August 9, 2026, 7:48 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় টইটং ইউনিয়নের রমিজপাড়ায় সোনাইছড়ি মৌজার ৫৫ শতক জমি নিয়ে আধিপত্য দেখা দিয়েছে। বিরোধীয় জমিতে দুটি বন্দোবস্তী দলিল হয়েছে। ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত সম্পত্তি হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ উপকারভোগীর অনুকুলে বন্দোবস্তীমূলে ওই জমি দলিলমূলে হস্তান্তর করা হয়। একই ভাবে উক্ত জমি পরবর্তীতে আরেকজন উপকারভোগীকে দলিল হস্তান্তর করে। এ নিয়ে দুটি দলিলের গ্রহীতাগণ জমির দখল নিতে তৎপর হয়েছে। ২০০২ ও ২০০৩ অর্থ বছরে ৫৫ শতক জমি স্থানীয় কৃষক মৃত বজলুর রহমানের পুত্র গোলাম রহমান ও মৃত শামশুল আলমের স্ত্রী রাবেয়া বেগমের নামে দলিল হস্তান্তর করা হয়। ওই জমি পৃথক দলিলমূলে তারা ভোগ করে সন সন সরকারী খাজনা পরিশোধ করছিলেন। জমিতে দলিল গ্রহীতাদের অনুকুলে পৃথক দুটি জমাভাগ খতিয়ানও সৃজিত হয়েছে। গোলাম রহমান ও রাবেয়া বেগমের অংশে তারা বসতবাড়ি তৈরী করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। বসতবাড়ি ছাড়াও জমিতে মৎস্যচাষ, ধানচাষ ও সবজির আবাদও হচ্ছে। এ দিকে ৫৫ শতক জমি নিয়ে পৃথক আরও দলিল হস্তান্তর হয়েছে। সম্পত্তি ৫৫ শতক। ২০০২ ও ২০০৩ অর্থ বছরে ওই জমি সরকারপক্ষ মালিকানা হস্তান্তর করে। তবে এর ১০ বছর পর একই জমি অপর ব্যক্তিকে বন্দোবস্তী মূলে দলিল হস্তান্তর করে। রমিজপাড়ার রফিক আহমদের স্ত্রী ছেনুয়ারা বেগমকে পরবর্তীতে জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়। এ দিকে একই জমিতে পৃথক ৩ টি দলিল হস্তান্তর হওয়ায় জমি নিয়ে ত্রিপক্ষ সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। গোলাম রহমান ও রাবেয়া বেগমের নামে পৃথক দুটি সৃজিত খতিয়ান রেকর্ডভূক্ত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী দলিলপ্রাপ্ত উপকারভোগীরা ১ম ধাপের দলিল ও সৃজিত খতিয়ানের বিরুদ্ধে এমআর মামলা রুজু করে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত এর দায়িত্বভার ন্যস্ত করেন পেকুয়ার সহকারী কমিশন ভূমি মীকি মারমাকে। সহকারী কমিশন ভূমি মীকি মারমা ২৮ ডিসেম্বর (সোমবার) দুপুরের দিকে সরেজমিন ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। এ সময় জায়গার বিষয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ স্বাক্ষী নিয়েছেন। জমির মালিক রাবেয়া বেগম জানান, এ জমি আমরা সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্তী নিয়েছি। এরপর আমার নামে দলিল হস্তান্তর করা হয়। খতিয়ানও হয়েছে। জায়গায় আমরা বসবাস করছি। জাগের হোসেন নামক ব্যক্তি ওই জমি জবর দখল করতে আমাদের উপর হামলা, মামলাও হয়রানি করছে। গোলাম রহমান জানান, প্রায় ১৬/১৮ বছর ধরে জমির খাজনা দিচ্ছি। তথ্য গোপন করে ছেনুয়ারা বেগমকে প্রায় ১০ বছর পর জমির দলিল দিয়েছে। আমার জমিতে আমরা ছেলে মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। এখানে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এর আগে এ জমি ৭/৮ বছর একসনা লীজ নিয়েও আমরা ভোগ করছিলাম। পেকুয়ার সহকারী কমিশন ভূমি মীকি মারমার নিকট থেকে বক্তব্য দিতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। এ বিষয়ে কোন ধরনের বক্তব্য দিতে তিনি রাজি হননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে ওই কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে বিব্রতবোধ করছিলেন।