August 9, 2026, 8:43 am

জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং স্মৃতি স্মরণে এডভোকেট আমজাদ

জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং স্মৃতি স্মরণে এডভোকেট আমজাদ

বদরুল ইসলাম বাদল
———-
       প্রয়াত এডভোকেট আমজাদ হোসেন।পচাঁত্তর পরবর্তী বৃহত্তর চকরিয়া আওয়ামী রাজনীতির নব জাগরণের অগ্রদূত, স্বৈরাচারী টর্নেডোর তান্ডবে ধ্বংসাত্মক  রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে গতিশীলতার সাংগঠনিক ভিত্তির পরিশ্রমী কারিগর তিনি ।স্বৈরশাসকের ভয়ে সন্ত্রস্ত নেতাকর্মীদের নিজস্ব ক্যারিশমায় চকরিয়াকে বঙ্গবন্ধু রাজনীতির উর্বর ভূমিতে পরিনত করবার  যার অবদান সবচেয়ে বেশি  তিনি এডভোকেট আমজাদ হোসেন।শূন্য কোটার চকরিয়া  আওয়ামী লীগকে সংসদ ভবন  পর্যন্ত পৌঁছাতে  সাঁকো তৈরির সাংগঠনিক ভিত্তি রচনার স্থপতি তিনিই। পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করি প্রিয় নেতা।

          সারাদেশ জুড়ে জেলা পরিষদের নির্বাচনী হাওয়া বইছে ।কক্সবাজার জেলায় ও বেশ  জমে উঠেছে।জেলা  পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এডভোকেট আমজাদ সাহেবকে নিয়ে উনার জীবিত থাকাকালীন সময়কার তার সাথে আলাপচারিতার একটি স্মৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।এডভোকেট  আমজাদ হোসেন যদি ২০২২ সালের এই সময়ে  জীবিত থাকতেন  জেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলাবাসী হয়তো আওয়ামী লীগের মনোনীত  চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আশা করতে পারতো তাকে। অভিজ্ঞতায় যোগ্যতায় অনেকের চেয়ে  এগিয়ে থাকতেন তিনি  ।চকরিয়া পেকুয়া আসনে  দলকে নির্বাচিত করার সিড়ি তৈরির ঐতিহাসিক ভূমিকার নাম  আমজাদ সাহেব। অথচ তিনি  কোনদিন পদের জন্য লালায়িত ছিল  না।দলের কাছে কোন সময়েই বিনিময় আশা করেননি তিনি। ভাবী ফিরোজা আমজাদ সহ তিনি হজ্জ করতে গিয়েছিল। তখন উনার সাথে আমার দেখা করার সুযোগ হয় মক্কায় ।দেখতে পাই সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে  তার হাতেগড়া শতশত নেতাকর্মী, পরিচিত জন উনার সাথে   দেখা করতে   আসতেন। আমার দেখা মতে, একজন মন্ত্রীর চেয়ে  বেশী সমাদৃত হয়েছিলেন তিনি প্রবাসীদের কাছ থেকে।প্রবাসীদের সাথে  বিভিন্ন  আলোচনার মাঝে প্রবাসী আওয়ামী ফোরাম সহ বিভিন্ন  সংগঠন উনাকে গুরুত্ববহ যেকোন  নির্বাচনে অংশ গ্রহণের  অনুরোধ করেছিলেন।পেশাগত কারণে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য তিনি কিছুটা সময়ের কথা বলে তিনি প্রবাসীদের আস্বস্ত করেছিলো যে, দল ইনশাআল্লাহ বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নিবেন। আবার উনার মৃত্যুর ছয়সাত মাস আগে কক্সবাজারের বাসায় দেখা করতে গিয়ে বিভিন্ন আলোচনার মাঝে তিনি বলেছিলেন  যে,  নেত্রীর সম্মতি সাপেক্ষে  ২০২২ সালের  জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দলের মনোনয়ন চাইবেন। পেশাগত কারণে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য তিনি ২০২২সালকে টার্গেট করেছিলেন ।মক্কায়  প্রবাসী নেতাকর্মীদের সাথে আলাপচারিতায় তিনি  বলেছিলেন  সেদিন,”চল্লিশ বছর ওকালতি করেছি, রাজনীতি  করেছি।  বড় ধরনের বাড়ি গাড়ি সম্পত্তির মালিক হতে পারিনি,কোন দুঃখ নাই।  আমার অনেক  পরে রাজনীতিতে আসা অনেক  নেতাকর্মীদের  দুতলা তিনতলা বাড়ি,কোটি কোটি টাকা,”। তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন ,রাজনীতি করেছি,ফলাফলে আপনাদের ভালবাসায় আমি তৃপ্ত, এভাবেই যতদিন বেচে আছি থাকতে চাই। রাজনীতি নিয়ে  টাকা ইনকামের  কৌশল আমার জানা নাই। কারণ আমার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান”।খেয়াল করলে দেখা যাবে,  অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি রাজনীতিকে পূঁজি ছাড়া টাকা বানানোর  দোকান মনে করে। স্ত্রী, ছেলে মেয়ে পর্যন্ত বাপের নাম বিক্রি করে কমিশন বাণিজ্য নিয়ে, বিচার বানিজ্য সহ বিভিন্ন  ধরনের সংবাদ আজকের দিনে অহরহ।মান  ইজ্জত হারাচ্ছে অনেকে এভাবে ।  যার ফলে রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের অনিহা দিন দিন  প্রসারিত হচ্ছে ।তবে বিশ্লেষক মহলের ধারণা ,একজন মানুষকে সত্ থাকার জন্য  দুর্নীতিমুক্ত,অবৈধভাবে টাকা ইনকাম থেকে বিরত রাখতে পারে তার পরিবার, এবং সন্তান। এদিক বিবেচনায় আমাদের ভাবি ফিরোজা  আমজাদ এবং সন্তানরা সত্যি প্রসংশার দাবীদার।তিনি  নিজে লোভ লালসা মুক্ত ছিলেন বলেই হাজার সুযোগ থাকার পরও নিজের স্বামীকে অবৈধভাবে পয়সাওয়ালা বাড়িওয়ালা কিংবা সম্পদের মালিক হবার জন্য উত্সাহিত করেন নাই। আমজাদ পরিবার  আজো কক্সবাজারে ভাড়া বাসায় থাকেন।ভাবি নিজে ও একজন সমাজকর্মী এবং আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত।স্বামী  আমজাদ হোসেনের আদর্শের ধারক বাহক। এখন ও রাজনীতির মাঠে আছেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ভাবী ফিরোজা আমজাদ জেলা উপজেলায় দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেন। আমজাদ বদ্দার আকস্মিক মৃত্যুতে তাকে নিয়ে দেখা  জেলা পরিষদের সপ্ন পুরণ হচ্ছে না জেলাবাসীর।কিন্তু বৃহত্তর চকরিয়া তথা কক্সবাজার রাজনীতির  আকাশে একজন সততার দিকনির্দেশক হয়ে থাকবে মানুষের মনে।তাই আমজাদ সাহেবের  স্মৃতির প্রতি সন্মান এবং ফিরোজা আমজাদের প্রজ্ঞা মেধা এবং রাজনীতিতে তার সফল পথচলা বিবেচনায় , কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের আগামী  সম্মেলনে    আমজাদ সাহেবের   সুযোগ্য স্ত্রী,  নিঃস্বার্থ, নির্লোভ নিরহংকারী রাজনৈতিক কর্মী ভাবী ফিরোজা আমজাদকে  সাংগঠনিক সম্পাদক  কিংবা মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে দেখতে চায়,বৃহত্তর চকরিয়া আওয়ামী  পরিবার।যে কোন দায়িত্ব পালনে  সততা নিষ্ঠার সাথে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন কক্সবাজার জেলার রাজনৈতিক সচেতন মহল।কেন্দ্রীয় এবং  জেলা কমিটির  সংশ্লিষ্ট সন্মানিত নেতৃবৃন্দের প্রতি বিষয় টি  সুবিবেচনা জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
————————–
বদরুল ইসলাম বাদল
সাবেক ছাত্রনেতা এবং সমাজকর্মী
সদস্য বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটি। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com