August 9, 2026, 10:43 am
জিয়াউল হক জিয়া,চকরিয়াঃ
কক্সবাজারের চকরিয়ার ৮ ইউনিয়নের আবাদকৃত ধানি জমি,মাতামূহুরী নদী লাগোয় চর ও পাশ্ববর্তী সংরক্ষিত বন এবং সামাজিক বনায়ন ধ্বংস করে,গড়ে উঠেছে পরিবেশ বিধ্বংসী তামাক চাষ।চাষীদেরকে বিভিন্ন ট্যোবাকো কোম্পানি প্রতিনিধিরা ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করায় তামাকে আগ্রাসন বেড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়,বমুবিলছড়ি,সুরাজপুর-মানিকপুর,কাকারা,ফাঁসিয়াখালী,লক্ষ্যারচর ইউনিয়নজুড়ে ৬২০হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে।তবে কৈয়ারবিল,বরইতলী,হারবাং ইউনিয়নে কিছু এলাকায় কয়েক বছর ধরে তামাক চাষ হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বর্ষার ভরা মৌসুমে মাতামূহুরী নদীতে উজান থেকে আসা ঢলের পানিতে বয়ে আসে পলি মাটি।এই পলি মাটি জমিতে ঝমাট হওয়ায়,জমিগুলো উন্নতমানের তামাক চাষের উপযোগী বলে জানান চাষীরা।
এদিকে তামাক চুল্লিতে পুড়ানো হচ্ছে বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের কাঠ।তামাক প্রক্রিয়া জাতকরণে প্রতি ৪০হাজার কেজি তামাকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কেজি জ্বালানী কাঠের প্রয়োজন পড়ে।তবে উপজেলাতে অবস্হান করা বিভিন্ন টোব্যাকো কোম্পানি গুলো প্রচার করে তামাক শুকানোর ক্ষেত্রে বন্যায় নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি, তুষ, তামাকের ডাটা সহ ঝোপ-ঝাড়ের খড়কুড়ো ব্যবহার করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অইচ্ছুক একজন তামাক চাষী জানান,তামাক চাষে খরচ বেশী।তামাক ক্ষেতের পরিচর্যা কারণে সাধারণ মানুষ সহজই চাষ করতে রাজি নয়।তবে তামাক চাষের ফলন ভাল হলে লাভও বেশী। ফলে এখানকার কৃষকদের টার্গেট করে তামাক কোম্পানিগুলো অগ্রিম ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করায়,তামাক চাষে উৎসাহ হয়ে,প্রতি বছরই চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।চাষ করতে গিয়ে অনেক চাষীরা ধানি জমি,নদীর চর,সংরক্ষিত বন ও সামাজিক বনায়ন উজাড় করে,তামাক চাষ করেছে।তবে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক এই চাষ বন্ধে,বিভিন্ন চাপ ও ধান বা সরিষা চাষের পরামর্শ বা সহযোগিতা কথা বললেও কেউ শুনে না একথা।
তিনি আরো জানান,উন্নত গ্রেডের তামাক প্রক্রিয়াজাতে চুল্লিতে অবশ্যই লাকড়ি পুড়ানোর বিকল্প নেই।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন বমু বিলছড়ি, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, ফাঁসিয়াখালী ও লক্ষ্যারচর এলাকার আনুমানিক ৬২০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে।তবে কৈযারবিল,বরইতলী,হারবাং ইউনিয়নে আংশিক জমি তামাক চাষ হলেও কৃষি জরিপে তা এখনো স্থান পায়নি।
স্হানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জানান, বৃটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, আবুল খায়ের টোব্যাকো, নিউ এজ টোব্যাকোসহ দেশের নানা প্রান্তের খ্যাত-অখ্যাত সিগারেট কোম্পানিগুলো এখানে তামাক চাষের জন্য চাষীদের উদ্বুদ্ধ করছে।পাশাপাশি চাষীদেরকে অগ্রিম ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করছে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম নাছিম হোসেন বলেন, সরকারীভাবে তামাক চাষে কোন বিধি-নিষেধ নেই। তবু কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তামাকের কূফল সম্পর্কে চাষীদেরকে সম্পর্কে অবহিত করার হচ্ছে।