August 9, 2026, 10:30 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় স্ক্যাভেটর দিয়ে ৩ টি ব্যবসা প্রতিষ্টান গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিনা নোটিশে পুলিশের উপস্থিতিতে ৩ টি দোকান গুড়িয়ে দেয়ার এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ অমানবিক আচরণের জন্য কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার এসপি সার্কেল তৌফিকুল আলম ও পেকুয়া থানার এস,আই হেফজুর রহমানের নাম উল্লেখ করে এ কান্ডের জন্য পুলিশকে দায়ী করা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল (বুধবার) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলেজ গেইট চৌমুহনীর উত্তর পাশের্^ এবিসি সড়কের এস,এ গ্যস পাম্পের নিকটে ৩ টি দোকানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় বিরোধীয় জায়গা থেকে ৩ টি স্থাপনা উচ্ছেদ করতে স্ক্যাভেটর নামানো হয়েছে। শক্তিশালী স্ক্যাভেটর যন্ত্রের ধাক্কায় এবিসি সড়কের মূল পয়েন্টে ৩ টি দোকান ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্টান মিশিয়ে দেয়া হয়। এদিকে বিরোধীয় জমিতে স্থাপিত ব্যবসা প্রতিষ্টান গুড়িয়ে দেয়ার জন্য চকরিয়া-পেকুয়ার দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) তৌফিকুল আলমকে দায়ী করা হয়েছে। দোকান ৩ টি গুড়িয়ে দেয়ার কয়েক ঘন্টা পর পেকুয়ায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়েছে। ওই দিন বিকেলে অনুষ্টিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দোকানের মালিক পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লাঘোনার মৃত আমির হোছাইনের পুত্র চৌমুহনীর ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নুর মোহাম্মদের স্ত্রী কহিনুর আক্তার, বোন নুরুননাহার বেগম, দোকানের ভাড়াটিয়া ও সার্ভিসিং সেন্টারের স্বত্তাধিকারী চট্টগ্রামের হাজীপাড়ার বাসিন্দা মো: পারভেজ প্রমুখ। এ সময় পেকুয়ায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্যে নুর মোহাম্মদ জানান, ১৪ এপ্রিল বুধবার আমার মালিকানাধীন ৩ টি ব্যবসা প্রতিষ্টান গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রমজানের ১ম দিনে আমার ৩ টি দোকানে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। মকছুদ গংদের পক্ষে কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার তৌফিকুল আলম ও পেকুয়া থানার এস,আই হেফজুর রহমানের উপস্থিতিতে ভাড়াটে সন্ত্রাসীসহ আমার দোকানে হানা দেয়। এ সময় স্ক্যাভেটর দিয়ে ৩ টি দোকানে তান্ডব চালানো হয়েছে। পুলিশ ২ দিন আগে এসে হাকাবকা ও হুমকি ধমকি দিয়েছিলেন। আজকে এর বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। জায়গাটি আমার খরিদ সম্পত্তি। বিএস খতিয়ান ৩৯৮ থেকে মাসুমা খাতুন নামক মহিলার কাছ থেকে আমি ৭.৮১ শতক জায়গা ক্রয় করি। ক্রয়কৃত জমিতে আমি ৭/৮ মাস আগে ৩ টি দোকান নির্মাণ করি। এ ৩ টি দোকান আমি ব্যবসায়ীদেরকে ভাড়ায় দিয়েছি। মকছুদ গং জায়গা নিয়ে আমার সঙ্গে বিরোধে জড়ান। তারা এর আগে দোকান দখলের পায়তারা করে। চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা দায়ের করা হয়েছে মকছুদ গংদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও জবর দখল ঠেকাতে মকছুদ গংদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এম,আর মামলা রুজু আছে। যার নং ২২২/২১। জায়গা নিয়ে উভয়পক্ষের মামলা মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। তবে এ সব না মেনে মকছুদ গং বুধবার সকালে স্ক্যাভেটর নিয়ে দোকান গুড়িয়ে দেয়ার পায়তারায় লিপ্ত হয়। মকছুদ গংদের পক্ষে অবস্থান নেন এস,পি সার্কেল তৌফিকুল আলমসহ পুলিশ সদস্যরা। তারা পুলিশের পোশাক পরে সরকারী অস্ত্র নিয়ে বিরোধীয় জায়গায় অবস্থান করে দোকানে আক্রমন চালায়। আমি এ অন্যায় ঘটনার সুষ্টু তদন্ত দাবী করছি। এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে নুর মোহাম্মদের স্ত্রী কহিনুর আক্তার জানান, আমরা গিয়ে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছি। মকছুদ গং পুলিশের উপস্থিতিতে ভাংচুর চালায়। এমনকি আমাকেও হেনস্থা করা হয়েছে। দোকানের ভাড়াটিয়া পারভেজ জানান, আমার প্রতিষ্টানে ৬ লক্ষ টাকার মালামাল ছিল। কোন নোটিশ দেয়া হয়নি। পূর্ব সতর্কীকরণও করা হয়নি। বিরোধীয় বিষয়টি নিস্পত্তি করার এখতিয়ার কেবলমাত্র আদালতের আছে। উচ্ছেদ মামলা ছাড়া একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা এসপি সার্কেল নিজে এসে কিভাবে অপরজনের দখলীয় দোকানঘর গুড়িয়ে দিতে পারে আমার প্রশ্ন হচ্ছে সেটি। এখন আমাদের পথে বসে ছাড়া আর কিছুই নেই। পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানান, দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি আমরা জানিনা। বিনা নোটিশে পুলিশ গিয়ে স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ওসি তদন্ত কানন সরকার এ প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন, আমি আসলে সারাদিন বাইরে ছিলাম। এ ব্যাপারে কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার এসপি সার্কেল তৌফিকুল আলম জানান, এ সম্পর্কিত বিষয়ে আমার সম্পৃক্ততা নেই। আমি লকডাউনে টহল দিতে পেকুয়ায় গিয়েছিলাম। চৌমুহনীতে দোকান ভাংচুর হচ্ছে এ খবর জানতে পেরে শান্তিশৃংখলার অবনতি না ঘটানোর জন্য এস,আই হেফজুরকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম।