August 9, 2026, 8:39 am
পেকয়া প্রতিনিধিঃ
পেকুয়ায় সেই প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যাচার দাবী করে এবার গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থী, সমাজ কমিটির জৈষ্ট্য কর্মকর্তা ও মসজিদ, স্কুল পরিচালনা কমিটির পরিচালকসহ সর্বস্তরের লোকজন জড়ো হয়ে সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিকেলে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাঁকখালী পত্রিকায় পেকুয়ায় মুজিব শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু কৃষি উৎসব উপলক্ষে স্থাপিত পারিবারিক পুষ্টি বাগান কেটে দিলেন দুবৃর্ত্তরা শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সুত্র জানায়, নয়াকাটা গ্রামের মৃত আকবর আলীর পুত্র জামাল হোসেন মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাল্পনিক ওই সংবাদটি প্রকাশ করিয়েছে। সংবাদে মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্যের বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে। মুজিব শতবর্ষের কৃষি উৎসব উপলক্ষে বারবাকিয়া নয়াকাটায় পুষ্টি বাগান স্থাপিত করা হয়নি।
মূলত জামাল হোসেন নামক ওই ব্যক্তি একজন চিহ্নিত মামলাবাজ। এলাকায় তাকে খারাপ প্রকৃতির লোক হিসেবে জানে। এ ছাড়া জামাল নামক ওই ব্যক্তি শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার। রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তার পরিবার আ’লীগ বিদ্বেষী। ওই পরিবারটি এলাকায় রাজাকার পরিবার হিসেবে স্বীকৃত। মুজিব শতবর্ষের নামে ওই ব্যক্তি প্রহসনের সুযোগ খোঁজছে। নয়াকাটা সমাজ কমিটির সর্দার ও ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা শাহাব উদ্দিন জানান, উত্তর বারবাকিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি ভবন বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য ৬শতক জায়গা খরিদ করা হয়েছে। সেখানে কিশোর ও শিশু ছেলেরা নিয়মিত শরীর চর্চা ও ফুটবল খেলে।
ফুটবল খেলা নিয়ে কিছু ছেলে ও জামালের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। জামাল প্রাপ্ত বয়ষ্ক হয়েও কিশোরদের নিকৃষ্ট গালি দেয়। এ নিয়ে সমাজ কমিটির নেতা নুরুল হকের এক ছেলে এ ঘটনায় জামাল পক্ষ হয়ে ক্ষমা চেয়েছে। কয়েক দফা বাকবিতন্ডা হয়। মূলত স্কুল আঙ্গিনা ও আশপাশে কোন সবজি বাগান ও পেঁপে বাগান নেই। নয়াকাটা জামে মসজিদের মাঠ ভরাট করা হচ্ছে। পুকুর ও মাঠ পৃথক করতে আমরা আরসিসি পিলার দিচ্ছি। ৮ লক্ষ ব্যয় করা হচ্ছে। টাকার যোগান দিচ্ছি আমরা সবাই। শিবির ক্যাডার জামাল হোসেন ওই জায়গা জবর দখলের পাঁয়তারা করছে। কবরস্থানে লাশ দাফনের সময় ওই জামাল মানুষের কাছ থেকে টাকা দাবী করে। আমরা এ সবের প্রতিবাদ করি।
সমাজ কমিটির নুরুল হক, শাহাদাত হোছাইন, কামাল হোছাইন, নছরুল্লাহসহ আরো অনেকে জানান, জামাল হোসেন ৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সভাপতি। আমরা কয়েকজন এখানে মাত্র আ’লীগ আছি। আমাদেরকে শিবিরের এ ক্যাডার হয়রানি করছে। ৯ম শ্রেনীর ছাত্র এরশাদ, ১০ম শ্রেনীর ছাত্র মো: ফরহাদ, ৮ম শ্রেণীর ছাত্র খালেদ মাসুদ, ১০ম শ্রেনীর ছাত্র তামিমসহ আরো অনেকে জানান, আমরা ওই শিবির ক্যাডারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় মিছিল করছি। যে ছেলেটির নামে পত্রিকায় নিউজ ছাপানো হয়েছে আসলে সে ৯ম শ্রেনীর ছাত্র। থাকেন রাউজানে। জামাল অত্যাচারী। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে অত্যাচার করেছে। স্কুল ছাড়া করেছে আমাদের স্যারকে।
শাহীন আক্তার, ছকিনা বেগম, হাছিনা বেগম, মনোয়ারা বেগমসহ নয়াকাটার আরও একাধিক মহিলা জানান, এখানে পেঁপে গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনা হয়নি। জামাল মিথ্যাচার করছে। আমরা এমন সংবাদে বিস্মিত হয়েছি। মানুষ এমন মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে শুনতে অবাক লাগে।