August 9, 2026, 7:34 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় কারাগার থেকে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দুই হাজতি। ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ওই দুই ব্যক্তিকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করা হয়েছে। উপজেলার মগনামা ও সদর ইউপির পৃথক দুটি সাধারন ওয়ার্ড থেকে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন নুর মোহাম্মদ ও দিদারুল ইসলাম। একজনের বাড়ি উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বোর্ডিং পাড়ায় ও অন্যজনের বাড়ি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা গ্রামে। স্থানীয় সুত্র জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর অনুষ্টিত ইউপি নির্বাচনে পেকুয়ায় ৬ টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মগনামা ইউপির ৮ নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নুর মোহাম্মদ। মোরগ প্রতীক নিয়ে তিনি ৫৮৪ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে পেকুয়া সদর ইউপি নির্বাচনে ৬ নং ওয়ার্ড থেকে তালা প্রতীক নিয়ে মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন দিদারুল ইসলাম। তার প্রাপ্ত ভোট ৯৩৩। এ ২ জন জেলে থেকে ভোট করছিলেন। সাধারণ ওয়ার্ডের নির্বাচনে স্থানীয় জনগন বিপুল পার্থক্যে ওই ২ জনকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেন। সুত্র জানায়, একটি হত্যা মামলায় নুর মোহাম্মদকে আসামী করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। মগনামার চাঞ্চল্যকর জয়নাল হত্যা মামলায় বিজয়ী প্রার্থী নুর মোহাম্মদ আসামী। তবে ওই মামলায় তাকে হয়রানিমুলক জড়ানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা ও তার পরিবার দাবী করেন। ইউপি নির্বাচনে নুর মোহাম্মদ মগনামা ইউপির ৮ নং ওয়ার্ড থেকে জেলে থাকা অবস্থায় প্রার্থী হয়েছেন। কারা অন্তরীণ অবস্থায় জনগন তাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত করেন। অপরদিকে সদর ইউপির ৬ নং ওয়ার্ড থেকে মেম্বার পদে ভোট করছিলেন পল্লী চিকিৎসক ও সাবেক ইউপি সদস্য দিদারুল ইসলাম। তিনি ওই ওয়ার্ডে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তবে নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে তাকে পুলিশ আটক করে। ৩১ অক্টোবর পেকুয়া থানা পুলিশ গভীর রাতে মেম্বার প্রার্থী দিদারুল ইসলামকে উত্তর মেহেরনামার নিজ বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় নাশকতা মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। ১৩ অক্টোবর মন্দিরের গেইট ভাংচুর হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা রেকর্ড করে। তবে পুলিশ বাদী মামলায় দিদারুল ইসলাম এজাহারভূক্ত আসামী ছিলেন না। এর দুই সপ্তাহ পর পেকুয়া থানা পুলিশ সন্দেহ ভাজন আসামী হিসেবে তাকে আটক দেখায়। দিদারুল ইসলামের স্ত্রী সাবেকগুলদি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জিগার আক্তার বানু বলেন, আমার স্বামী নির্দোষ। ভোট করছিলেন বলে তার উপর গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে। এ অবিচারের জবাব দিয়েছে এখানকার সাধারণ জনগন ভোটের মাধ্যমে। মেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ের ছাত্রী মারুফা তসলিমা জানান, একজন নাগরিকের উপর আইনের বরখেলাপ হয়েছে। আমার আব্বা নিরাপরাধ। চট্টগ্রাম কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিষয়ের ছাত্রী মেম্বার দিদারের মেয়ে জন্নাতুল নাঈমা জানান, আয়ের প্রধান উৎস আমার পিতা। আমরা ছেলে মেয়েদের পড়ালেখায় অনিশ্চিত তৈরী হয়েছে। এ কেমন শত্রæতামি একজন ভাল মানুষকে নিয়ে। মগনামা ইউপির ৮ নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদের ছোট ভাই ইয়ার মোহাম্মদ বলেন, আমার ভাই ভাল মানুষ। ভদ্র, ন¤্র ও ন্যায় পরায়ণ হিসেবে মানুষ তাকে চিনে ও জানে। ওয়াসিম চেয়ারম্যানের প্রতিহিংসামুলক আচরণে আমার ভাইকে হত্যা মামলায় মিথ্যা দায় দিয়ে জড়ানো হয়েছে। আমার দুই ভাই ওই মামলায় আসামী। বড় ভাই অলি আহমদ জানান, আমাদের পরিবার আজ নি:স্ব হয়েছে। দুই ভাইকে কিভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে সেটি এখানকার প্রত্যেক মানুষ জানেন। চকরিয়ায় তাকে ধরে ওয়াসিমের সন্ত্রাসীরা নিষ্টুর মারধর করেছে। এরপর মূমুর্ষূ অবস্থায় ছোট ভাই নুর মোহাম্মদকে পুলিশে দিয়েছে। আমাদের শরীরের চামড়া জুতায় সেলাই করে মানুষকে দিলেও এ প্রতিদান শোধ করা যাবে না। আমার ভাইকে জেলে থাকা অবস্থায় একটি এক টাকার নোটও খরচ ছাড়া মেম্বার করেছেন।