August 9, 2026, 10:30 am
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ায় আবারো মামলার আসামীদের বাড়িতে লুটপাটসহ ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। ওমান প্রবাসী আনোয়ার হোসেন হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সদর ইউনিয়নের মগকাটা ও বটতলিয়াপাড়া গ্রামে দফায় দফায় লুটপাট ও হামলার ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।
গত ১৪ দিনের ব্যবধানে একাধিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। মামলার বাদীপক্ষ ভাড়াটে লোকজনকে নিয়ে আসামীর বাড়িতে হানা দেয়। দফায় দফায় লুটপাট, ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় এলাকায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি দেখা দিয়েছে। পেকুয়া থানা পুলিশ কয়েক দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে পুলিশ স্থান ত্যাগ করার পর লুটপাটকারীরা ফের ভাংচুর ও লুটতরাজে লিপ্ত হচ্ছে। আসামীর পৃথক বাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় ১৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি আসামীদের কয়েকজন নিকটাত্মীয় ও স্বজনদের উপর বর্বর নির্যাতন ও হামলা চালায়। স্থানীয়রা আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের মগকাটা গ্রামে আসামীদের বাড়িতে লুটপাটের এ ঘটনা ঘটেছে।
এ দিকে সৃষ্ট ঘটনার আইনী সহায়তা পেতে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ পেকুয়া থানায় লিখিত এজাহার প্রেরন করেছেন। গত ৫ দিন আগে আক্রান্ত পরিবারের মহিলা সদস্য পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সরকারীঘোনা গ্রামের ফরহাদুল ইসলামের স্ত্রী আনার কলি (১৯) বাদী হয়ে ৭ জুন পেকুয়া থানায় এজাহার দায়ের করে।
পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, লিখিত এজাহার পেয়েছি। একজন অফিসারকে এর তদন্তভার ন্যস্ত করেছি। লুটপাটের ঘটনায় বাদী আনার কলি ৯ জনের নাম উল্লেখ অজ্ঞাতসহ ১৫/২০ জনকে অভিযুক্ত করে। আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলার বাদী পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী বটতলিয়াপাড়ার এলাহাদাদের ছেলে ফয়েজ আহমদকে লিখিত এজাহারে প্রধান আসামী করে। তবে থানায় লিখিত এজাহার প্রেরণের পর লুটপাট ও ভাংচুর আরও ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে।
এজাহার পাওয়ার ৩ দিন অতিবাহিত হয়েছে। সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়নি। অভিযুক্তরা অধিক ক্ষিপ্ত হয়ে এজাহার দায়েরের ১ দিন পর আবারো হত্যা মামলার আসামীদের বাড়িতে হানা দেয়। ৮ জুন পেকুয়া থানার পুলিশ ওই স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় শত শত নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে পুলিশকে বাড়ি লুটপাট ও ভাংচুরের সচিত্র বক্তব্য ও স্বাক্ষী উপস্থাপন করেন। দ্বিতীয় দফায় সন্ধ্যার দিকে পেকুয়া থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্সসহ হত্যা মামলার আসামীদের নিকটাত্মীয় আক্তার আহমদের বাড়ি পরিদর্শন করেন। হামলাকারীরা আক্তার আহমদের বাড়িতেও আক্রমন চালায়।
মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আক্তার আহমদকে পিটিয়ে আহত করে। এমনকি এক মহিলাকে আটকিয়ে একটি নন জুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে। এ ছাড়া উপজেলা আ‘লীগ সাধারন সম্পাদক আবুল কাসেমসহ দলীয় নেতা কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের ওই প্রতিনিধি টীম পরিদর্শনের সময় শত শত এলাকাবাসী লুটপাট ও ভাংচুরের বিষয়টি অবহিত করেন।
সুত্র জানায়, পৃথক হামলা ও লুটপাটের প্রেক্ষিতে পেকুয়া থানায় ফের অভিযোগ দেয় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ। তবে অভিযোগ দেওয়ায় হামলাকারীরা অধিক ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তারা ৮ জুন সকালে আবারো হত্যা মামলার আসামীদের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে হানা দিয়েছে। আক্তার আহমদকে রাস্তায় প্রাণনাশ চেষ্টা চালায়। তাকে ধাওয়া দেয়। প্রাণেভয়ে বৃদ্ধ আক্তার আহমদ বটতলিয়াপাড়ার সমাজপতি আবু বক্কর ছিদ্দিকের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। হামলাকারীরা তাকে খোঁজতে বটতলিয়াপাড়ার একাধিক বাড়িতে তল্লাশী চালায়।
খবর পেয়ে পেকুয়া থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌছেন। গত ১৪ দিনের ব্যবধানে হত্যা মামলার আসামীদের ৮/১০ টি বাড়ি লুটপাট হয়েছে। প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। সিএনজি, ধান, আসবাবপত্র, পানির মেশিন, সৌর বিদ্যুত, গরু ছাগল, স্বর্ণালংকার, কাপড় চোপড়, পুকুরের মাছসহ মালামাল কয়েক দফায় লুট করে। পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম জানান, এজাহার পেয়েছি। পুলিশ পাঠিয়েছি দু‘দফা। তদন্ত করা হচ্ছে।