August 9, 2026, 8:39 am
চকরিয়া প্রতিনিধি:
মসজিদে নামাজ’রত মুসল্লিকে হত্যাকান্ডের দীর্ঘ সময় পর জড়িত চক্রটি আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এবার হত্যার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে ঘটিয়েছে কোপাকুপির ঘটনা। আহত হয়েছে যুবলীগ নেতাসহ ৫ জন। আহতদের ফের মৃত্যুর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে হামলাকারী দল।
এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী উত্তর ফুলছড়ি এলাকায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আবারও খুনখারাবির আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, উত্তর ফুলছড়িতে গত রবিবার সকালে তুচ্ছ বিষয়ের শালিস বৈঠক বসেন এলাকার মুরব্বি নুরুল ইসলাম হেলালি। বৈঠকের মাঝখানে একটি পক্ষ অতর্কিত অবস্থায় দা, হাতুড়ি, বেলচা দিয়ে হামলা চালায়।
আহতরা হলেন, ওই এলাকার মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে ছালামত উল্লাহ বাবুল, তার ভাই এনায়েত উল্লাহ ভুট্টো ও জসিম উদ্দিন, স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মৃত আবদুল গণির ছেলে হেফাজত উল্লাহ ও তার ভাই জাহিদুল ইসলাম। এসময় রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
স্থানীয়রা জানায়, যেহেতু এমন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এখানে হত্যাকান্ডের ঘটনা আগেও ঘটেছে। সেখানে জড়িত ছিল এদেরই লোকজন। তাই সংঘটিত হামলার এ ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত তা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। বিগত তের বছর আগে এ চক্রের লোকজন মসজিদে নামাজ’রত এক মুসল্লিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ হৃদয়বিদারক ঘটনা অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছে বলে জানায় এলাকার লোকজন।
আহতরা জানিয়েছে, বিগত ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে এলাকার মসজিদে প্রবেশ করে তুচ্ছ বিষয়ে আবদুল মজিদ নামের এক ব্যক্তিকে খুন করে। তখনকার ঘটনায় জড়িতরা আবারও এমনই ছক অংকন করেছে।
আহতদের মতে এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, স্থানীয় আবদুর রহমানের ছেলে হান্নান মিয়া, তার ভাই মোহাম্মদ আলী, রমজান আলী, আজমত আলী ও মোস্তাক আহমদ, আজমত আলীর ছেলে নোমান, মৃত আবুল শরিফের ছেলে ফরিদুল আলম, বাক্কুম পাড়ার ছৈয়দ আলম, মধ্যম নাফিতখালীর মোহাম্মদ হোছাইন বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।
সালিশকার উত্তর ফুলছড়ি এলাকার সর্দার মুরব্বি নুরুল ইসলাম হেলালী বলেন, এলাকায় সামান্য বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ হয়। উভয় পক্ষের সম্মতি পেয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু পেশির জোরে লোহার তৈরি এসব অস্ত্র দিয়ে মারধর চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি সালিশকারকে অবমাননা ছাড়া কিছুই নয় বলে জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার ওয়াসিম আকরাম জানান, কথা কাটাকাটির বিরোধ নিষ্পত্তি করতে এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ মুরব্বি দুপক্ষের বিরোধ মিটমাটের চেষ্টা করেন। কিন্তু বৈঠকে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মুরব্বির সামনে এমন একটি কখনো কাম্য হতে পারেনা।
চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির বলেন, খুটাখালীতে যুবলীগ নেতাকে আহত করার খবর শুনেছি। শালিস বৈঠকে হামলা দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত শাস্তির দাবি জানান। অপরদিকে ঘটনার পরদিন খুটাখালী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম মিটু ও ইমরান খান ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের খোঁজ খবর নেন।