August 9, 2026, 11:00 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় ওয়ারেন্টভূক্ত আসামীর হামলায় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ জন গ্রাম পুলিশ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ইউপির কর্মরত ১ জন নারী গ্রাম পুলিশও রয়েছে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ওই স্থানে পৌছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ৩০ জানুয়ারী (রবিবার) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কোদাইল্যাদিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহত গ্রাম পুলিশরা হলেন মগনামা ইউপির ৩ নং ওয়ার্ডের কর্মরত গ্রাম পুলিশ মোস্তাক আহমদ (৪৬), ৮ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ মোস্তফা কামাল প্রকাশ কালু (৩২) ও একই ইউপিতে কর্মরত মহিলা গ্রাম পুলিশ বুলু আরা বেগম (৩৫)। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানান, ওই দিন সকালে কাজী বাজার-মটকাভাঙ্গা সড়ক থেকে ইট লুট করা হচ্ছিল। কোদাইল্যাদিয়ার আশরাফ মিয়ার পুত্র ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, জিআর ও সিআর মামলাসহ একাধিক মামলায় ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী আবদুল হাকিম সরকারী রাস্তা থেকে ইট তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী সড়কের ইট পাচার থামাতে ওই স্থানে গ্রাম পুলিশ পাঠান। মগনামা ইউপির কর্মরত গ্রাম পুলিশ মোস্তাক আহমদ, মোস্তফা কামাল কালু ও বুলু আরা বেগম সেখানে গিয়ে রাস্তা থেকে ইট লুট না করতে নিষেধ করছিলেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে মগনামার শীর্ষ সন্ত্রাসী আবদুল হাকিম, আবদুল মান্নান, নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন দুবৃর্ত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় তৈরী ধারালো অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে ৩ গ্রাম পুলিশ সদস্যকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। এদের মধ্যে গ্রাম পুলিশ মোস্তফা কামাল কালুকে ডানহাতে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাড়ভাঙ্গা জখম করা হয়েছে। মোস্তাক আহমদকে মুখমন্ডলসহ স্পর্শকাতর স্থানে জখম করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জখমী মোস্তফা কামাল জানান, আবদুল হাকিম একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। গত কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে ঘোরাফেরা করছে। চাঁদাবাজী, দখলবাজী করা তার কাজ। মানুষকে জিম্মী করে মুক্তিপণ আদায় ও অস্ত্র ঠেকিয়ে নিরীহ মানুষের অনেক জায়গা জমি জবর দখল করেছে। এলজিইডির রাস্তা থেকে ইট খোলে নিয়ে যাচ্ছিল। আমরা গিয়ে বাধা দিয়েছি। এরপর আবদুল হাকিম, তার ভাই আবদুল মান্নান, নুরুল ইসলাম, শফি আলমসহ সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে হামলা চালায়। গ্রাম পুলিশ মোস্তাক আহমদ জানান, পেশী শক্তির জোর দেখিয়ে সরকারী রাস্তা থেকে ইট নিয়ে যাচ্ছে। অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করেছে। মগনামা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম জানান, আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলা রয়েছে। সে দাগী প্রকৃতির লোক। ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ জানান, একটি বিশেষ বাহিনীর আধিপত্যবাদের কাছে মগনামার মানুষ জিম্মী রয়েছে। আবদুল হাকিম ওই বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী। মগনামা ইউপির নারী গ্রাম পুলিশ বুলুআরা বেগম জানান, অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে আমাদের উপর হামলা করতে। ছাত্রলীগ নেতা পারভেজ উদ্দিন নিশান জানান, আবদুল হাকিম একজন দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী। মগনামা কি অস্ত্রধারীদের হাতে জিম্মী থাকবে। মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী জানান, জনগন তাকে ধরে রাখছিল। পুলিশও এসেছিলেন। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির ইশরায় পুলিশ তাকে নিয়ে যাননি। আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় জিআর ৭/১৭, সিআর ৭৮৩/১৭সহ একাধিক মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। ওয়ারেন্টের বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার বলেন, আসলে তার বিরুদ্ধে কোন ওয়ারেন্ট নেই। স্ত্রী অন্ত:স্বত্তা। তাছাড়া সে নাকি শারীরিক অসুস্থতায় ভোগছিল।