August 9, 2026, 11:00 am

৩০ লাখ টাকা উদ্ধার’ ডাকাতির ঘটনায় মূলহোতা সহ আটক- ৫

৩০ লাখ টাকা উদ্ধার’ ডাকাতির ঘটনায় মূলহোতা সহ আটক- ৫


গাজীপুর কালিয়াকৈরে মাইক্রোবাসে গুলি করে ইনক্রেডিবল ফ্যাশনস্ লিঃ গার্মেন্টস এর প্রায় ৮০ লক্ষ ২২ হাজার টাকা ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী সহ ০৫ জন’ কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব \ নগদ ৩০ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা, ১১০০ ইউএস ডলার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল, গাড়ি এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার।

গত ০৭ জুন ২০২০ তারিখে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সুরিচালা এলাকার ইনক্রেডিবল ফ্যাশনস্ লিমিটেড গার্মেন্টস এর মাইক্রোবাস যোগে বহনকৃত প্রায় ৮০ লক্ষ ২২ হাজার টাকা ডাকাতি হয়। পরবর্তীতে একই দিনে (০৭ জুন ২০২০) ঐ গার্মেন্টের এ/পি জেনারেল ম্যানেজার প্রোডাকশন) মোঃ খোরশেদ আলম (৬০) অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর-০৯, তারিখ ০৭ জুন ২০২০, ধারাঃ-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড।

ঘটনার বিবরণে জানা য়ায়, ইনক্রেডিবল ফ্যাশনস্ লিমিটেড গার্মেন্টস এর শ্রমিক এবং স্টাফদের বেতন প্রদান করার লক্ষ্যে গত ০৭ জনু ২০২০ তারিখ আনুমানিক ১১১৫ ঘটিকার সময় ব্যাংক এশিয়া, কালিয়াকৈর শাখার উদ্দেশ্যে ফ্যাক্টরীর সহকারী ম্যানেজার মেজবাহ উল হক (৪০) সহ ৬ জন কোম্পানীর মাইক্রোবাস যার রেজিঃ নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-৫৩-৯৫১১ নিয়ে গমন করে। ব্যাংক হতে টাকা গ্রহণ পূর্বক দুপুর আনুমানিক ০১২০ ঘটিকার সময় ব্যাংক হতে বাহির হয়ে উল্লেখিত মাইক্রোবাস যোগে ফ্যাক্টরীর দিকে রওনা হয়। রওনা হওয়ার পর আনুমানিক ০১৩০
ঘটিকার সময় কালিয়াকৈর থানাধীন খাড়াজোড়া এলাকায় নিমার্ ণাধীন ফ্লাইওভার এর দক্ষিণ পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পৌঁছানোর মাত্রই ডাকাতদের চালিত যানের মাধ্যমে মাইক্রোবাসের গতি রোধ করে লোহার রড, হাতুড়ী, ষ্টীলের পাইপ এবং পিস্তলসহ অতর্কিতভাবে ভাংচুর ও গুলি করে উক্ত অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। উক্ত গোলাগুলির ঘটনায় ফ্যক্টরীর সহকারী মার্চেন্ডাইজার রাজীব মজমু দার শুভ (২৮) গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয়।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ভাতা লুটের ঘটনা সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনাটি মিডিয়াতে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ জুন ২০২০ তারিখ ০১৩০ ঘটিকা হতে ১১০০ ঘটিকা পর্যন্ত র‍্যাব-১ এর আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরী ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন স্থানে (সাভার, আশুলিয়া, মগবাজার, ডেমরা এবং কড়াইল বস্তি) অভিযান চালিয়ে (ক) মোঃ রিয়াজ (৩৬), পিতা- মোঃ সুলতান হাওলাদার, মাতা- মোসাঃ খাদিজা বেগম, সাং – গোডাংগা, থানা-আমতলী, জেলা-বরগুনা; (খ) মোঃ সাগর মাহমুদ (৪০), পিতা- মৃত আঃ ছত্তার ফকির, মাতা-মেহেরনিগার, সাং-দক্ষিণ বহাল গাছিয়া, থানা-পটুয়াখালী, জেলা-পটুয়াখালী; (গ) মোঃ জলিল (৪০), পিতা- মৃত গঞ্জের আলী মোল্লা, মাতা-মৃত সোনাবরু বেগম, সাং- খানপুরা, থানা-বাবুগঞ্জ, জেলা-বরিশাল; (ঘ) মোঃ ইসমাইল হোসেন মামুন (৪৫), পিতা – মৃত মোঃ ছিদ্দিকরু রহমান, মাতা- মাফিয়া বেগম, সাং-খানখানাপুর,
থানা-রাজবাড়ী, জেলা-রাজবাড়ী। মনোরঞ্জন মন্ডল বাবু (৪১), পিতাঃ মৃত দয়াল মন্ডল, গ্রাম- ভাতগ্রাম, থানা- মির্জাপুর, জেলা টাঙ্গাইল’দেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের নিকট হতে উদ্ধার করা হয় নগদ ৩০ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা, ১১০০ ইউএস ডলার, ০১টি প্রিমিও প্রাইভেট কার (চট্ট মেট্রো-গ ১১-৭৬৫৩), ০৩টি মোটর সাইকেল (বরিশাল মেট্রো-ল-১১-০৭২৭, ঢাকা মেটো্র হ ৬৪-১৭১৪, ঢাকা মেট্রো ল-১৮-০১৬১) ০১টি বিদেশী রভলবার, ০১টি বিদেশী পিস্তল, ২১ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি ম্যাগজিন, ৩টি পাসপোর্ট এবং ৩৮টি মোবাইল ফোন। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিকভাবে অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা স্ব্বীকার করেছে।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় ৪/৫ মাস পূর্বে চক্রটির মূল হোতা গ্রেফতারকৃত জলিলের পরিকল্পনায় ঈসমাইল হোসেন মামুন এবং মনোরঞ্জন মন্ডল বাবু টার্গেট সিলেকশনের কাজ শুরু করে। তারা গাজীপুর, আশুলিয়া, কালিয়াকৈর এলাকায় বেশ কিছু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী শ্রমিকদের বেতন সংগ্রহ প্রক্রিয়া যাচাই বাছাই করে ইনক্রেডিবল গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী’কে টার্গেট করে। তাদের পর্যবেক্ষণে উদঘাটিত হয় যে, বর্ণিত ফ্যাক্টরী শ্রমিকদের বেতন ক্যাশে প্রদান করা হয়। এছাড়া ব্যাংক হতে টাকা সংগ্রহের সময় কোন অস্ত্রধারী নিরাপত্তা প্রহরী থাকে না। তৎপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা মোতাবেক গ্রেফতারকৃত মনোরঞ্জন মন্ডল বাবু উক্ত গার্মেন্টস সে একজন সাব- কন্টাক্টরের কর্মী হিসেবে মার্চের ২য় সপ্তাহ হতে আসা যাওয়া শুরু করে। সে গার্মেন্টসের অন্যান্য কর্মী, নিরাপত্তা প্রহরী, পার্শ্ববর্তী দোকান ও অন্যান্য সূত্র হতে কৌশলে যাবতীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করে। অতঃপর চক্রটি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।

গ্রেফতারকৃতরা আরও জানায় যে, তাদের এপ্রিল এবং মে মাসের ডাকাতির পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কারণ এপ্রিল ২০২০ মাসের বেতন দেয়া হয়েছিল মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে এবং মে ২০২০ মাসের বেতন সংগ্রহ করা হয়েছিল পুলিশ স্কটের মাধ্যমে। অতঃপর তারা জুন ২০২০ এর বেতন সংগ্রহকে টার্গেট করে। তারা জানতে পারে যে, জুন ২০২০ মাসের বেতন সংগ্রহের সময় পুলিশ স্কট থাকবে না। এই তথ্য অনুযায়ী তারা ০৭ জুন ২০২০ তারিখে ডাকাতির মূল পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ঘটনার প্রায় ১২-১৫ দিন আগে গ্রেফতারকৃত মোঃ ঈসমাইল হোসেন মামুন, মোঃ জলিল এবং মনোরঞ্জন মন্ডল বাবু মাঠ পর্যায়ে রেকী করে ডাকাতির জন্য সুবিধাজনক বিভিন্ন স্থান নির্বাচন করে।

গ্রেফতারকৃতরা জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন মূল দলটি প্রথমে ৩টি মোটর সাইকেল যোগে একটি সুবিধাজনক স্থানে মিলিত হয়। মোটর যানের পেছনের আরোহীরা সকলে অস্ত্র বহন করেছিল। এছাড়া সাগর মাহমুদ একটি বড় হ্যামার সাথে নেয়। অন্যদিকে টাকা বহনের জন্য একটি প্রাইভেটকার জামগড়া নামক স্থানে অপেক্ষা করছিল। গ্রেফতারকৃত মনোরঞ্জন মন্ডল বাবু বর্ণিত গার্মেন্টস এর নিকটবর্তী স্থান থেকে হালনাগাদ তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করছিল। গ্রেফতারকৃত মনোরঞ্জন মন্ডল বাবু

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com