August 9, 2026, 7:50 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় মগনামা ইউনিয়নের দক্ষিন মগনামা মরিচ্যাদিয়া গ্রামে ১ নভেম্বর (রবিবার) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে রণক্ষেত্র হয়েছে। জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের ভাড়াটে অস্ত্রধারীর ছোড়া গুলিতে একই পরিবারের ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১ জনসহ জখমী ৩ জনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক চমেক হাসপাতালে রেফার করে। ঘটনার জের ধরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১ নভেম্বর রাত ৯ টা পর্যন্ত মরিচ্যাদিয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা দ্রæত সেখান থেকে সটকে পড়ে। গুলিবিদ্ধরা হলেন মরিচ্যাদিয়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র নুর উদ্দিন (৬০), তার ভাই মফিজ(৫২), ভাই নুরুস সোলতান (৩০)। আহতরা হলেন একই পরিবারের সাহাব উদ্দিন (৫৫), ভাই মনি উদ্দিন (৪০)। অপরপক্ষের আহতরা হলেন ছৈয়দ নুরের পুত্র জসিম উদ্দিন (৪৫), তার স্ত্রী কাজল আক্তার (৪০), মৃত সিরাজের পুত্র ছৈয়দ নুর (৭৫), মৃত শফিকুর রহমানের পুত্র আইনুল হক (৫০), তার পুত্র মজিব (১৭)। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানায়, ১৮ শতক জমি নিয়ে মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র নুর উদ্দিন গং ও মৃত সিরাজের পুত্র ছৈয়দ নুর গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আধিপত্য ও দখল বেদখলকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা মারপিট, ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। নুরুল ইসলামের পুত্র নুর উদ্দিন গং ওই জায়গা ৭০ বছর থেকে ভোগ দখলে আছে। তবে দিয়ারা রেকর্ডে জায়গাটি অন্য জনের নামে প্রচার হয়। মৃত সিরাজের পুত্র ছৈয়দ নুর দিয়ারা মুলে ১৮ শতক জায়গা খরিদ করে। মূলত এ নিয়ে বিরোধের সুত্রপাত। মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম ছৈয়দ নুরকে জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নুর উদ্দিন গং চেয়ারম্যানের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। ঘটনার দিন বিকেলে ছৈয়দ নুর বহিরাগত লোকজনসহ জায়গাতে পৌছেন। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়। ছৈয়দ নুর ১ম ধাপে সেখান থেকে চলে যান। দ্বিতীয় দফায় একই দিন মাগরিবের নামাজের পর ছৈয়দ নুরসহ প্রায় শতাধিক লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোটা, ধারালো কিরিচ নিয়ে জায়গা দখলে নিতে যায়। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় নুর উদ্দিনসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ ও উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ নুর উদ্দিন জানান, এ জায়গা আমাদের পরিবারের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি। ছৈয়দ নুর ও তার ছেলে জসিমের নেতৃত্বে শতাধিক ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মরিচ্যাদিয়ায় এসে জমি জবর দখলের চেষ্টা চালায়। চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম মূলত ছৈয়দ নুরের পক্ষে তার মাস্তান বাহিনী পাঠিয়েছে। পশ্চিমকুলের জাইল্যা আবছারের পুত্র জিয়াবুল, সাতঘরপাড়ার আজিজুর রহমানের পুত্র গিয়াস উদ্দিন, মোক্তারের ছেলে বল্লাইয়াসহ আরো কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। জিয়াবুল ওয়াসিম বাহিনীর স্বশস্ত্র ক্যাডার। তারা আমাদের লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে আমরা ৩ ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছি। আবুল শামার স্ত্রী রাশেদা বেগম জানান, জিয়াবুলকে আমি চিনি। আমি দেখেছি সে বন্দুক নিয়ে গুলি বর্ষণ করেছে। ফজলুল হকের স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, চেয়ারম্যান মানুষ পাঠিয়ে মারপিট লাগিয়ে দিয়েছে। ৩ রাউন্ড গুলি বর্ষণ হয়েছে। নুর উদ্দিনের হাতে গুলি লাগে। নুরুস সোলতানের পায়ে গুলি লাগে। মফিজের হাতে গুলি লাগে। নুরুল আলমের স্ত্রী ছেনুয়ারা বেগম জানান, সন্ধ্যার দিকে চেয়ারম্যান ভাড়াটে লোকজন পাঠিয়েছে। ছৈয়দ নুরের পক্ষের মূল শক্তি হচ্ছেন চেয়ারম্যান ওয়াসিম। পেকুয়া থানার ওসি সাইফুর রহমান মজুমদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়েছি। এখনো কোন পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।