August 9, 2026, 8:39 am

আদালতের আদেশ উপেক্ষা: পেকুয়ায় অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে উদ্যোগী নয় পুলিশ !

আদালতের আদেশ উপেক্ষা: পেকুয়ায় অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে উদ্যোগী নয় পুলিশ !

পেকুয়া প্রতিনিধি

কক্সবাজারের পেকুয়ায় আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে কিশোরী রিনা আকতারকে (১৬) অপহরণকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করছে না পেকুয়া থানা পুলিশ। পুলিশের এমন আচরণে হতাশ হয়ে পড়েছেন কিশোরীর পরিবার। এদিকে মেয়ে রিনা আকতারের খোঁজে আদালত পুলিশের দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন মরিয়া পিতা ফরিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লা ঘোনা গ্রামের ফরিদুল আলমের কন্যা ও পেকুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী রিনা আক্তার ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ ইংরেজী তারিখ বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ি থেকে কেনাকাটা করার জন্য পেকুয়া বাজার যাওয়ার পথে অপহৃত হন।

অপহৃত ছাত্রীর পিতা ফরিদুল আলম জানান, বাজারে যাওয়ার পথে তাঁর প্রতিবেশী আবদুল জলিলের পুত্র লালু প্রকাশ লালাইয়া ও তজুমিয়ার পুত্র আব্বাছ উদ্দিন একটি সিএনজি অটোরিক্সায় জোরপূর্বক তাঁর মেয়েকে উঠিয়ে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে আটকে রেখেছে। এরপর থেকে মেয়ের কোন হদিস পাচ্ছেন না।

ফরিদুল আলম বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে না পেয়ে আমি পেকুয়া থানায় একটি সাধারান ডায়েরী করি। যার নং ৬১৪। থানায় জিডি রুজু হলেও পুলিশ আমার মেয়ে রিনা আকতারকে উদ্ধারে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পরে গত ২৮ ডিসেম্বর চকরিয়া বিচারিক হাকিমের আদালতে ফৌজধারী কার্যবিধি ৩৬৬ ধারা মোতাবেক একটি আবেদন করি। আবেদনটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত তিন কার্য দিবসের মধ্যে পেকুয়া থানা পুলিশকে অপহরণকারীদের কবল থেকে আমার মেয়েকে উদ্ধারের নির্দেশ দেয়। কিন্তু আদালতের এ আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মনগড়া একটি রিপোর্ট বিজ্ঞ আদালতে পেশ করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার মেয়েকে উদ্ধারে কোন তৎপরতা দেখায়নি। বরং বিবাদীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মনগড়া রিপোর্টটি আদালতে পাঠায়। আমি আমার মেয়ের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছি। উদ্ধারে বিলম্বিত হওয়ায় আমার কন্যার জীবন নিয়ে আমি শংকা প্রকাশ করছি। পুলিশ জনগণের বন্ধু। মানুষের বিপদে যদি পুলিশ এগিয়ে না আসে জনগন কিভাবে উপকৃত হবে।

চকরিয়া বিচারিক হাকিমের আদালতের আইনজীবি শিহাব উদ্দিন জানান, তার মক্কেল ফরিদুল আলম তার কন্যাকে উদ্ধারের জন্য আদালতে ফৌজধারী আবেদন করলে আদালমের বিজ্ঞ বিচারক ফৌজধারী কার্যবিধির ২০০ ধারা মোতাবেক বাদীর অভিযোগ গ্রহণ করে পেকুয়া থানার ওসিকে ভিকটিম রিনা আকতারকে উদ্ধার করে তিন কার্য দিবসের মধ্যে আদালতকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেন। একই সাথে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পেকুয়া থানার ওসিকে ফৌজধারী কার্যবিধি ১৫৬ (৩) ধারা মোতাবেক অভিযোগকারী কর্তৃক আনীত অভিযোগের তদন্ত করে মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে একটা মনগড়া তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছেন। যা আমার মক্কেল প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালিয়েও ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তাকে উদ্ধার করতে না পারায় বিষয়টি আদালতে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি সাইফুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনার পর কিশোরীকে উদ্ধারে সম্ভাব্য স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com