August 9, 2026, 10:49 am
এ কে এম ইকবাল ফারুক,চকরিয়া
চকরিয়ায় সেফটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে দম বন্ধ হয়ে একই পরিবারের বাবা ও দুই ছেলেসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের দক্ষিণ বহাদ্দরকাটা গ্রামে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আনোয়ার হোসেন (৬৭), তার ছেলে শাহাদাত হোসেন (৪৫) ও শহিদুল ইসলাম (২২)। তারা সবাই ওই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় লোকজন ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ বহদ্দারহাটা এলাকার আনোয়ার হোসেনের বসতঘর বন্যার পানিতে প্লাবিত ছিল। বুধবার বিকালের দিকে বন্যার পানি নেমে গেলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে যান গৃহকর্তা আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে শাহাদাত হোসেন ও শহিদুল ইসলাম। তাঁরা সেখানে কেরোসিন ও বিøচিং পাউডার ছিটান। এক পর্যায়ে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে যান শহিদুল ইসলাম। সেখানে দীর্ঘক্ষণ ধরে তার কোন সাঁড়া শব্দ না পেয়ে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নেমে যান বড়ভাই শাহাদাত হোসেন। পরে সেপটিক ট্যাংক পরিস্কার করতে যাওয়া দুই ছেলের খোঁজ নিতে তাদের বাবা আনোয়ার হোসেনও সেখানে যান। এ সময় তারা তিনজনই সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে অজ্ঞান হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইভাই শাহাদাত হোসেন ও শহিদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাদের পিতা আনোয়ার হোসেনকে মুমুর্ষ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোররাত তিনটার দিকে মারা যায় আনোয়ার হোসেন। একই পরিবারের তিন সদস্যের নিহতের ঘটনায় নিহতদের পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা সিরাজুম মুনির বলেন, সেপটিক ট্যাংক দীর্ঘদিন বন্ধ অবস্থায় থাকলে তার ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকের ভেতর অক্সিজেনের অভাবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ বলেন, সেপটিক ট্যাংক পরিস্কার করতে গিয়ে বাবা ছেলেসহ তিনজন নিহতের ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।####