August 9, 2026, 8:44 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সাধারন ওয়ার্ড থেকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার। তিনি কক্সবাজার জেলা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম প্রখ্যাত ওয়ারেচী পরিবারের পুত্রবধূ। সেলিনা আক্তারের শাশুড় পেকুয়াসহ জেলা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বজন পরিচিতি ব্যক্তিত্ব অবিভক্ত বারবাকিয়া ইউনিয়ন থেকে বার বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত নেতা ছাদেকুর রহমান ওয়ারেচীর বড়পুত্রবধূ। আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে পেকুয়া ৭ নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন। উটপাখি তার নির্বাচনী প্রতীক। জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি সাধারন ওয়ার্ড থেকে একমাত্র নারী হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন। সেলিনা আক্তার পেকুয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক উচ্চ শিক্ষিত। তিনি পেশায় একজন শিক্ষিকা। চট্টগ্রামের একটি সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্টানে শিক্ষকতায় আছেন। এ ছাড়াও তিনি অনলাইন ভিত্তিক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্টানের এডমিন হিসেবে কাজ করছেন। ই-কমার্স গ্রæপ নামে একটি বৃহৎ প্রতিষ্টান রয়েছে। উন্নয়নে নারীদের সম্পৃক্ত করে উৎপাদন ও উদ্ভাবনে কাজ করা হচ্ছে ই-কমার্স গ্রæপের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য। দারিদ্র বিমোচন, আত্মসামাজিক পরিবর্তন, সর্বোপরি নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বনির্ভর করা ই-কমার্স গ্রæপের অন্যতম শর্ত। সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যে এ প্রতিষ্টানটির প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। ই-কমার্স গ্রæপের সদস্য নারীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল ও ছড়িয়ে দিতে দেশের অন্যতম বৃহত্তম শহর বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ই-কমার্সভূক্ত সদস্যদের উৎপাদিত ও তৈরীকৃত পণ্যসামগ্রী নিয়ে মেলাও হয়েছে। স্টলসহ দর্শনার্থীরা ও ক্রেতারা নারীদের এ কার্যক্রমের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। আর ওই কার্যক্রমকে দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে জেলা পরিষদ প্রার্থী সেলিনা আক্তার। পড়ালেখায় ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। চট্টগ্রামের সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্টান কৃষ্ণকুমারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি এস,এস,সি পাস করেন। মেট্টিক পরীক্ষায় তিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হন। এরপর চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে এইচ,এস,সি মেধায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ২০০২ সালের দিকে মাস্টার্স শেষ করেন। ২৫ বছর আগে তিনি ওয়ারেচী পরিবারের সন্তান শহীদুর রহমান ওয়ারেচীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ওই দম্পতির ২ ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে চট্টগ্রামের বিজিসি ট্টাস্টে পড়াশুনা করেন। ছোট ছেলেও চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্টানে পড়ালেখা করছিলেন। সেলিনা আক্তারের শাশুড় ছাদেকুর রহমান ওয়ারেচী যেমন এ অঞ্চলে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অত্যন্ত সমাদৃত তেমনি তার পিত্রালয়ের পরিচিতিও রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ পরিচিত। ওই নারীর বাপের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলায়। সেলিনার পিতা মরহুম আবুল বশর মিয়াও সীতাকুন্ডসহ চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় অত্যন্ত পরিচিত মানুষ। চট্টগ্রামের সন্তান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব সাবেক মন্ত্রী এল,কে ছিদ্দিকী সেলিনার চাচা। এম,আর ছিদ্দিকীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ন দেশ সেরা রাজনৈতিক নেতা বুদ্ধিজীবি ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে শ্রেষ্ট সন্তানরা আছেন এ বাড়ির সন্তান। বাংলাদেশের পুলিশের সাবেক মহা পরিদর্শকও ছিলেন ওই পরিবারের সন্তান। তারা সেলিনা আক্তারের পৈত্রিক বাড়ির গর্বিত সন্তান। সেলিনা আক্তার অত্যন্ত মেধাবী ও প্রজ্ঞা সম্পন্ন নারী। চট্টগ্রামের চাঁন্দগাও আইডিয়েল স্কুলে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে তিনি পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষ করেছেন। তার অনেক ছাত্র দেশে ও দেশের বাইরে মর্যাদার সহিত চাকুরীসহ নানান পেশায় জড়িত। বাংলাদেশের জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার নাঈম হাসানও সেলিনা আক্তারের ছাত্র। ওই তারকা খেলোয়াড়কে মাধ্যমিকে পড়িয়েছেন সেলিনা আক্তার। আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি এবার পেকুয়া সাধারন ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হয়েছেন। সেলিনা আক্তার জানান, আগামী ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি ভোটারদের কাছ থেকে আমার নির্বাচনী প্রতীক উটপাখি মার্কায় ভোট প্রার্থনা করছি। আমি একজন শিক্ষিকা। আমার শাশুড় ছাদেকুর রহমান ওয়ারেচী আমাকে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি শিক্ষকতাকে অত্যন্ত পছন্দ করতেন। তিনি চাইতেন তার পুত্রবধূ শিক্ষক হয়ে এ দেশের শিক্ষার প্রসার বেগবান করুক। আমি আমার শাশুড়ের যে অসমাপ্ত কাজ ছিল সেগুলি বাস্তবায়ন করতে ভোটে অংশ নিয়েছি। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অভাব, অনটন, উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলি নিয়ে আমার শাশুড় চিন্তা করতেন। তার সেই মানবিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আমি প্রার্থী হয়েছি। ভোটারদের কাছে আহবান করছি আপনারা আমাকে নিয়ে ভাবুন এবং আমাকে বিজয়ী করবেন এ প্রত্যাশা করছি। আমি বিজয়ী হলে ইনশাআল্লাহ, কথা দিচ্ছি মানুষের কল্যাণের জন্য আমি যে কোন সময়, যে কোন মুহুর্তে আপনাদের ডাকে সাড়া দেব এবং আপনারা আমাকে পাবেন।