August 9, 2026, 7:45 am
ডিএন২৪ ডেস্ক
ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি ঘিরে নতুন করে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিচারবিভাগীয় তদন্ত করবে ফ্রান্স। এ উদ্দেশ্যে একজন বিচারককে নিযুক্ত করা হয়েছে। ফ্রান্সের আর্থিক অপরাধ দমন সংক্রান্ত বিভাগ (পিএনএফ) শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে।
সম্প্রতি ফ্রান্সের একটি সংবাদমাধ্যম রাফাল নির্মাতা সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের বিরুদ্ধে চুক্তির মধ্যস্থতাকারীকে ১০ লাখ ইউরো (প্রায় ৯ কোটি টাকা) ‘উপহার’ দেয়ার অভিযোগ তুলেছিল। এ সংক্রান্ত কিছু নথিপত্রও পেশ করে তারা। দুর্নীতি বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে এরপর পিএনএফ’র কাছে রাফাল চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়। তারই ভিত্তিতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফরাসী সরকার।
২০১৮ সালে রাফাল চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি খারিজ করেছিল পিএনএফ। সে সময় ‘তথ্যপ্রমাণের অভাব’ অজুহাত দেখিয়ে দাবি খারিজ করা হয়েছিল। এ বার ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মোদির শাসনামলে ২০১৬ সাথে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছিল ভারত। সে সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঁসোয়া ওঁলা। একটি ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি, এর কিছুদিন পরেই ফরাসী দুর্নীতি দমন সংস্থার তদন্তে মধ্যস্থতাকারীকে দেয়া ‘উপহার’ সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ মিলেছিল।
তদন্তকারীদের সে সময় দাসো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, উপহার হিসেবে রাফাল যুদ্ধবিমানের ৫০টি রেপ্লিকা (ছোট প্রতিরূপ) তৈরির জন্য ৫ লাখ ইউরো খরচ হয়েছে। প্রতি রেপ্লিকার জন্য ২০ হাজার ইউরো। কিন্তু রেপ্লিকা তৈরি ও বিতরণের কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি যুদ্ধবিমান নির্মাতা সংস্থাটি। বরং তদন্তে জানা যায়, প্রায় ১০ লাখ ইউরো হিসাববহির্ভূত খরচ হয়েছে চুক্তিপর্বে।
ঘটনাচক্রে গত সেপ্টেম্বরে রাফাল চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ- সিএজি-ও। সংসদে পেশ করা সিএজি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের সাথে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশন এবং এমবিডিএ’র আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-কে সাহায্য করার কথা। কিন্তু তারা সেটা করছে না। অথচ ২০১৬ সালের রাফাল কেনার চুক্তিতে বলা ছিল, দাসো চুক্তি-মূল্যের ৫০ শতাংশ প্রকল্প বা কাজের বরাত ভারতের কোনো সংস্থাকে দেবে এবং প্রযুক্তিগত সাহায্য করবে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা