August 9, 2026, 11:42 am
ডিএন২৪ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত রাজাকারের তালিকা প্রকাশের সমালোচনা করে বলেছেন, যাচাই না করে বিতর্ক সৃষ্টিকারী এমন তালিকা প্রকাশ কেন? নিজের ফেসবুক পেইজে এই প্রশ্ন তুলেন তিনি।
ড. আসিফ নজরুল আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করার সময় বোঝা গিয়েছিল কি দুর্নীতি আর অনাচার করা হয় তালিকা নিয়ে।এ সরকারের আমলে রাজাকার তালিকা নিয়ে এরকম হওয়াটা তাই স্বাভাবিক।বিতর্কিত এই তালিকা সম্পর্কে তিনি লন্ডন প্রবাসী আবদুল গাফফার চৌধুরীর মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, রাজনৈতিক হয়রানি, প্রতিশোধ, সম্পদ দখলের মতো বিষয় থাকার সম্ভাবনা আছে বলে এখানে কারচুপি হতে পারে আরও বেশি।
তিনি বলেন, লন্ডন প্রবাসী আবদুল গাফফার চৌধুরী আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের অতি ঘনিষ্ঠজন। রোববার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় এখনও অনেক ‘রাজাকার’ দাপটে রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন “তাদের নাম বলে লাভ নেই। এমনকি আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনার আশেপাশেও আছে। গণভবন অরক্ষিত করছে। এবং তাদের নাম বললে আমার আর ঢাকায় আসা হবে না। তাদের নাম বলতে চাই না।এই হচ্ছে অবস্থা।”
রাজাকার তালিকা ঠিকভাবে করা হলে ভালো একটা কাজ হতো। কিন্তু এটা কেমনভাবে করা হচ্ছে তা জনাব চৌধুরীর কথা থেকে কিছুটা হলেও আঁচ করা যায়। তালিকায় ফরিদপুর বা অন্য কোথাকার অমুক অমুক কুখ্যাত রাজাকারের নাম নেই কেন সেটারও আন্দাজ পাওয়া যায় তার কথা থেকে।
তিনি তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত এই তালিকা প্রকাশের সমালোচনা করে বলেন, আর তড়িঘড়ি করে তালিকা প্রকাশের সময়টা লক্ষ্য করেন। যখন ভারতের সম্ভাব্য পুশ-ইনের বিরুদ্ধে আমাদের সব মনোযোগ নিবদ্ধ থাকা উচিত ঠিক তখনি যাচাই না করে বিতর্ক সৃষ্টিকারী এমন তালিকা প্রকাশ কেন?
ড. আসিফ নজরুল বলেন, এমন তালিকা বা আরো অনেক কিছু হতে পারে দেশে এখন। কিন্তু ভারতের এনআরসি আর নাগরিকত্ব আইন নিয়ে যে ভয়ংকর বিপদে ফেলা হতে পারে বাংলাদেশকে তা থেকে কিছুতে যেন মনোযোগ সরে না যায় আমাদের।