August 9, 2026, 8:36 am

বাবার প্রতিষ্টানে তালা- ৮ বোনকে নিয়ে অনশনে যাবে ভাই

বাবার প্রতিষ্টানে তালা- ৮ বোনকে নিয়ে অনশনে যাবে ভাই

পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় বাবার ব্যবসা প্রতিষ্টানের জবর দখল ঠেকাতে ৮ বোনসহ অনশন কর্মসূচীতে যাবে বড় ভাই। বিদেশ যাওয়ার জন্য পিতার রেখে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্টান-একটি দোকান ঘর বন্ধক প্রদান করা হয়। দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে চুক্তি ছিল বন্ধকী টাকা ফেরত দিলে দোকানটি দাতাকে দখল বুঝিয়ে দেয়া হবে। তবে সেটি না করে তৃতীয় একটি পক্ষ ওই দোকানটি বন্ধক গ্রহীতার যোগসাজসে কৌশলে জবর দখল প্রক্রিয়ায় মেতে উঠে। বর্তমানে দোকানটি নিয়ে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এর বিরোধকে কেন্দ্র করে সৎ চাচা ও সৎভাইয়ের ওয়ারিশদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র সওদাগর হাটে দোকান ঘর নিয়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, বারবাকিয়া সওদাগর হাটের একটি ব্যবসা প্রতিষ্টান নিয়ে সদর ইউনিয়নের সাবেকগুলদির মৃত নুরুল আলমের ছেলে জাকের হোসেন গং ও মৃত সাচি মিয়ার পুত্র নুরুল হোছাইন গংদের বিরোধ চলছিল। পাউবোর জায়গায় ওই দোকানের স্থিতি অবস্থান। বারবাকিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সওদাগর হাট সৃষ্টি লগ্ন থেকে একটি দোকান নিয়ে ব্যবসা করছিলেন জাকের হোসেনের পিতা নুরুল আলম। ১০ বছর আগে তিনি মারা যান। এর আগে প্রায় ৬০ বছর ওই দোকান থেকে মরিচ, হলুদ ও মসল্লা জাতীয় পণ্য বিক্রি করতেন জাকের হোসেনের পিতা নুরুল আলম সওদাগর। এ দিকে ৮ বছর আগে জাকের হোসেন বিদেশ যাওয়ার জন্য দোকানটি ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক প্রদান করেন। সাবেকগুলদির শফিউল আলম প্রকাশ গুরা বাদশা ওই দোকানের বন্ধক গ্রহীতা। সুত্র জানায়, দেনাগ্রস্ত অবস্থায় জাকের হোসেন ৮/১০ বছর এলাকা ছাড়া হন। ওই সুবাধে তার সৎ চাচা মৃত সাচি মিয়ার পুত্র নুরুল হোছাইন গোপনে দোকান জবর দখল নিতে চেষ্টা চালান। এমনকি পাউবোর অধিদপ্তরে গিয়ে তথ্য গোপন করে দোকানের জায়গাটি লীজ নিয়ে ফেলেন। ২০১২ সালে একসনা লীজটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। বর্তমানে দোকানটিতে তালা ঝুলিয়ে আছে। নুরুল আলমের ৮ মেয়ে ও এক সন্তানসহ ৯ জন ওয়ারিশ রয়েছে। নুরুল আলমের ছেলে জাকের হোসেন জানান, আমরা ৮ বোন ও এক ভাইয়ের একমাত্র সম্বল হচ্ছে এ দোকানটি। বাবার অস্তিত্ব এ দোকানটিতে আমরা খোঁজে পাই। চাচা নুরুল হোছাইন কোটি কোটি টাকার মালিক। আমরা হচ্ছি দরিদ্র ও অসহায়। এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি তালা অপসারণ না করা হলে আমি ৮ বোনকে নিয়ে দোকানের সামনে গিয়ে অবস্থান ধর্মঘট করব। অনশন কর্মসূচী পালন করব আমরা। বারবাকিয়া সওদাগর হাটের ব্যবসায়ী ও শিলখালীর সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, আমার শৈশব থেকে দেখছি দোকানটিতে জাকেরের পিতা নুরুল আলম সওদাগর ব্যবসা করেছে। বারবাকিয়া সওদাগর হাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাকের হোসেন জানান, জাকেরের দখলে ছিল বলে সে বন্ধক দিতে পেরেছে। নুরুল হোছাইন তার সৎ চাচা। দোকানের বন্ধকী টাকা নুরুল হোছাইন পরিশোধ করেছে। লীজ একসনা ছিল। এখন আর লীজ নেই। চাল ব্যবসায়ী তারেক সওদাগর জানান, দোকানটি জাকের গংদের। তরকারী ব্যবসায়ী হেলাল জানান, জাকের অসহায় ও সহজ সরল মানুষ। তাকে হয়রানি না করলে আমরা খুশী থাকব। মরিচ বিক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, আসলে দোকানটি ছোট। এরপরও জাকেরের তো আর কিছুই নেই। জাকেরের বোন খতিজা বেগম, লতিফা বেগম, জোবাইদা বেগম জানান, এ দোকানটি আমার পিতার সম্পত্তি। আমরা ৮ বোনের অস্থিত্ব হচ্ছে এ দোকান। বিচার সালিশ দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি দোকানের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। দোকানটি জবর দখল মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা বাজারে গিয়ে দোকানের সামনে বসে অনশন করব।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com