়া ও অখ্যাত পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে অনেকে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। বিভিন্ন সময় মাদকসহ ভুয়া সাংবাদিকদের আটক করা হয়েছে। এতে মূল ধারার সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুণ হচ্ছে। সাংবাদিক পরিচয়ধারী এসব প্রতারকের নানা অপতৎপরতায় থানা পুলিশও অতিষ্ঠ। থানায় অপরাধীদের হয়ে নানা তদবির করাই তাদের কাজ। এ ছাড়া এরা গলায় সাংবাদিক পরিচয়পত্র আর গাড়িতে প্রেস লেখা স্টিকার লাগিয়ে মাদক পাচার এমনকি রাজনৈতিক সহিংসতার সময় ককটেল ও বোমাও বহন করছে।
সাংবাদিক পরিচয়ধারী এসব প্রতারক চক্র শুধু নামসর্বস্ব পত্রিকার আইডি কার্ড বহনই নয়, বিভিন্ন ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মূল ধারার বড় পত্রিকার সাংবাদিকও পরিচয় দেয়। তা ছাড়া ভূইফোঁড় পত্রিকা অফিসগুলো সাংবাদিক পরিচয়পত্রও বিক্রি করে থাকে। এসব পরিচয়পত্র পকেটে রেখে বিভিন্ন প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইলের সামনে সাংবাদিক বা প্রেস লেখা স্টিকার লাগিয়ে ঘোরে একশ্রেণীর লোকজন।
রাজধানীর মিরপুরেও ভুয়া সাংবাদিকদের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা গেছে। কথিত সাংবাদিক পরিচয় দেয়া এসব ব্যক্তির হাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তারা শুধু নামসর্বস্ব পত্রিকা বা অনলাইনের আইডি কার্ড বহনই করেন না বরং মূল ধারার জাতীয় দৈনিক কিংবা টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়েও মানুষকে জিম্মি করছেন। বেশ কিছু ভুয়া ও অখ্যাত পত্রিকা এবং অনলাইনের সাংবাদিক পরিচয়ে অনেকে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।