August 9, 2026, 9:01 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড শেখেরকিল্লাঘোনায় জোয়ারের পানির ধাক্কায় কালভার্ট বিলীন হয়েছে। এতে করে পলবোটের নিকটে পাউবোর বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে। বিলীন হওয়া ওই অংশ দিয়ে ভোলা খালের জোয়ারের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। জোয়ারের পানিতে শেখেরকিল্লাঘোনাসহ সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোতে বিধ্বস্ত কালভার্ট ও তৎসংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়ন্ত্রিত বান্দরবানের মালিকানাধীন প্রায় ৩০ ফুট মতো বেড়িবাঁধ সম্পূর্ন বিলীন হয়েছে। এতে করে গত ১ মাস ধরে পেকুয়ায় প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের সাথে সদরের পূর্ব ও উত্তর প্রান্তে বেড়িবাঁধ দিয়ে যাওয়া সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জোয়ারের পানিতে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। লোনা পানির স্রোতে অন্তত ২০ একরের বেশী আমন ধানের চারা তলিয়ে গেছে। শেখেরকিল্লাঘোনায় বেশকিছু বাড়ি ঘরে পানি উঠেছে। প্রায় ১০ টি বসতবাড়িতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। অর্ধশতাধিক পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়রা ধারণা করছেন এ সব পুকুর থেকে আনুমানিক ২ লক্ষাধিক টাকার মাছ ভেসে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২০ দিন আগে সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লাঘোনায় ভোলাখাল পয়েন্টে একটি কালভার্ট পানির স্রোতে বিলীন হয়। বিলীন হওয়া অংশটি ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে কালভার্ট অংশে অন্তত ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য পাউবোর বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছর আগে পাউবোর বেড়িবাঁধ কেটে সেখানে মাটির তলদেশে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এক সময়ের বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শেখেরকিল্লাঘোনার মৃত ফরিদুল হক চৌধুরীর ছেলে হেনাউল ইসলাম চৌধুরী (বাবুল) ব্যক্তিগত অর্থায়নে ওই কালভার্টটি নির্মাণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি নেতা বাবুল মৎস্য ঘেরে পানির প্রবাহ ও মৎস্য আহরণের জন্য সেখানে কালভার্ট তৈরী করেন। কিছুদিন আগে তার সুবিধার জন্য কালভার্টটি সংষ্কার কাজ বাস্তবায়ন করে। এমনকি পূর্বের অংশ থেকে ৪/৫ ফুট জায়গায় নতুন করে কালভার্টটি স্থানান্তর করা হয়। এ সময় বেড়িবাঁধটি কেটে ফেলা হয়। এর কিছুদিন পর আকাশে মেঘমালাসহ সারাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। সেই সময় পূর্ণিমার ভরাতীথিতে সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পায়। জোয়ারের পানির প্রচন্ড ধাক্কায় নির্মিত কালভার্টটি বিলীন হয়ে যায়। এ সময় ভোলাখালের জোয়ারের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে করে শেখেরকিল্লাঘোনায় আ’লীগ ওয়ার্ড কমিটির সাবেক সভাপতি বাচ্চু মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা হেফাজ উদ্দিন, মনির উদ্দিনের বাড়িসহ আরো বেশকিছু বাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় মৌলভী আবুল বশরের পুকুর, ইব্রাহীম, জহির আলম, আনোয়ার হোছন, বজল আহমদ, শাহজাহান, আবুল হোছন পুতু, মফজল আহমদ, নাছির উদ্দিন, নাজেম উদ্দিন, কামাল হোসেন, ইকবাল, আনোয়ার হোসেনের, বেলাল ও মমতাজের পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যায়। ওই মানুষগুলোর বাড়িঘর ও উঠানে পানি উঠে। লোনা পানির ধাক্কায় ২০ একরের মতো আমন ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ফোরকান জানান, আসলে আমি বৈঠকে আছি। এ বিষয়ে আমি পরে কথা বলবো। এ বিষয়ে হেনাউল ইসলাম চৌধুরী বাবুল জানান, এ জায়গাটি আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। এখানে সব জায়গা আমার পিতার। এ কালভার্টটি একান্ত আমার ব্যক্তিগত। এখানে কারো অভিযোগ দেওয়ার কি প্রয়োজন। কালভার্টটি আমি কিছু অংশ সরিয়েছি। চেয়ারম্যান দ্রæত কাজ করবেন বলছিলেন। এ কারণে কাজটি আমি মজবুদ করেনি। পেকুয়া সদর ইউপির চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ জানান, আমি ওই কালভার্টটির জন্য দুইবার বরাদ্ধ দিয়েছিলাম। ননজিআর থেকে সাবেক মেম্বার মাহাবুল করিম সংষ্কার করেছিল। বিলীনের পর আমি সেখানে বালির বস্তা দিয়েছিলাম। এরপরও জায়গাটি ধরে রাখা যায়নি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধ থেকে কাজটি শেষ করবো।