August 9, 2026, 9:32 am
মো, ফোরকান উদ্দিন
মিডিয়ায় চোখ রাখলেই এমন কিছু নিউজ চোখে পড়ে মনটা হাহাকার হয়ে উঠে, গতসপ্তাহে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে এক ৩৮ বছরের নারীর মৃত্যু এবং বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন,এই শেষ বিদায়ের মুহুর্তে পাশে ছিলোনা অতি প্রিয়জন স্বামী, সন্তান বাবা মা আত্বীয় স্বজন। স্বামী স্ত্রীকে ভর্তি করেই ঔষধ আনার কথা বলে লাপাত্তা হয়ে যান, বাড়ীর যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে সেখানে ও খোজ করে কাউকে পাওয়া যায়নি। ২০- ২২ বছরের সংসার জীবনে মা বাবার চেয়েও যাকে আপন করে নিয়েছিলেন সেই প্রিয়তম স্বামীকেও বিদায় বেলা কাছে পেলোনা কি দুর্ভাগ্য? কি হতভাগ্য জীবন?সামন্য মৃত্য ভয় আমাদের এতোই স্বার্থপর করেছে যেন কেয়ামতে হিসাব নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। এখানে দাড়ালেই মুল্যবান ছওয়াব দিয়ে দিতে হবে অথবা জীবনটা! অথচ এই জীবন কারো চিরস্থায়ী নয়। আপনি বাবা, মা বা আত্বীয় স্বজনকে করোনার ভয়ে সিকিৎসা বা একটু সহানুভুতি অথবা শেষ বিদায়ে একটু শ্রাদ্ধ করতে ভয় পাচ্ছেন? একবার ভেবে দেখুনতো?আপনার বাবার লাশ, মায়ের লাশ প্রিয়তমা স্ত্রীর লাশ, যে মানবিক সংঘঠন বা সেচ্ছাসেবী মানবিক মানুষগুলো জীবনকে তুচ্ছ করে আপনারই প্রিয়জনের লাশ ধোয়া থেকে শুরু করে কবরে দেওয়া পর্যন্ত্য নির্ভয়ে বা মৃত্যকে ভয় না করে অতী আপনজনের মতো যত্ন করে চির বিদায় দিচ্ছে? অথচ এই কাজটি ছিলো আপনার দায়িত্বে!কিন্ত আপনি করোনা আক্রান্ত বা মৃত্যু ভয়ে পালিয়ে গেলেন।তারা চাইলে আপনার বাবা মা প্রিয়তমাকে কুকুর বিড়ালের খাদ্য বানাতে পারতো না তা তারা করেনি তারা পুলিশ, তারা সেচ্ছাসেবী তারা মানবিক তারা যানে যে এ জীবন সাময়িক আমরা যদি মানুষের বিপদে এগিয়ে না আসি মানবতা কলংকীত হবে। কাল হাশরের ময়দানে এই অমানবিকতা নিষ্টুরতার জন্য আল্লাহর দরবারে জওয়াব দিহী করতে হবে।আপনি পালিয়ে গিয়ে কয় বছর বাচবেন? আপনার মৃত্যু এর চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে। মনে রাখবেন মৃত্যু আল্লাহ পক্ষথেকে অবশ্যই নির্ধারিত, করোনায় হোক সড়ক দুর্ঘঠনায়,অন্য রোগে শোকে বা স্বাভাবিক। আমি মনে করি এই করোনা আল্লাহর পক্ষথেকে এক পরিক্ষা,এই পরিক্ষায় মানুষ ও মানবতার অবশ্যই জয় হতে হবে,অন্যতায় আখেরাতের অনন্তকাল ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকায় অন্তরভুক্তি হয়ে থাকতে হবে।
আসুন আমরা করোনায় আক্রান্ত রোগী,আত্বীয় স্বজন করোনায় মৃত লাশের প্রতি মানবিক আচরণ ও তার প্রাপ্য হক আদায় করি।আমরা অবশ্যই স্বাস্ত্যবিধি ও সরকারের নির্দেশনা মেনে করোনা রোগীর সেবা মৃত সৎকারে অংশগ্রহন করতে পারবো। অন্যতায় আমাদের সামাজিক পরিবারিক আত্বীয়তার বন্ধনে মারাত্তক কালিমা লিপ্ত ও মানবিক বিপর্য়য় নেমে আসবে। এতে মহান আল্লাহর গজব আরো দ্বীর্ঘ ও মারাত্তক হতে পারে। আল্লাহ সবাইকে বুজার তৌফিক দান করুন আমীন।