August 9, 2026, 12:05 pm

ইহা জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক !

ইহা জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক !

সাইফুল ইসলাম বাবুল

দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর উত্তর নলবিলা-মাতারবাড়ী সড়কের কোথাও উঠে গেছে পিচঢালাই, কোথাও সড়কের মাঝখানে ডোবার মতো বড় বড় গর্ত। গর্তগুলোতে কিছুক্ষণ পরপরই আটকে যাচ্ছে রিকশা, অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহন। ভারী যানবাহনগুলোও সড়কটিতে চলাচল করতে গিয়ে জল-কাদায় একাকার।

নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ায় ভাঙা সড়কটিতে যাতায়াত করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে দায়িত্বরত দেশি-বিদেশি কর্মকর্তারা।

প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কটির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেড় কিলোমিটার সংস্কারের জন্য গত বছরের আগস্ট থেকে কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এক বছরের মধ্যে সড়কের সংস্কারকাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত মেয়াদে শেষ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ। বাকি ৭০ শতাংশ কাজ করার জন্য ঠিকাদারের অনুরোধে সময় আরও ৮ মাস বাড়িয়েছে এলজিইডি।

এলজিইডি সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে উত্তর নলবিলা-মাতারবাড়ী সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। তিনটি প্যাকেজে সড়কটির সংস্কারকাজ চলছে। এর মধ্যে প্রথম প্যাকেজের আওতায় গত বছরের ১৫ জুলাই উত্তর নলবিলা-মাতারবাড়ী সড়কের দেড় কিলোমিটার সংস্কারের জন্য ১৪ কোটি ৩১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৯৬ টাকার দরপত্র আহ্বান করে এলজিইডি। পরে সড়ক সংস্কারকাজে দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুর সিন্ডিকেট। কার্যাদেশ অনুযায়ী, বিগত ২০২২ সালের আগস্টে প্রথম প্যাকেজের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলেও বাকি রয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ।

দরপত্র অনুযায়ী, ওই সড়কে পিলার বসানো, মাটি ভরাট করে সড়ক ১২ ফুট প্রস্থ থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত করা, দুর্যোগ থেকে সড়ক রক্ষায় দুই পাশে ব্লক বসানো, দুটি কালভার্ট নির্মাণ ও সড়ক পিচঢালাই করার কথা। কিন্তু গত এক বছরে শুধু ব্লক ও পিলার বসানো এবং একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। আরেকটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছে। সড়ক প্রশস্ত করা ও পিচঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়নি।

মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার অফিসের সাইট ইনচার্জ মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকেরা সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন। ওই ভাঙা সড়কে গাড়ি আটকা পড়ার কারণে ঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আবু হায়দার বলেন, সড়কটির অবস্থা নাজুক। মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে।

মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যাদেশের মেয়াদ আরও আট মাস বাড়ানো হয়। বর্ধিত মেয়াদে যাতে কাজ শেষ হয়, সে বিষয়ে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত আরও তিন কিলোমিটার সংস্কারের জন্য পরবর্তী সময়ে দুটি প্যাকেজে প্রায় ২৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় ১ হাজার ২০০ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। আগামী ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তৃতীয় প্যাকেজের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে মার্চে। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে তৃতীয় প্যাকেজের কাজ শেষ হওয়ার কথা।

এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সড়কের সংস্কারকাজ ধীরগতিতে চলছে। এখন সব জটিলতা শেষ হয়ে গেছে এবং পুরোদমে কাজ চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com