August 9, 2026, 8:45 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ার শিলখালী কসাইপাড়ায় দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে অন্তত তিনদফা হামলাসহ একাধিকবার ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। মাদক বিকিকিনিকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনার সুত্রপাত হয়েছে। হামলায় ৩ জন নারীসহ ৫/৬ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পেকুয়া থানা পুলিশ তিনদফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উত্তেজনা প্রশমিত করতে শিলখালী ইউপির চেয়ারম্যান কামাল হোসেনসহ ইউপি সদস্য ও গ্রামপুলিশরাও সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। ৭ ফেব্রæয়ারী (সোমবার) সকাল ১১ টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ওই এলাকার আজগর আলীর স্ত্রী মিনা আক্তার (৩৭), মো: ফোরকানের স্ত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস (৩০), বাদশাহ মিয়ার স্ত্রী মিথিলা বেগম (৫৫)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদক বিক্রি নিয়ে কসাইপাড়ায় সোনা মিয়ার পুত্র মো: সেলিম ও প্রতিবেশী আজগর আলীর মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে শনিবার (৫ ফেব্রæয়ারী) রাত ৮ টার দিকে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিসহ ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। একই বিষয়কে কেন্দ্র করে রবিবার (৬ ফেব্রæয়ারী) দুপুর ১২ টার দিকে সোনা মিয়ার পুত্র সেলিম ও আজগর আলী গংদের মধ্যে মারপিট হয়েছে। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজন লাঠিসোটা ও ধারালো দা, কিরিচ নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। খবর পেয়ে শিলখালী ইউপির চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, ইউপি সদস্য শেখ ফরিদুল আলম, ইউপি সদস্য বাহাদুর আলম ও মো: হাসান ওই স্থানে যান। এ সময় দু’পক্ষের উত্তেজনা প্রশমিত করা হয়। ৭ ফেব্রæয়ারী সোমবার সকাল ১১ টার দিকে ফের উভয়পক্ষের মধ্যে মারপিট হয়েছে। এ সময় সোনামিয়া গংদের হামলায় আজগর আলীর স্ত্রী মিনা আক্তার, মো: ফোরকানের স্ত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস ও বাদশাহ মিয়ার স্ত্রী মিথিলা বেগমকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। আজগর আলী জানান, সোনা মিয়ার ছেলে মেয়েরা ইয়াবা ব্যবসা করে। টেকনাফ থেকে মাদক নিয়ে আসছিল। ছড়াপাড়া স্টেশনে মাদক গুলি কেড়ে নিয়ে ফেলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোনা মিয়ার ছেলে মো: সেলিমের নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলা হচ্ছে। সোনা মিয়া জানান, আমার ছেলে ইয়াবা বিক্রি করে না। মূলত আজগর আলী গং ইয়াবা বিক্রি করে। ইউপি সদস্য শেখ ফরিদুল আলম জানান, উত্তেজনা প্রকট আকার ধারণ করেছে। পুলিশ তিনদফা এসেছিল। কসাইপাড়া থেকে মাদক বেঁচা বিক্রি না থামানো গেলে এখানকার পরিবেশ আরো মারাত্মক হবে। ইউপি সদস্য বাহাদুর আলম জানান, এখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত। পুলিশ এসেও দমানো যাচ্ছে না। মাদক বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পেকুয়া থানার এস,আই শেখ ফরিদ জানান, আহতদের চিকিৎসার নিতে বলেছি। আমিসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স গিয়েছিলাম। শিলখালী ইউপির চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, আসলে তারা হিংস্র প্রকৃতির। মারপিট থামানোর জন্য আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। তারা আইন মানেনা। পুলিশ মানেনা, চেয়ারম্যান, মেম্বারকেও মানেন না।