August 9, 2026, 6:44 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় মোটর সাইকেল চালককে কুপিয়ে জখম করেছে দুবৃর্ত্তরা। কমান্ডো স্টাইলে তাকে ঘিরে ফেলে। এ সময় দা ও লাঠি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। এক পর্যায়ে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে জখমী ব্যক্তিকে চিকিৎসা বিলম্বিত করতে হামলাকারীরা তাকে সড়কে ঘিরে ফেলে। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চমেক হাসপাতালে রেফার করে। ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুর ১ টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের বটতলী স্কুল মাঠ সংলগ্ন টইটং বাজার জুমপাড়া সড়কে এ ঘটনা ঘটে। জখমী ব্যক্তির নাম আবদুল হামিদ (৪০)। তিনি বটতলী জুমপাড়ার মৃত নুরুল কাদেরের পুত্র। খবর পেয়ে পেকুয়া থানার এস,আই শিমূল নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন দুপুরে আবদুল হামিদ মোটর সাইকেল নিয়ে টইটং বাজার থেকে নিজ বাড়ি বটতলী জুমপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে জুমপাড়া টইটং বাজার সড়কের স্কুল মাঠের সংলগ্ন বটতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তাকে গতিরোধ করা হয়। পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা ৪/৫ জনের দুবৃর্ত্তরা তাকে প্রাণনাশ চেষ্টা চালায়। এমনকি সড়কের স্প্রিড ব্রেকার পারাপারের সময় দুবৃর্ত্তরা মোটর সাইকেলের চালক আবদুল হামিদকে লাঠির আঘাতে সড়কে ফেলে দেয়। এ সময় ধারালো দা ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মাথায়, মুখমন্ডলে জখম করে। পিঠেও লাঠির আঘাত করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাসেম জানান, ওসমান সওদাগর ও মনির নামক দু’জন প্রত্যক্ষদর্শী আমাকে মুঠোফোনে হামিদকে হামলার বিষয়টি অবগত করে। আমি দ্রæত সেখানে পৌছি। হামিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পেকুয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তবে আমাকে বলেছে জলিল মেম্বারের ভাইসহ কয়েকজন মিলে তাকে আঘাত করেছে। তিনি আরো জানান, হাসপাতালে না পৌছাতে জলিল মেম্বার বাড়াবাড়ি করেছে। আনিছ নামক এক যুবক জানান, মোটর সাইকেলটি আমার। হামিদ মামা টইটং বাজারে যাওয়ার জন্য আমার কাছ থেকে নিয়েছে। হামলার খবর পেয়ে আমরা গিয়েছিলাম। জলিল মেম্বার আমাকে বকাঝকা করেছে চিকিৎসা না পৌছানোর জন্য। দেলোয়ার হোসেন, জাকের হোসেন মাঝি, আলমগীরসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একজন মানুষের উপর এমন হামলা খুবই নিষ্টুর। সে অপরাধ করলে আইন আছে। জেল আছে কিন্তু মেরে রক্ত ঝরানো চরম অন্যায়। পানি ছিটিয়ে রক্তের দাগ ধুয়ে মুছে ফেলেছে। জলিল মেম্বার ও তার ভাই আবুল কালামসহ আরো কয়েকজন হামিদকে আঘাত করেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। হামলাকারীরা সাংবাদিক এনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফেইসবুক ও মিডিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে এমন সংবাদ প্রচার করিয়েছে। যা অত্যন্ত বিস্ময়কর ও নিন্দাজনক। হামিদের স্ত্রী হামিদা বেগম, ছোট ভাই রহিমের স্ত্রী পারভীন আক্তার জানান, ২০১৮ সালে আমাদের বসতবাড়ি আক্রমন করে। হামিদ গুলিবিদ্ধ হন। ওই আসামীরা ফের এ ঘটনা ঘটিয়েছে। হামিদের বোন মোহছেনা বেগম জানান, আমার ভাইকে মেরে মারাত্মক আঘাত করে। জলিল মেম্বার মিথ্যা তথ্য দিয়ে দুর্ঘটনায় আহত বলে প্রচার করছে। এখনো জ্ঞান ফিরেনি। হামিদের ছোট ভাই আবদু রহিম জানান, এর আগে আমার ভাইকে গুলি মেরে আঘাত করেছিল। তারা ওই দিন জানে মেরে ফেলতে হামলা চালায়। তার অবস্থা খুবই খারাপ। ফেইসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাল্পনিক প্রচার চালিয়ে বাস্তব ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এ ধরনের হটকারীতার তীব্র নিন্দা করছি। পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাইন উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিবে।