August 9, 2026, 8:38 am

বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশি

বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশি

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও বাজারে আবারো দাম উর্ধ্বমুখী। ভারত থেকে প্রতিদিন পেঁয়াজ আমদানি হলেও মূল্য বাড়ছেই।

কাস্টমস সূত্রে, গত ১ সেপ্টেম্বার থেকে আজ পর্যন্ত ভারত থেকে মোট ছয় শ’ ৫০ মে: টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। ভারত থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ মে: টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয় এ বন্দর দিয়ে। পেঁয়াজের আমদানিকারকরা হলো সোনালী ট্রেড লিমিটেড, হামিদ এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আল্লাহর দান ফ্রুটস লিমিটেড। প্রতি টন আমদানি কৃত পেঁয়াজের শুল্কায়ন মূল্য ৩০০ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে আমদানিকারকদের প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা পড়ে ২৫ টাকা। বাংলাদেশী আমদানিকারকরা ভারতের নাসিক শহর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে থাকেন। গত ১৩ দিনে ছয় শ’ ৫০ টন পেঁয়াজ আমদানি হলেও বাজার ঘুরে দেখা গেছে দাম অনেক বেশি। আড়তে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা। খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা ও ৬৫ টাকা।

পেঁয়াজ আমদানিকারক এম এস আলম বলেন, আমরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার পর সীমিত লাভে সেগুলো বিক্রি করে থাকি। প্রতিটি বাজারে আড়তদারদের মধ্যে একটা সিন্ডিকেট কাজ করে। এরাই মূলত বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়। বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ থাকলেও এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাজারে পেঁয়াজ সঙ্কট দেখিয়ে মূল্য উর্ধ্বগতি করে রাখে। এছাড়াও আরো একটি চক্র আছে বাজার অস্থিতিশীল করার জন্য কাজ করে থাকে। এরা বাজার সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে।

বেনাপোল ও শার্শা বাজারের আড়তদাররা জানান, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি অনেক কম। বেনাপোল ও সাতক্ষীরা বন্দর দিয়ে যে পেঁয়াজগুলো আমদানি হয়ে থাকে, সেগুলো সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলে যায়। এসব পেঁয়াজ আমাদের ঢাকা থেকেই কিনে আনতে হয়। খরচ পড়ে অনেক বেশি। যেদিন যেভাবে পেঁয়াজ কিনা হয়, তার চেয়ে এক টাকা বা দুই টাকা লাভে আমরা বিক্রি করে থাকি। বর্তমানে আমরা ভারতীয় পেঁয়াজ ৪২ টাকা প্রতি কেজি এবং দেশীয় পেঁয়াজ ৫৫ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি করছি। আমদানি করা পেয়াজগুলো আমদানিকারকরা যদি সরাসরি বেনাপোল বাজারে বিক্রি করতো তাহলে পেঁয়াজের দাম এসব বাজারে আরো কম থাকতো।

বিভিন্ন বাজারের ক্রেতারা বলেন, কয়েকদিন আগেও বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। হঠাৎ করে বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এক লাফে ভারতীয় পেঁয়াজ ২০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা এবং দেশীয় পেঁয়াজ ২৫ টাকা থেকে খুচরা বাজারের ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মত মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য পেঁয়াজ কিনে খাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

তারা আরো বলছেন, বাজারে প্রশাসনের কোনো মনিটরিং না থাকার কারণেই হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার মনিটরিং থাকলে পেঁয়াজের দাম এভাবে হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেতো না।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী মেজিস্ট্রেট রাসনা শারমিন মিথি বলেন, বাজারে যাতে পেঁয়াজের দাম কেউ সিন্ডিকেট করে বৃদ্ধি করতে না পারে তার জন্য শার্শা, নাভারন বাগআচড়া ও বেনাপোল বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে নিয়মিত। কেউ সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাজারে বৃদ্ধি করলে তাকে জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ১৩ দিনে এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৬৫০ মেট্রিক টন পেয়াজ আমদানি হয়েছে। বেনাপোল বন্দরে পিঁয়াজের গাড়ি প্রবেশ করার সাথে সাথে সেটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। খুব কম সময়ে পরীক্ষণ ও শুল্কায়নের কাজ সম্পন্ন করে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com