August 9, 2026, 8:46 am

মালেক মাঝি হত্যাকান্ড পেকুয়ায় মামলা নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ, মুখ খুলল জনপ্রতিনিধিরা

মালেক মাঝি হত্যাকান্ড পেকুয়ায় মামলা নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ, মুখ খুলল জনপ্রতিনিধিরা

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দিতে আহবান জানালো টইটংয়ের জনপ্রতিনিধিরা। টইটংয়ের আবদুল মালেক প্রকাশ মালেক মাঝি হত্যাকান্ডের ঘটনায় মুখ খোলছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ। জনপ্রতিনিধিরা বলেন, এ হত্যাকান্ড নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মতো পরিস্থিতির অবতারণা হয়েছে। নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। মামলায় আসামী নিয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের মূল ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। অন্তত ৭ জন মানুষকে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা সবাই নিরপরাধ। স্পর্শকাতর একটি জঘন্যতম ঘটনায় নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসানো এটি অমানবিক ও আরেকটি নিষ্টুরতা। আমরা জনপ্রতিনিধিরা নিজদের দায়বোধ থেকে আবদুল মালেক হত্যাকান্ডের ঘটনা ও পরবর্তীতে থানায় মামলা রেকর্ড নিয়ে এ সম্পর্কিত বিষয়ে দেশ ও জাতিকে জানানোর জন্য আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং দিতে সম্মত হয়েছি। আমাদের টইটং ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত জনপ্রিয় ইউপি সদস্য মনজুর আলমকে ওই হত্যা মামলায় আসামী করে। এ ছাড়াও টইটং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ আলম প্রকাশ মোহাম্মদ মাঝিকে এ মামলায় প্রধান আসামী করা হয়। মামলার ১২ নং আসামী গুদিকাটার এজাহার মিয়ার পুত্র সিকান্দর মালয়েশিয়ায় থাকেন। ছয় বছর আগে বিদেশ গিয়েছিল। তিনি বর্তমানেও মালয়েশিয়ায় আছেন। অথচ এ মামলায় তাকে আসামী করা হয়। পেকুয়া সদরের শেখেরকিল্লাঘোনার আবু তাহেরের পুত্র তারেক নামক যুবককেও এ মামলায় আসামী করে। আরো অনেক নিরীহ মানুষকে এ হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমরা মামলায় জনপ্রতিনিধিসহ নিরপরাধ মানুষকে আসামী হিসেবে দেখে বিস্মিত হয়েছি। বেড়েছে মানুষের উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা। অন্য দিকে নিরপরাধ মানুষ আসামী হওয়ায় মামলা এবং ওই ঘটনার প্রকৃত ক্লু উদঘাটন নিয়েও ধু¤্রজাল দেখা দিয়েছে। সন্দেহ তৈরী হচ্ছে মালেক হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার নিয়ে। খুনের সাথে জড়িতরা পার পাচ্ছেন কিনা এটি নিয়েও আমরা সন্দেহ করছি। সে দিন পেকুয়ার চৌমুহনীতে রাস্তায় শক্তি প্রদর্শন করেছিল একটি মামলাবাজ চক্র। লাশ নিয়ে তারা রাজনীতি করে। প্রশাসনকে বাধ্য করেছে নিরপরাধ মানুষদেরকে জড়িয়ে হত্যা মামলা রুজু করাতে। আমরা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অত্যন্ত আস্থা ও বিশ্বাস রাখি। পুলিশ চেয়েছিল নিরপরাধ মানুষ যেন মামলার আসামী না হয়। কিন্তু তারা লাশ দাফন না করে রাস্তায় শক্তি প্রদর্শন করেছে। বাংলাদেশে এটি নতুন রেকর্ড। লাশ সমাহিত না করে হত্যা মামলা রুজুর জন্য বাদীপক্ষের সংগ্রাম। আমরা জনপ্রতিনিধিরা এ মামলা নিয়ে কঠিন দুশ্চিন্তায় পড়েছি। আমাদের জনগন কেন নিরপরাধ থেকে জঘন্যতম হত্যা মামলায় আসামী হয়েছে। আমরা এ মামলার আসল ক্লু উদঘাটন করতে আহবান করছি। আর যে সব নিরপরাধ মানুষ আসামী হয়েছে তাদেরকে দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান করছি। মনজুর মেম্বার, মোহাম্মদ মাঝিসহ যারা নিরপরাধ মামলায় ফেঁসে গেছেন উনাদেরকে হয়রানি না করতে পুলিশ প্রশাসনকে বিনয়ের সহিত অনুরোধ করছি। ২২ জুলাই (শনিবার) সকাল ১১ টার দিকে টইটং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য রাখেন ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান হাজী শাহাব উদ্দিন, ইউপি সদস্য ফায়সাল আকবর, আবুল কালাম, আবদুল হক, ইলিয়াছ মো: রুকন উদ্দিন, নুরুল আবছার, দিলোয়ারা বেগম, আয়েশা বেগম, রোজিনা আক্তার। এ ছাড়াও ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ছরওয়ার কামাল, আ’লীগ নেতা মাষ্টার জাফর আলম, জসিম উদ্দিন, হাজী ব্যবসায়ী সমিতির নেতা শাহাদাত হোসাইন প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com