August 9, 2026, 8:53 am
ছবির ক্যাপশন:-কোভিড ১৯ মোকাবেলায় গঠিত উপজেলা কমিটির সভা শনিবার বিকালে উপজেলা পরিষদের হলরুম মোহনা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
কক্সবাজার প্রতিনিধি
রেড জোন ঘোষিত চকরিয়া পৌর এলাকায় লকডাউনের মেয়াদ আরো এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করেছে চকরিয়া উজেলা প্রশাসন। শনিবার (২০ জুন) বিকাল ৫টায় চকরিয়া উজেলা পরিষদের হলরুম মোহনা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সভার সিদ্ধান্তের আলোকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে নানা নির্দেশনা প্রদান করে একটি ঘোষনাপত্র জারী করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাংসদ আলহাজ¦ জাফর আলম। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া পৌর সভার মেয়র আলমগীর চৌধূরী, চকরিয়া উজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ, চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধূরী, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু ও চিরিংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন প্রমুখ। এছাড়া সভায় পৌর সদরের ব্যবসায়ী নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শাসুল তাবরীজ স্বাক্ষরিত ঘোষনা পত্রে রেড জোন এলাকা চকরিয়া পৌরসভায় লকডাউন চলাকালে সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে নানা নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, রেডজোন এলাকায় সকল প্রকার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক গনজমায়েত করতে পারবেনা। সকলে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান গ্রহন করবেন। রেড জোন এলাকায় সকল ধরণের ইজিবাইক, টমটম ও সিএনজিসহ সকল ধরণের ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপয়োজনীয় পণ্য বহনকারী হালকা ও ভারী যানবাহন সমুহ রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। কোভিড ১৯ মোকাবেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারী গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনুমতি গ্রহনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তবে এম্বুলেন্স, রোগী পরিবহন, স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গের (অনডিউটি) পরিবহন, কোভিড ১৯ মোকাবেলা ও জরুরী সেবা প্রদানকারী কতৃপক্ষের গাড়ি এ লকডাউন কর্মসূচীর আওতামুক্ত থাকবে।
ঘোষনা পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, রেড জোন এলাকায় লকডাউন চলাকালে সকল প্রকার দোকান, মার্কেট, বাজার, হাট, ফুটপাত দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে কেবলমাত্র স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাঁচা বাজার সপ্তাহের প্রতি শনি সোম ও বুধবার এবং মুদির দোকান শুক্র, শনি সোম ও বুধবার সীমিত আকারে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখতে পারবে। ঔষধের দোকান এ লকডাউনের আওতার বাইরে থাকবে বলেও ঘোষনাপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া লকডাউন চলাকালে কেবলমাত্র কোভিড ১৯ মোকাবেলা ও জরুরী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা থাকবে। তবে সকল হাসপাতাল, চিকিৎসা সেবাকারী প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এর আওতার বাইরে থাকবে। আর্থিক বছরের শেষ সময় বিবেচনায় ব্যাংক সমুহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে পরিচালিত হবে বলেও ঘোষনাপত্রে উল্লেখ করা হয়। জরুরী সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচিত সংবাদ কর্মীদের রেড জোন এলাকায় কাজ করা নিমিত্তে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চকরিয়া কতৃক ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচয়পত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে এবং কোভিড ১৯ মোকাবেলায় রেড জোনে নিয়োজিত সেচ্ছাসেবীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার চকরিয়া কতৃক ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচয়পত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে কাজ করার অনুমতি প্রদান করা হবে। প্রকাশ্য স্থানে বা গনজমায়েত করে কোন প্রকার ত্রাণ, খাদ্য সামগ্রী বা অন্যকোন পণ্য বিতরণ করা যাবেনা বলেও ঘোষনাপত্রে উল্লেখ করা হয়। কোভিড ১৯ মোকাবেলায় গঠিত ওয়ার্ড কমিটিসমুহ নির্দেশনাবলী কঠোরভাবে বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করবেন। কোভিড ১৯ সংক্রমণ রোধে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয় বলেও ঘোষনাপত্রে উল্লেখ করা হয়।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, কোভিড ১৯ সংক্রমণ রোধে কার্যকর ও অধিকতর দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রনে আনার লক্ষ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা ও উজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক চকরিয়া পৌর এলাকাকে রেড জোনের অন্তভর্’ক্ত করা হয়। বিগত ৭জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত প্রথম দফায় লকডাউন বাস্তবায়নের পর আগামী ২২জুন রাত ১২টা থেকে থেকে ২৮জুন রাত ১২টা পর্যন্ত চকরিয়া পৌর এলাকায় লকডাউনের সময় বৃদ্ধি করে পুনরায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কোভিড ১৯ সংক্রমণ রোধে জনস্বার্থেই এ লকডাইনের মেয়াদ বাড়ানো হয় বলেও জানান তিনি। ####