August 9, 2026, 7:35 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় সর্বকনিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি হয়েছেন শাহেদুল ইসলাম। তার বয়স হচ্ছে ২৫ বছর। চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজের অধ্যয়নরত মেধাবী ছাত্র শাহেদুল ইসলাম গ্রামে এসে নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রতিনিধি। সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে ওই ছাত্র পেকুয়া সদরের ৮ নং ওয়ার্ড থেকে মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। তার নির্বাচনী প্রতীক ছিল মোরগ। হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীকে পরাজিত করে ১ম বার জনপ্রতিনিধি হয়েছেন শাহেদ। ছোটবেলা থেকেই চট্টগ্রাম শহরে বড় হয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ের পড়ালেখাও চট্টগ্রাম শহর থেকে শুরু। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকও শেষ করেছেন চট্টগ্রাম শহরে। বর্তমানে অনার্স ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজের নিয়মিত ছাত্র। বাংলা বিষয়ের উপর পড়ালেখা করছিল। শাহেদুল ইসলাম পেকুয়ার সর্বকনিষ্ঠ মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। ইউপি নির্বাচনে সিটি কলেজের ওই মেধাবী ছাত্র প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে। পেকুয়া সদরের ৮ নং ওয়ার্ডটি আয়তনের দিক থেকে সর্ববৃহৎ বলা যাবে। সবচেয়ে বেশী ভোটার অধ্যুষিত ওয়ার্ডও ওই ৮ নং ওয়ার্ড। এবারের নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রায় অর্ধডজন প্রার্থী ভোট করছিলেন। এদের মধ্যে কয়েকজন প্রার্থী হেভিওয়েট। শাহেদুল ইসলামের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৭৫৯। তার নিকটতম প্রার্থী ছিলেন মো: জকরিয়া। জকরিয়া ওই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার। এ ছাড়াও বর্তমান মেম্বার রিদুয়ানুল হকও প্রার্থী ছিলেন। সব প্রার্থীকে পিছিয়ে ফেলে কলেজ ছাত্র শাহেদ ছিনিয়ে এনেছেন বিজয়। কেন তিনি মেম্বার পদে ভোট করেছেন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের মেধাবী ছাত্র শাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন আমি বড় হয়েছি শহরে। কিন্তু গ্রাম ও এখানকার মানুষের প্রতি আমার হৃদ্যতার টান ছিল। আমি যেখানে জন্মগ্রহণ করেছি সেই ভূমির প্রতি কি যেন আলাদা টান ছিল। এতে করে আমি গ্রামে মিশতে এখানে চলে এসেছি। পড়ালেখা করেছি বড় চাকুরী বাকরী করবো এমন মানসিকতাও ছিল। কিন্তু গ্রামের প্রতি মায়া বেশী বলেই আমি এ মাটিকে নিয়ে ভাবছিলাম। আমার ওয়ার্ডটি অত্যন্ত অবহেলিত। এখানে উন্নয়নের দিক থেকে আমরা পিছিয়ে। বর্ষার সময় প্রতি বছর বন্যা হয়। মাতামুহুরীর নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। ঘর বাড়ি মানুষের যানমালের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে ফসল ও মৎস্যখাতের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। মাতামুহুরী নদীর অববাহিকায় বেড়িবাঁধ অরক্ষিত। আমার ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা নদী কেন্দ্রিক বেড়িবাঁধ। দ্রæত সময়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাছাড়া পূর্ব মেহেরনামা, সৈকতপাড়া, বলিরপাড়া, মোরারপাড়াসহ বেশ কিছু স্থানে রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই নাজুক। এ সব এলাকার মানুষ রাস্তাঘাট নিয়ে ভোগান্তিতে আছেন। আগে সে গুলিকে প্রাধান্য দিতে হবে। দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকার জনগনের উদ্দেশ্যে যে সুযোগ সুবিধাগুলি দিচ্ছে সেগুলির সুষ্ঠু বন্টন নিশ্চিত করবো। গরীব ও অসহায় মানুষকে সেবা করবো। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আমি যুবকদের নিয়ে কাজ করবো। আমি নিজেও এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিক মৎস্যচাষ করি। এ খাতকে মানুষের জন্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা থাকবে আমার।