August 9, 2026, 8:43 am

স্থগিত কেন্দ্রে ভোট : বারবাকিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়, নৌকার প্রার্থীর ভোট বর্জন

স্থগিত কেন্দ্রে ভোট : বারবাকিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়, নৌকার প্রার্থীর ভোট বর্জন

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থগিত কেন্দ্র ৬ নং ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) অনুষ্টিত নির্বাচনে নির্বাচনে বেসরকারীভাবে তৃতীয়বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এএইচএম বদিউল আলম। চশমা প্রতীক নিয়ে তার মোট প্রাপ্ত ভোট ৪৭৮৮। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী চেয়ারম্যান প্রার্থী আ’লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে জিএম আবুল কাসেম পেয়েছেন ৪৬১৮ ভোট। ১৭০ ভোটে নিকটতম প্রার্থীকে পরাজিত করে এ,এইচএম বদিউল আলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চলতি বছরের ২৮ নভেম্বর চুতর্থধাপের ইউপি নির্বাচনে বারবাকিয়াসহ পেকুয়ায় ৬ টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছিল। ওই দিন বারবাকিয়ার ৬ নং ওয়ার্ডের ফাঁসিয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। ওই নির্বাচনে ৮ টি কেন্দ্রের বেসরকারী ঘোষিত ফলাফলে নৌকার প্রার্থী জিএম আবুল কাসেম ৩০৪ ভোটে এগিয়ে ছিল। ৩০ ডিসেম্বর স্থগিত কেন্দ্রের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা প্রতীক নিয়ে এএইচএম বদিউল আলম পেয়েছেন ৬৭০ ভোট। একই কেন্দ্রে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জিএম আবুল কাসেম পেয়েছেন ১৯৬ ভোট। ওই কেন্দ্রে ভোটার ছিল ১৩৩৫ ভোট। ভোট গ্রহণ হয়েছে ৯৪৫ ভোট। তবে ক্ষমতাসীনদল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জিএম আবুল কাসেম নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দেন। ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে বারবাকিয়ায় ৬ নং ওয়ার্ড কেন্দ্রে ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। ওই দিন সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় উত্তেজিত লোকজন ও প্রশাসন মুখোমুখি হয়েছে। এর সুত্র ধরে সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলাকালীন সময়ে ক্ষমতাসীনদল আ’লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এএইচএম বদিউল আলমের সমর্থিত বিএনপি-জামায়াতের অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ হয়েছে। উত্তেজনা প্রশমিত করতে নির্বাচনে দায়িত্বরত থাকা পুলিশ ও আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক প্রস্ততি নেয়। এ সময় পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। গোলযোগের সুত্র ধরে আইন শৃংখলা বাহিনী কয়েকজনকে আটক করে। দুপুর ১২ টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ সময় ভোটাররা কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। তবে ওই নির্বাচনকে প্রহসন ও একপেশে দাবী করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী জিএমআবুল কাসেম। দুপুর ১ টার দিকে ক্ষমতাসীন দলের ওই প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের এ ঘোষণা দেন। সন্ধ্যার দিকে তিনি পেকুয়ায় সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। পেকুয়ার কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী জিএম আবুল কাসেম বলেন, এ নির্বাচন ছিল প্রহসন ও নীল নকশার। পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে যুদ্ধাপরাধীর গায়েবী জানাজা যিনি পড়িয়েছিলেন সেই মৌলানা বদিউল আলমকে ভোটে জিতিয়ে দিয়েছেন। নৌকা প্রার্থীকে পরাজিত করতে ৬০ লক্ষ টাকার মিশন ছিল। প্রশাসনের একটি অংশ ওই টাকা নিয়ে নৌকার নিশ্চিত বিজয়কে ছিনিয়ে নিয়েছেন। বদিউল আলমের পক্ষে পেশী শক্তি ছিল। নির্বাচনের পূর্ব সময় থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জামায়াত শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডাররা বারবাকিয়ায় অবস্থান নিয়েছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে ভোটের আগেই অবহিত করেছি। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাও একজন জামায়াতের সাবেক নেতা। বিতর্কিত ওই কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বাদ দেয়ার জন্য আমি ভোটের আগেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। মূলত ভোট কেন্দ্রে তারা সিল মেরে ব্যালট পেপার বক্সে ঢুকিয়ে দিয়েছে। আমার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর কেন্দ্রের নীচে দাড়িয়ে রাখে। কেন্দ্রের ভিতরে আমার এজেন্ট ছিল না। প্রশাসন বের করে দিয়েছে। ইউএনও মাইকিং করেছে চশমার সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে আসার জন্য। একজন ইউএনও কি আচরণ করেছে আমি দেখে অবাক হয়েছি। ভোটের একদিন আগে থেকে পুলিশ একপেশে আচরণ শুরু করে। আমার কয়েকজন কর্মী সমর্থককে ভোটের পূর্ব দিন রাস্তা থেকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। মূলত জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী বদিউল আলমকে নির্ভরতা দিতে সেটি করা হয়েছে। পেকুয়া উপজেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ছালামত উল্লাহ জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। এরপর যেহেতু চাকুরী করি। আর কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নেই। ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। সুন্দর একটা নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা বলেছেন, জিএম কাসেম সাহেব যে অভিযোগ করেছেন এর সঠিক প্রমাণ থাকতে হবে। সেখানে আইন শৃংখলাবাহিনী ছিল। প্রিন্ট ও ইলেকট্টনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা ছিলেন। ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com