August 9, 2026, 7:51 am
রিয়াজ উদ্দিন,পেকুয়া:
পেকুয়ায় জটিল রোগে ভোগছেন আ’লীগ মগনামা ইউনিয়ন শাখার ৫ নং ওয়ার্ড কমিটির বর্তমান সাধারন সম্পাদক আবু মকছুদ প্রকাশ মকছুদ মেস্ত্রী (৫২)। দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের তৃণমূল পর্যায়ের প্রাণ ভ্রুমরা এ নেতা মৃত্যুর সাথে লড়ছেন পাঞ্জা। দীর্ঘ সময় জটিল রোগে আক্রান্ত থাকায় মকছুদ মেস্ত্রীর জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে। তিনি বর্তমানে অসুস্থ শরীর নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। অনেকটা কঠিন মানবেতর জীবন অতিবাহিত হতে হচ্ছে আ’লীগের ওয়ার্ড কমিটির ওই সাধারন সম্পাদককে।
গত ৩ মাস ধরে মকছুদ মেস্ত্রী শয্যাশায়ী। হাটা চলা থেমে গেছে। বিছানার মধ্যে শুয়ে থাকতে হচ্ছে সার্বক্ষণিক। তবে অর্থ সংকট ঘনীভূত হওয়ায় বর্তমানে নেই কোন তার চিকিৎসা। গত ৫ মাস আগে থেকে মকছুদ মেস্ত্রী রোগে আক্রান্ত হন। সে সময় চিকিৎসকের স্বরণাপন্ন হয়েছেন। পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেশ কিছু প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা করেছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পাকস্থলীতে তার মারাত্মক রোগ নির্ণয় করা হয়েছে। সে সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়েছেন। সে মতে নিয়মিত মেডিসিন সেবন করা অব্যাহত রাখেন। তবে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন তাকে এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। ওই চিকিৎসা ব্যয়বহুল হবে। মকছুদ মেস্ত্রী নিজের অর্থায়ন থেকে এ পর্যন্ত চিকিৎসা করেছেন। তিনি একজন নিন্মবিত্ত শ্রেনীর মানুষ। আ’লীগ ওয়ার্ড কমিটির সাধারন সম্পাদক হলেও তিনি ছিলেন মূলত একজন পরিশ্রমী ব্যক্তি। কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন।
তবে সময়ে রাজনীতিক ডাক পেলে ছুটতেন যে কোন মিছিল মিটিংয়ে। আ’লীগের রাজনীতির অসাধরন নিবেদিত কর্মী। তার বাড়ি উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়া গ্রামে। আবু মকছুদ ওই গ্রামের মৃত ওলামিয়া সওদাগরের পুত্র। তার পিতা ওলামিয়াও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ছিলেন। ষাট ও সত্তর দশকে ওলামিয়া মুহুরীপাড়া গ্রামে চায়ের দোকান করতেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় আবু মকছুদের পিতা ওলামিয়া ছিলেন একজন দেশ দরদী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রতিবাদী ব্যক্তিত্ব।
৭৪ এর দিকে বঙ্গবন্ধু কৃষক শ্রমিক আ’লীগ প্রতিষ্টা করেন। সে সময় এ অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এড. জহিরুল ইসলাম ও তার বড় ভাই অবিভক্ত মগনামার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বিএ। ওলামিয়া দু’ভাইয়ের অনুপ্রেরনায় আ’লীগের রাজনীতির প্রতিবাদী কন্ঠস্বর ছিলেন। আবু মকছুদ ২০১৩ সালে আ’লীগের ওয়ার্ড কমিটির সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রত্যক্ষ ভোটে আ’লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করেন। মগনামা ইউনিয়নে মুহুরীপাড়া গ্রামটি আ’লীগের দুর্গ। ওই গ্রামে শতকরা ৯৮ মানুষ আ’লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তবে কালের পরিক্রমায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত ও নেত্রী শেখ হাসিনার আস্থার বিশ্বস্ত মানুষগুলো অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছে। আ’লীগ ক্ষমতাসীন হলেও মগনামায় দলটির নেতা-কর্মীরা সবক্ষেত্রে বঞ্চিত ও নিস্পেসিত। সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা লুটে নিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত।
মকছুদ আহমদ দীর্ঘদিন অসুস্থ রয়েছে। অথচ নেওয়া হয়নি তার কোন খোঁজ খবর। চিকিৎসা সংকটে তার জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। নেত্রী শেখ হাসিনা মানবতার কল্যাণের জন্য সাহায্যও পৌছাচ্ছেন। তবে নেত্রীর আদর্শের মানুষগুলো এ সব সহযোগিতা থেকে রয়েছে অনেক দুরে। আবু মকছুদের ছেলে মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, আমাদের বাবার জন্য আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা করেছি। আমরাতো গরীব মানুষ। যা সঞ্চিত ছিল তা দিয়ে করেছি। এখন আর টাকা নেই।
চিকিৎসাও ব্যয়বহুল হওয়ায় থেমে গেছে। অপর ছেলে আমজাদ হোসেন জানান, সারাজীবন বাবা রাজনীতির জন্য উদার ছিলেন। এখন খোঁজ খবর নেওয়ার মানুষ নেই। আমরা আ’লীগ করি বলে সরকারী ত্রাণ পর্যন্ত পায়না। মকছুদ মেস্ত্রীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, সবকিছুর উর্ধে থাকত দল। আ’লীগের কোন কর্মসূচী থাকলে আয় রোজগার পেলে ছুটে যেতেন। অথচ মানুষটি বাড়িতে পড়ে আছে। কেউতো খোঁজ খবর নিচ্ছেনা।
ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ হাসেম জানান, আ’লীগের নি:স্বার্থ কর্মী হচ্ছেন মকছুদ মেস্ত্রী। প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে মকছুদ আহমদকে দেখেছি দলের জন্য অনন্য ভূমিকায়। তিনি নিপুণ ডিজাইনে কারুকাজ শৈলীতে নৌকা তৈরী করে সড়কের বিভিন্ন প্রান্তে টাঙ্গিয়ে দিতেন। পোষ্টার, ব্যানার ও প্রচার প্রচরনায় তার পরিশ্রম দলের জন্য ছিল প্রাণশক্তি। মানুষটি অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মুহাম্মদ খাইরুল এনাম জানান, মকছুদ মেস্ত্রী রাজনীতির প্রাণশক্তি। আজকে এ রকম নি:স্বার্থ মানুষগুলোর বেলায় কেউ ছুটে আসছেন না। তিন চার মাস ধরে কষ্ট পাচ্ছে।