August 9, 2026, 10:43 am
গত ২৪ এপ্রিল দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে পেকুয়ায় থানায় অভিযোগ দেয়ায় কেটে নিল জমির ধান শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদটি সঠিক নয় বিধায় আমি ওই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সংবাদের মর্মমতে আমি ও আমার পরিবার কারো জমি থেকে ধান কেটে নিয়ে যায়নি। সংবাদের তথ্য উপস্থাপনকারী কফিল উদ্দিন একজন মিথ্যাবাদী ও ষড়যন্ত্রকারী। বারবাকিয়া মৌজার যে ৯ শতক জমি নিয়ে কথা বলা হয়েছে তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। মূলত আমরাই ওই জমিতে চলতি বুরো মৌসুমে ফসল রোপন করি। ফসলগুলি আমরা কেটে নিয়ে গেছি। এখানে কফিলের কোন যৌক্তিক দাবী থাকতে পারেনা। কফিল একের পর এক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদেরকে নিয়ে বার বার চক্রান্ত করছে। সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে সে লাগামহীন অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। আমি প্রতিবাদকারী একজন অসুস্থ মানুষ। হাটা চলাও করতে পারিনা। বলা হয়েছে আমি জমিতে এসে ধান কেটে নিয়ে গেছি। আপনারা আমার শারীরিক অবস্থা দেখলে বুঝতে পারবেন কফিলের বক্তব্য ও বাস্তবতা কতটুকু অমিল। আমি অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করে চলতেছিলাম। পেকুয়া বাজারের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ছিলাম। বাজার পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারীও ছিলাম। কৃষকলীগ পেকুয়া উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বর্তমানে কৃষকলীগ জেলা কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছি। সিপিপি বারবাকিয়া ইউনিয়নের ২ নং ইউনিটের টীম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন রত অবস্থায় আছি। আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক মান মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে কফিল এ ভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। বিরোধীয় জমিটি আমার বাবার একক আরএস রেকর্ডীয় সম্পত্তি। বিএস রেকর্ডে ৭২ শতক জমির হারাহারি মালিক আমার পিতা ওমর মিয়া ও আমাদের চাচা আহমদুর রহমান। ৩৬ শতক করে তারা ২ জন জমিটির মালিক। তবে বিএস ৬১২ নং খতিয়ান থেকে আগত জমি আমার পৈত্রিক অংশে আমরা যুগ যুগ ধরে চাষাবাদ করে জমিটির ভোগ দখলে রয়েছি। আহমদুর রহমান তার অংশ থেকে একাধিক ব্যক্তিকে জমি রেজিষ্ট্রি দেন। এবিসি সড়ক নির্মাণের সময় ২৪ শতক জমি অধিগ্রহণ করেন। অধিগ্রহনের ক্ষতি পূরণের টাকা আহমদ মিয়ার ছেলে ইব্রাহীম গং উত্তোলন করেন। এরপর মাষ্টার নুরুল আবছার গংকে ১৮ শতক জমি বিক্রি করে আহমদ মিয়া। এরপর কফিলের পিতা মফজল মিয়াকে আহমদ মিয়া ৯ শতক জায়গা বিক্রি করেন। তবে কফিলের পিতা সর্বশেষ যেই ৯ শতক জমি ক্রয় করেছেন তা ঝুলন্ত অবস্থার মধ্যে রয়েছে। আহমদ মিয়ার স্বত্ত আগে বিক্রি হওয়ায় ওই ৯ শতকের ওই দলিলটি নি:স্বত্তবান হয়ে যায়। যা নিয়ে পরবর্তীতে বিরোধ ও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আহমদ মিয়া ৬১২ খতিয়ান থেকে প্রাপ্ত অংশের চেয়ে অধিক জমি আগেই বিক্রি করে ফেলেন। এখন কফিল নি:স্বত্ত দলিল নিয়ে দ্বন্দ ও ফ্যাসাদে জড়িয়ে গেছে। আমাদের জমিতে আছি আগেও ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকব। এখানে কফিলের আপত্তির সঠিক কোন দালিলিক প্রমাণ ও যৌক্তিকতা নেই। সম্প্রতি একটি বিতর্কিত সালিশি রোয়েদাদ নিয়ে তারা আমাদের জমি জবর দখলের পায়তারা করছে। উক্ত সালিশি রোয়েদাদে দিচ্ছে বিভ্রান্তিকর তপশীল যা পড়ে দেখলে আসল চিত্র দেখতে পারবেন। ইতিপূর্বে কফিল গং আমার ছোট ভাই আবুল কালামকে কুপিয়ে জখম করে এবং পরে প্রতিবাদকারী আমি আবদুল মান্নানকেও মারধর করে। ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় পেকুয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মামলা নং সিআর ২০৭/১৯। এরপরে বুধামাঝিরঘোনায় আবুল কালামের পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নেওয়া জায়গা নিয়ে তারা আমাদের সাথে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। ওই জায়গার ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এমআর ৬২৩/২০ মামলা চলমান রয়েছে। তারা আমাদের ফসলি জমিতে ৩ টি স্থানে বুধামাঝিরঘোনা, বারাইয়াকাটা, পেকুয়া সদরের হরিণাফাড়িতে বিরোধে জড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এ সব জমি নিয়ে তারা আমাদের উপর নজিরবিহীন হয়রানি ও অন্যায়ে লিপ্ত রয়েছে। এ সব বিষয় নিয়ে তারা একাধিকবার আমাদের উপর হামলা, মামলা ও তান্ডব চালায়। পেকুয়া থানায় অনেক অভিযোগ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তারা প্রকৃতপক্ষে অসৎ ও খারাপ প্রকৃতির লোক। পরধনলোভী ও দেশের আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শনকারী ব্যক্তি হন। তারা মিথ্যাকে সত্য হিসেবে জায়েজ করার জন্য রং ছিটানো কল্পকাহিনীতে জড়িত রয়েছে। মিথ্যাবাদী ওই চক্রের কাছে আমরাসহ আরো অনেক মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। কফিল একজন মধ্যস্বত্তভোগী। দালালী করা তার পেশা। মানুষের সাথে দ্বন্দে জড়িয়ে সুবিধা আদায় করা তার কাজ। ইতিপূর্বে কফিলের দালালীর প্রমাণ মিলেছে। মানুষ প্রতারিত হয়েছে অনেক। এ প্রমাণ আমরা দিতে পারবো। একজন ব্রোকার নিরীহ মানুষদের নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করলে কারো জমি পাওয়া যায়না। সুতারাং আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করবো এ রকম ধান্দাবাজদের অপপ্রচার নিয়ে আপনারা বিভ্রান্ত হবেননা। আপনারা সঠিক বিষয়টি জেনে কে ভাল কে খারাপ সে বিষয়ে অনুসন্ধান চালান। সুতারাং প্রকাশিত সংবাদ সত্য নয় বিধায় আমি ওই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে সরকারের প্রশাসনযন্ত্র, সুশীল সমাজ ও পত্রিকার পাঠক সমাজকে বিভ্রান্ত না হওয়ার সবিনয় অনুরোধ করছি।
প্রতিবাদকারী
আবদুল মান্নান
পিতা: মৃত ওমর মিয়া
ঠিকানা: ওয়ার্ড নং-৪, বারাইয়াকাটা, ইউনিয়ন: বারবাকিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার।