August 9, 2026, 7:37 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় স্ত্রীকে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে জখম করলেন স্বামী। স্থানীয়রা উদ্ধার করে নব বিবাহিতা ওই গৃহবধূকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ২৫ এপ্রিল ও ২৪ এপ্রিল বারবাকিয়া ইউনিয়নের আন্নরআলী পাড়ায় দু’দফা এ ঘটনা ঘটে। জখমী গৃহবধূর নাম কাউছার জন্নাত (২১)। তিনি ওই এলাকার মো: জয়নাল মিয়ার স্ত্রী। স্থানীয় সুত্র জানায়, যৌতুক চাওয়া নিয়ে কাউছার জন্নাত ও স্বামী জয়নাল মিয়ার মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর সুত্র ধরে স্বামী জয়নাল মিয়া স্ত্রী কাউছার জন্নাতকে দু’দিন ধরে কয়েক দফা মারধর করে। ২৪ এপ্রিল রাতে ওই গৃহবধূকে ব্যাপক শারীরিক মারধর করা হয়েছে। মারধর করে তাকে বাড়ির একটি কক্ষে আটকিয়ে রাখে। পরদিন ২৫ এপ্রিল ফের মারধর চালানো হয়। এক পর্যায়ে ওই নারীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে সর্বশরীরে জখম করা হয়েছে। এমনকি ওই দিন রাতেই গৃহবধূ কাউছার জন্নাতকে রশি দিয়ে চৌকির খুঁটিতে বেধেঁ রাখা হয়। রমজান মাসে সেহেরীর সময়ে রোজা রাখতে খাবার খোঁজছিলেন। কিন্তু স্বামীসহ শাশুড়বাড়ীর লোকজন তাকে রোজাও রাখতে দেননি। এ ব্যাপারে গৃহবধূ কাউছার জন্নাত জানান, ৪ মাস আগে আমার বিবাহ হয়েছে। আমার পিতা রাহমত উল্লাহ মেয়ের বিয়ের সময় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খরচ করেন। ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দিয়েছিলেন। এরপর পিতার টাকা থেকে স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও কাপড় চোপড়সহ বিয়ের আনুসাংগিক ব্যয়ভার বহন করে। এক মাসের ব্যবধানে আমার স্বামী মো: জয়নাল মিয়া যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। যৌতুক না পেয়ে আমাকে বার বার মারধর করা হয়েছে। আমি কয়েকবার পিতার বাড়িতে থেকে গিয়েছিলাম। সংসার রক্ষার জন্য বার বার এসেছি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কয়েকবার বিষয়টি সমাধান করেন। সম্প্রতি একই দাবীতে আমাকে বার বার মারধর করা হচ্ছে। দু’দফা নিষ্টুর শারীরিক জখম করে আমাকে। আমার শরীরের চামড়ায় পিটুনির দাগ স্পষ্ট রয়েছে। চামড়া কাল হয়ে গেছে। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আমাকে জখম করা হয়েছে। রশি দিয়ে বেঁধে রেখেছে পালংয়ের খুঁটিতে। তারা আমাকে রোজাও রাখতে দেয়নি। এ ব্যাপারে শিলখালী ইউপির সদস্য শাহাব উদ্দিন জানান, মেয়েটির সর্বশরীরে জখম করা হয়েছে। একজন মেয়ে অপরাধ করলেও এ ভাবে মারতে হবে সেটি দেখে অবাক হয়েছি। শিলখালীর স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা আ’লীগ নেতা বশির আহমদ জানান, ওরা কি মানুষ। নাকি জানোয়ার। থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এস,আই মিন্নাত আলীকে এর দায়িত্বভার ন্যস্ত করা হয়েছে।