August 9, 2026, 11:43 am
জিয়াউল হক জিয়া,চকরিয়াঃ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সড়ক র্দূঘটনায় নিহত একই পরিবারের ছয় ছেলের বিধবা স্ত্রী ও র্দূঘটনার পূ্র্ববর্তী সময়ে স্ট্রোক করে মারা যাওয়া ছেলে সহ বর্তমানে,সাত বিধবা পুত্রবধু আর নয় নাতী-নাতনী নিয়ে দিশেহার মৃণালিনী (মানুবালা)।
নিহতরা হলেন,চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়ের (মালুমঘাটস্হ) ১নং ওয়ার্ডের সোয়াজানিয়া-হাসিনাপাড়ার বাসিন্দা প্রয়াত সুরেশ চন্দ্র সুশীলের পুত্র অনুপম শর্মা (৪৫), নিরূপম শর্মা (৪৩), দীপক শর্মা (৪০), চম্পক শর্মা (৩৮) ও শরণ শর্মা (২৬),রক্তিম(৩৫),আর র্দূঘটনার পূর্ববর্তী সময়ে একই পরিবারের দ্বিতীয় ছেলে হীরক(৪২)।
বর্তমানে প্রয়াতে সুরেশ এর পরিবারে বৃদ্ধা “মা”মৃণালিনী (মানুবালা) সহ তার নিহত ছয় ছেলে আর স্ট্রোক করে মারা যাওয়া মেঝছেলে সহ দেবশ্রী সুশীল(১৬),আয়ূব শ্রী সুশীল দেব(৬),আয়ূবশ্রী সুশীল (৫),দেড় বছরের আইদ্রিতা,অভি সুশীল (৫),এক মাস বয়সী শ্রীদেব সুশীল,অন্তিক শর্ম(৬),শ্রীকান্ত সুশীল (১১) ও সুকান্ত সুশীল (৯)নাতী-নাতনীর অনিশ্চিত ভবিষৎ নিয়ে আহাজারিতে দিনাতিপাত মানুবালার।
সাক্ষাতে মানুবালা সাথে কথা বললে,তিনি জানান,গত ৮ফেরুয়ারী ছেলেরা তাদের পিতার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শেষে বাড়ী ফিরার পথে মালুমঘাটস্হ সোয়াজানিয়া রাস্তা মাথা নামক জায়গায় সবজি বোঝায় একটি পিকআপ গাড়ী আমার ছেলে-মেয়েদেরকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে।তবে এসময় আহত হওয়া মেয়ে হীরা মুন্নী সুশীল,এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছেন।এখন আহত হয়ে জীবিত থাকা কনিষ্ঠ ছেলে প্লাবন সুশীলও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার উপক্রম।
এক সঙ্গে ছয় ছেলে আর গত ৩০জানুয়ারী স্বামী সুরেশ চন্দ্র সুশীলকে হারিয়ে পাগলপারা মানুবালা।
শোকাহত মানুবালা আরো জানান,আমার পরিবারের সব ছেলেদের কে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে।র্দূঘটনা ঘটলে,কেউ না কেউ জানে বেঁচে যেত।এখন আমার পরিবারের উপার্জনকারী আর কেউ নেই।আমরা এখন নিঃস্ব,অনাথ হয়ে গেছি।কিভাবে স্বামীহারা সাত পুত্রবধু আর নয় নাতী-নাতনীর ভবিষৎতের সময়টুকু কাটাবো।তখন আমাদেরকে কে খাওয়াবে?কে আমার নাতী-নাতনীর বেড়ে উঠার দায়িত্ব নিবে?।
তবে হ্যাঁ এখন জেলা প্রশাসক,জেলা পুলিশ সুপার,ইউএনও সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আমাদেরকে শান্ত্বনা দিতে এসেছে।এসময় আর্থিক সহযোগিতাও করেছে।প্রশাসন কর্তৃক পূর্ণবাসন ও কনিষ্ঠ ছেলে প্লাবনকে পুলিশে চাকরির আশ্বাস দিয়েছে।তখন উল্টো প্রশ্ন করে বসল!বল বাবা সাময়িক আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে জীবনের বাকী সময় কিভাবে কাটাবো?একথা বলা শেষ না হতে আয়ূবশ্রী সুশীল নামের এক নাতনী এসে মানুবালাকে জড়িয়ে ধরে।এসময় ছোট্র অবুঝ শিশুটি চিৎকার দিয়ে বলা শুরু করে।দাদু আব্বু বাসায় আসছেনা কেন?আমার আব্বুকে এনে দাও?তাড়াতাড়ি আসতে বল দাদু?ছোট্র শিশু কান্নাজড়িত কন্ঠে বলা,কথার সাথে-সাথে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে মানুবালা।
পরে নিহতদের কনিষ্ঠ আহত ভাই প্লাবন লেবা-লেবা কন্ঠে বলেন,আমি ঘাতক চালকের জন্য থানায় মামলা করেছি।চালক এখন জেলহাজতে আছে।আমি বিচার চাই?এতটুকুতে প্লাবনের চোখ দিয়ে টপ-টপ পানি ঝরে ভাসছে বুক।প্লাবন ইশারায় আমি প্রতিবেদককে বলছে,চলে যেতে।তখন আমি চেয়ারের বসা থেকে উঠে তাদের বাড়ীর আঙ্গিনা ত্যাগ করাকালে,আরেক ছোট্র শিশু ডাক দিল!চাচু আজকে যেওনা,আমাদের বাসা থাক?এটি আমার জীবনের পরম এক ট্রাজেডি।