August 9, 2026, 8:44 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় তরুণ গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর অর্থায়নে সংষ্কার করা হচ্ছে একটি গ্রামীণ সড়ক। গ্রামীণ বিপুল জনগোষ্ঠীর যাতায়াত ব্যবস্থার সুগম করতে ওই ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি টাকা ব্যয় করছেন সড়ক সংষ্কার কাজ বাস্তবায়নে। এতে করে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী বটতলিয়াপাড়ার কয়েক হাজার মানুষের জনদুর্ভোগ লাঘব হবে। ওই শিল্পপতির নাম রাহেদুল হায়দার চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম শহরে পোশাক শিল্পের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গ্রামের বাড়ি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী গ্রামে। ওই গ্রামের প্রখ্যাত ফতেহ আলী মাতবর জমিদার বাড়ীর সন্তান রাহেদুল হায়দার চৌধুরী। শৈশবে বড় হয়েছেন গ্রামে। স্কুল জীবনেও শেষ করেছেন গ্রামে থেকেই। ফতেহ আলী মাতবরবাড়ীর মৃত নুরুচ্ছফা প্রকাশ নওশা মিয়া চৌধুরীর পুত্র রাহেদুল হায়দার চৌধুরী। পিতা ছিলেন এক সময় পেকুয়ার জনপ্রতিনিধি। তবে কালের পরিক্রমায় পেকুয়ার রীতিনীতি ও সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে। উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত প্রেক্ষিতে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম অংশ এখনো থেকে গেছে অবহেলিত। বটতলীয়াপাড়া ও মাতবরপাড়াসহ আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ এখনো যাতায়াত ও যোগাযোগ নিয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে বটতলীয়াপাড়া রাবারড্যাম সড়কের অবস্থা নাজুক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সড়কটি ইট দিয়ে সংষ্কার কাজ বাস্তবায়ন করে। কিন্তু প্রায় ১৫-২০ বছর ধরে পুন:সংষ্কারকাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সড়কটি খানা খন্দকে ভরপুর। সড়কের বিপুল অংশে ইট নেই। রুপান্তর হয়েছে কাঁচা সড়কে। যান চলাচলতো দুরের কথা পায়ে হেটেও যাওয়া অনেকটা দু:ষ্কর। বর্ষার সময় চলাচল অযোগ্য থাকে। কাঁদা মিশ্রনে সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা থমকে গেছে। স্থবির হয়ে গেছে প্রায় ৪/৫ হাজার মানুষের যাতায়াত। এ দিকে ওই সড়কটি সংষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ অর্থনৈতিক উদ্যোক্তা রাহেদুল হায়দার চৌধুরী। মানুষের প্রতি তার অন্তরের টান। নিজ মাতৃভূমির মানুষ এ ভাবে দুর্ভোগে থাকতে পারেনা। সেটি তার হৃদয়ের ছোয়া লাগে। আর নিয়েছেন উদ্যোগ। রবিবার (৬ ফেব্রæয়ারী) শুরু করেছেন সড়কটির সংষ্কারকাজ। রাবারড্যাম থেকে বটতলীয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটারে পুন:সংষ্কারকাজ আরম্ভ করা হয়েছে। এ সব অংশে সড়কে দেওয়া হচ্ছে ইট, বালি। প্রায় ৩০/৪০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। কেউ জমি থেকে মাটি দিয়ে ভরাট করছেন গর্ত। আবার যেখানে নেই ইট সেখানে দেওয়া হচ্ছে নতুন ইট। বালি ও ইট দিয়ে সড়কের ১ কিলোমিটার সংষ্কার কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে রাহেদুল হায়দারের অর্থায়ন থেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালু বলেন, রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। কোন প্রসূতি নারীকে জরুরী চিকিৎসার জন্য নেওয়া যায় না। বৃদ্ধ পুরুষ ও নারী রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারে না। অসুস্থ কোন রোগীকে দ্রæত হাসপাতালে নিতে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ছাত্র/ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যেতে হিমসিম খেতে হয়। আমরা একলাবাসী খুবই খুশি হয়েছি রাহাদ চৌধুরীর এমন ভালো উদ্যোগে। আমরা পুরো পাড়ার মানুষ তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
রাহেদুল হায়দার চৌধুরী বলেন, এই রাস্তায় আসলে অবহেলিত। দীর্ঘদিন ধরে কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। কিছু অংশ পর পর বড় বড় খানাখন্দে ভরে গেছে। গাড়ী তো দুরের কথা বর্ষার সময় পায়ে হেঁটে যাওয়াও কঠিন হয়। তাই এলাকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে নিজের ফান্ড থেকে রাস্তা সংস্কার করে দিচ্ছি। মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য। সামনেও সামাজ উন্নয়ন মূলক কাজে আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।