August 9, 2026, 12:04 pm

পেকুয়ায় টানা বর্ষনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি!!

পেকুয়ায় টানা বর্ষনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি!!

সাইফুল ইসলাম বাবুলঃ.

পেকুয়ায় টানা বর্ষনে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে ৪৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। সাগর ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি আর পাহাড় থেকে প্রবাহিত বৃষ্টির পানির কারণে বিভিন্ন
স্থানের বেড়ী বাঁধে ভাঙ্গন, জলাবদ্ধতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে পেকুয়া উপজেলা গ্রামীন জনপদের মানুষ। চলতি বর্ষার মৌসুমে গত কয়েকদিনের টানা বর্ষনের ফলে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় এঅচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৩ জুলাই থেকে মৌসুমী লঘু চাপের কারনে ঝড়ের টানা বর্ষন শুরু হয়। সেদিন থেকে ভারী বৃষ্টিপাত আর পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলা জুড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার উজানটিয়া বেড়ীবাঁধের একটি অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছ। বাঁধ ভেঙে সাগরের পানি ঢুকে স্রোতের টানে তলিয়ে গেছে ছোট -বড় অসংখ্য চিংড়ি ঘের। চাষীদের মওজুদ করা লবন। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মৎস্য ও লবন চাষীরা। এব্যাপারে ইউপি চেয়াম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিধ্বস্ত বেড়ী বাঁধ ও ভাঙ্গনকৃত বাঁধ সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন মহলকে অভিহিত করা হয়েছে।

পেকুয়া সদর, শিলখালী বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়ে দুই তৃতীয়াংশ এলাকা জুড়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। অন্যদিকে মগনামা ও রাজাখালীতেও কয়েক দিনের ভারী বর্ষনে প্লাবিত হয়েছে নিম্ন এলাকা। সাগর, নদ-নদীর পানি স্বভাবিকের চাইতে বৃদ্ধি ও টানা বর্ষনের ফলে উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়নের গ্রামীন সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ওইসব এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নিত্য দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে হত-দরিদ্র জন গোষ্টি।

পেকুয়া-চকরিয়ার সিমান্ত ব্রীজ পহারচাদা মাদ্রসা থেকে পেকুয়া সালাউদ্দিন ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় পৌনে ৪কি: মি: সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে চকরিয়া পেকুয়া-বরইতলী-মগনামা সড়কের জনযাতায়তে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও বানের পানি বৃদ্ধির ফলে তাদের পানের বরজ, শাক-সবজী ও আগাম তৈরী ধানের বীজতলা পানির নীচে নিমজ্জ্বিত হয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ এখনো নেয়নি ক্ষতি গ্রস্তদের কোন খবরা-খবর। উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম প্রকাশ বজল মেম্বার জানান, মুনাফালোভী মৎস্যঘেরের মালিকরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে নানা ভাবে স্লুইসগেট বন্ধ করে পানি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে রাখায় ওই ইউনিয়নের প্রায় সব পাড়া-মহল্লায় জলাবদ্ধতা ধারন করেছে চরম আকার। বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন তাঁর দোহায় দিয়ে স্লুইসগেট গেইট বন্ধ বা ব্যবহার করে যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করা হয়েছে এতে তার নূন্যতম সম্পর্ক্য নেই। সুতারাং এদের চিন্নিত করে আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ করছি।

উপজেলার সমুদ্র তীরবর্তী মগনামা ইউনিয়নে অতিবৃষ্ট, সাগর ও নদ-নদীর পানি অবাধে প্রবেশের কারণে ইউনিয়নটির অধিকাংশ পাড়া-মহল্লা ও রাস্তাঘাট পানিতে কয়েকদিন ধরে নিমজ্জিত। ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও পানি চলাচলের কারণে সেখানকার মানুষও গৃহবন্দী হয়ে আছে গত কয়েকদিন যাবত। গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোতাছেম বিল্লাহ ও ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম জলাবদ্ধতাপূর্ণ বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছে। পরে পানিবন্ধি ১৩০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহের নামা এলাকার বেশ কয়কটি অংশ দিয়ে মাতামুহুরী ও তার শাখা নদী-খালের পাউবোর বিভিন্ন বেড়ীবাঁধ উপচে পড়ে বানের পানি ঢুকে প্রায় সব গ্রামীন অবকাটামো, রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে পড়ায় মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। পানি ঢুকে সেখানে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক জলাবদ্ধতা। একই সাথে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে সরেজমিনে ঘুরে দেখলাম, পেকুয়া সদরের পুর্বমেহেরনামা, মুরারপাড়া, বলিরপাড়া, নন্দির পাড়া, হরিণাফাঁড়ি, সাবেকগুলদী, সরকারি ঘোনা, বিলহাচুরা, ছিরাদিয়া, বাংলা পাড়া ও টেকপাড়াসহ পেকুয়া উপজেলার অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। বেশী ঝুঁকিতে গবাদিপশু সহ কাছাবাড়ী ঘর। এছাড়া উপজেলার তিন পাহাড়ী জন পদে পাহাড় ধ্বস ও পাহাড়ী ঢলের কারনে গত দু’দিন ধরে সেখানকার লোকালয়ের মানুষও টানা বর্ষনের জের ধরে ঘর থেকে বের হতে না পারায় এক প্রকার গৃহবন্দী হয়েই দিনাতিপাত করতে বাধ্য হচ্ছেন। মাঝে মধ্যে বৃষ্টির মাত্রা কমলেও রাস্তাঘাটের দূরবস্থার কারণে দূর্ঘটনা ও ঝঁক্কি-ঝামেলার আশংকায় ঘর থেকে বের হবার সাহস পাচ্ছেনা। এদিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নে পূর্ব মেহেরনামা পয়েন্ট দিয়ে বেড়ীবাঁধের একটি অংশ ভেঙ্গে প্রবাহমান মাতামহুরী খালের উপর দিয়ে ভয়ে যাওয়া ঢলের পানি প্রবেশ করছে পেকুয়ার লোকালয়ে। তলিয়ে গেছে গ্রমীন সড়ক ও অশংখ্য ঘরবাড়ি।

পেকুয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ মোতাছেম বিল্লাহ ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহ বেড়ীবাঁধ পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় ভেঙ্গে যাওয়া অংশে বালির বস্তা ও মাটি দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করলেও খর স্রেতের টানে ব্যার্থ হয়। এবারের টানা বর্ষনে সবচেয়ে বেশী ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে পুরো উপজেলার নিম্ন আয়ের লোকজন।

একদিকে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর লকডাউন অন্যদিকে বানের পানিতে ভাসছে পেকুয়ার মানুষের জনজিবন। এরই মধ্যেই কর্মহীন বেকারত্বের কবলে পড়ে অনেকেই আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে দিনাতিপাত করছে। অথচ চরম অনিশ্চিয়তার মুখে পড়া এসব মানুষের ভোগান্তি নিরসনে প্রশাসন শুকনো খাবার নিয়ে পাশে দাড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com