September 19, 2026, 1:31 pm
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় গভীর রাতেই জবর দখলে নিল বিধবা নারীর ৮ শতক জমি। আদালতে মামলা রুজু আছে। স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে আদালত আদেশ দিয়েছে। তবে এ সব না মেনে দুবৃর্ত্তরা গভীর রাতে জমিতে হানা দেয়। এ সময় আতংক ও ভীতি ছড়িয়ে রাতেই জমিতে মাটি ভরাট করে। দোকানঘর তৈরীসহ ওই জমি জবর দখল কুমানসে তারা মাটি ভরাট করে ভিটা তৈরী করে ফেলে। গত রবিবার গভীর রাতে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের সবজীবনপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ কয়েকদফা ওই স্থান পরিদর্শন করে। স্থানীয় সুত্র জানান, ৮ শতক জমি নিয়ে মৃত জাফর আলমের স্ত্রী হাছিনা বেগম ও সবজীবনপাড়ার মৃত নুরুল হকের পুত্র নাছির উদ্দিন মিয়া গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। হাছিনা বেগমের শাশুড় নজির আহমদ সিকদার ৭ ভাই ও ৯ বোনসহ অলি ওয়ারিশ রেখে যান। জাফর আলম পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত ৮ শতক জমির ভোগ দখলদার। জমিটির স্থিতি অবস্থান ফাঁসিয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিকটে। জাফর আলমের পরিবার পৈত্রিক ভিটায় ছিল। তবে গত কয়েক বছর আগে তারা ওই স্থান থেকে অন্যত্র গিয়ে পৃথক বসতি স্থাপন করে। বারবাকিয়া ইউনিয়নের নোয়াখালী এলাকায় মৃত জাফর আলমের স্ত্রী হাছিনা বেগম পরিবার পরিজন নিয়ে থাকেন। ওই সুবাধে নাছির উদ্দিন মিয়া গং সম্প্রতি বিধবা হাছিনা বেগমের জমির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দেন। গত ১ বছর আগে থেকে তারা জমি জবর দখলের পায়তারা করে। এতে করে মৃত জাফর আলমের মেয়ে বোরহানা বেগম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কক্সবাজারে এম,আর মামলা রুজু করে। যার নং ২১৬৩/২১। বিচারিক আদালত বিরোধীয় জমিতে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ফৌজধারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা মতে স্থিতিবস্থা বিদ্যমান রাখতে আদেশ দিয়েছেন। সহকারী কমিশন ভূমি পেকুয়াকে প্রতিবেদন প্রেরণ ও ওসি পেকুয়াকে শান্তি শৃংখলা রক্ষার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ দিকে কোর্টে মামলা রয়েছে। এরপরও এ সব না মেনে গত ৫/৬ দিন আগে দুবৃর্ত্তরা ওই জমিতে মাটি ভরাট কাজ চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ কয়েক দফা গিয়েছিলেন। তবে পুলিশ ওই স্থান ত্যাগ করার পর আসামীরা ফের জবর দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে। এম,আর মামলার বাদী বোরহানা বেগম জানান, এ জমি আমার বাবা পৈত্রিক অংশ থেকে প্রাপ্ত হন। আমার মা একা থাকেন। আমার দুই ভাই থাকে দেশের বাইরে। নোয়াখালী নামক গ্রামে আমার মা পৃথক বাড়ি করেছে। নাছির উদ্দিন মিয়া, তার ভাই মহি উদ্দিন, মৃত শফিকুর রহমানের পুত্র আবদু রশিদ প্রকাশ বাদশাহ, জামাল হোসেন, মৃত আইচ্যা মিয়ার পুত্র কামাল হোসেনসহ দুবৃর্ত্তরা জমি দখলে নিতে মাটি ভরাট করেছে। তারা ভাড়াটে লোকজন নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। বদিউল আলম জানান, আসলে জাফর আলমের ছেলে মেয়েদের উপর জুলুম করা হচ্ছে। সালাহ উদ্দিন জানান, জমিটি মূল্যবান জায়গায় হওয়ায় মিয়া গংদের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে। রফিক জানান, জাফর আলমের পরিবার এখানে ছিল। তারা এখন ১ কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে বাড়ি করেছে। এ সুবাধে মিয়া গং জমি জবর দখল করছে। জন্নাতুল মাওয়া রুবি জানান, পুলিশ এসে নিষেধ করে চলে যায়। পুলিশ থাকলে কিছুক্ষণ কাজ বন্ধ থাকে। চলে গেলে আবার শুরু করা হয়।