August 9, 2026, 9:33 am
চকরিয়া সংবাদদাতা:
চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে জমির বিরোধে মেম্বারসহ দু’পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে। তারা হলেন স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল আবছার, তার ছোট ভাই নুর হোসেন বাদশা ও বৈরাগিরখীল এলাকার বাসিন্দা আশফাক উদ্দিন চৌধুরী মুকুল। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় স্থানীয় বালুরচর এলাকায় পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনা সুত্রে জানা যায়, বৈরাগিরখীল এলাকার মরহুম শাহাব উদ্দিন চৌধুরীর পুত্র আশফাক উদ্দিন মুকুল তার ফুফু তাহেরা বেগম মালিকানাধীন ধান্য জমির লাগিয়তের টাকা না দেয়ায় ঘটনার সুত্রপাত ঘটে। বিগত সময়ে তাহেরা বেগমের নিজস্ব বিএস ৭৭৬ নং খতিয়ানের ৩৪৪৩, ৩৪৪৪, ৩৪৪৫ দাগের ১ একর ৮২ শতক জমি চাষাবাদ করতো মুকুলের বড়ভাই মরহুম আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী খোকন। তিনি প্রতি সনসন লাগিয়তের টাকা চট্টগ্রাম শহরে বসবাসরত ফুফু তাহেরা বেগমের নিকট পাঠিয়ে দিতেন।
বিগত ৩ বছর আগে খোকন মৃত্যু পর থেকে ওই জমিতে চাষাবাদ করেন তার ছোটভাই আশফাক উদ্দিন চৌধুরী মুকুল। কিন্তু সে কোনপ্রকার লাগিয়তের টাকা না দেয়ায় উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
বিরোধ নিষ্পত্তি করতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও পরে থানায় আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। তাতে আপোষ না হলে উভয় পক্ষ চকরিয়া ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে। এ মামলার তদন্তের দায়িত্বভার অর্পণ করে চকরিয়া থানা পুলিশকে। এসআই জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই জমিতে হস্তক্ষেপ না করে উভয় পক্ষকে জানান। ওই সময় পর্যন্ত বিরোধীয় জমি দেখাশোনা করতে স্থানীয় মেম্বার নুরুল আবছারকে দায়িত্ব দেন। ঘটনারদিন শুক্রবার বিকেলে বিরোধীয় সেই জমিতে কীটনাশক দিচ্ছিল মুকুলের চাষা রিদুয়ান। এসময় মেম্বার নুরুল আবছার ও শেয়ারদার মোক্তার আহমদ তাদের মছঘোনায় পোনা ছাড়তে যায়।
মেম্বার জানান, বিরোধীয় ওই জমিতে বিনা অনুমতিতে রিদুয়ানকে কীটনাশক দিতে দেকে তাকে নিষেধ করলে আড়াল থেকে এসে মুকুল ও বালুরচর এলাকার এহসান, নোমান, রিদুয়ান মেম্বারকে আঘাত পূর্বক লাঞ্চিত করে। এরই সাথে মোক্তারকে মারধর করে ১ লাখ ৫ হাজার চিংড়ীর পোনা ঘের’এর বাইরে ফেলে নষ্ট করে দেয়। ঘটনার পর, একই দিন সন্ধ্যায় বালুরচর রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় মেম্বার আবছারকে গতিরোধের চেষ্টা করলে তার ছোটভাই নুর হোসেন বাদশা ঘটনাস্থলে আসলে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়।
তিনি আরো বলেন, বাদশাকে মারধরের একপর্যায়ে অন্ডকোষ চেপে ধরায় মুকুলের মুখে কামড় ধরে বাদশা। এতে বাদশা ও মুকুল উভয়ই আহত হয়েছে। উপস্থিত লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ বিষয় জানতে আশফাক উদ্দিন চৌধুরী মুকুলের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে সংযোগ পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে তদন্তকারী চকরিয়া থানার এসআই মোঃ জসিম উদ্দিনের মোবাইলে রবিবার রাত ১০ টা ২০ মিনিটে ফোন দিলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।